ঢাকা     শনিবার   ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ২৪ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

হুয়াওয়ে আইসিটি ইনকিউবেটর বিজয়ী ৬ স্টার্টআপের নাম ঘোষণা

প্রকাশিত: ২১:৪৭, ১৯ অক্টোবর ২০২২  
হুয়াওয়ে আইসিটি ইনকিউবেটর বিজয়ী ৬ স্টার্টআপের নাম ঘোষণা

হুয়াওয়ে আইসিটি ইনকিউবেটর ২০২২ প্রোগ্রামের বিজয়ী হিসেবে ছয়টি স্টার্টআপের নাম ঘোষণা করেছে হুয়াওয়ে। বিজয়ী স্টার্টআপগুলো এ খাত সম্পর্কে আরও জানতে জন্য বিশ্বের অন্যান্য সফল স্টার্টআপের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পাবেন। এছাড়াও, পুরস্কার হিসেবে সিড মানিও পাবেন তারা।

বুধবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানীর র‌্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড এবং ইনোভেশন ডিজাইন অ্যান্ড এন্টারপ্রিনিউরশিপ একাডেমির (আইডিয়া) সহযোগিতায় এ অনুষ্ঠান আয়োজন করে হুয়াওয়ে।

এই প্রতিযোগিতায় ‘আইডিয়া স্টেজ’ ও ‘আর্লি স্টেজ’ – এই দু’টি গ্রুপ থেকেই তিন জন করে বিজয়ী নির্বাচিত করা হয়েছে। আইডিয়া স্টেজে বিজয়ী স্টার্টআপগুলো হচ্ছে: ইনসিউরকাউ (চ্যাম্পিয়ন), দুর্জয় ডিএসএস (প্রথম রানার্স আপ) ও রিল্যাক্সি (দ্বিতীয় রানার্স আপ)। আর্লি স্টেজে বিজয়ী স্টার্টআপগুলো হচ্ছে: জাহাজী লিমিটেড (চ্যাম্পিয়ন), পালকি (প্রথম রানার্স আপ) ও উইগ্রো টেকনোলোজিস লিমিটেড (দ্বিতীয় রানার্স আপ)।

চ্যাম্পিয়ন স্টার্টআপ পুরস্কার হিসেবে পাবে ৫ লাখ টাকা এবং ১ লাখ ২৫ হাজার মার্কিন ডলার সমমূল্যের হুয়াওয়ে ক্লাউড ক্রেডিট। অন্যদিকে প্রথম ও দ্বিতীয় রানার্স আপ পাবে যথাক্রমে ৩ লাখ ও ১ লাখ টাকা প্রাইজ মানি এবং ৮০ হাজার মার্কিন ডলার সমমূল্যের ক্লাউড ক্রেডিট। এছাড়াও, প্রত্যেক স্টার্টআপের একজন সহ-প্রতিষ্ঠাতা দেশের বাইরে সফল স্টার্টআপের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করা সুযোগ পাবেন।  

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থতি ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থতি ছিলেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ভিনসেন্ট চ্যাং, হুয়াওয়ে টেকনোলজিস (বাংলাদেশ) লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী প্যান জুনফেং, স্টার্টআপ বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সামি আহমেদ, আইসিটি বিভাগের বিসিসি’র প্রকল্প পরিচালক (যুগ্ম সচিব) মো. আলতাফ হোসেন।

অনুষ্ঠানে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘একটি স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান থেকে মাত্র ৩৫ বছরে হুয়াওয়ে আজকে বিশাল একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এ বিষয়টি স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অনুপ্রেরণা হতে পারে। আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের সুযোগ্য নেতৃত্বে চারটি স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে ২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের তরুণদের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দক্ষ করে গড়ে তুলতে আমরা বেশ কিছু ইনস্টিটিউট চালু করেছি, যা তাদের ভবিষ্যত উপযোগী দক্ষতা অর্জনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে আমার বিশ্বাস। আইসিটি বিভাগের সঙ্গে হুয়াওয়ে তিনটি চলমান প্রকল্পে সম্পৃক্ত রয়েছে। এজন্য হুয়াওয়েকে আমি ধন্যবাদ জানাই। আইসিটি ইনকিউবেটর-২০২২ এ অংশ নেয়া সকল অংশগ্রহণকারী ও বিজয়ীদের জন্য শুভকামনা।’

বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং বলেন, ‘চীন ও বাংলাদেশ সহযোগিতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে কাজ করে। ২০১০ সাল থেকে বারো বছর ধরে চীন বাংলাদেশের বৃহত্তম ব্যবসায়িক অংশীদার হিসেবে ভূমিকা রাখছে এবং এফডিআই-এও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। সাম্প্রতিক সময়ে, চীনের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশ অবকাঠামো, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে তাদের বিনিয়োগ বৃদ্ধি করেছে। এসব খাতের মধ্যে আইসিটি খাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সম্ভাবনাময়। আমি আত্মবিশ্বাসী, এ দুই দেশ আরও ভালোভাবে আইসিটি খাতে সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করতে পারবে এবং আমার মনে হয় চীন ও বাংলাদেশ উভয়ই এর সুফল পাবে।’ 

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ভিনসেন্ট চ্যাং, পিএইচ.ডি বলেন, ‘হুয়াওয়ের মতো বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান তরুণদের সত্যিকার অর্থেই ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হতে সহায়তা করছে, এটা দেখে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। আমার জানামতে, এই ইনকিউবেটর প্রোগ্রাম ছাড়াও হুয়াওয়ে দেশের তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নে অন্যান্য কর্মসূচি, যেমন: সিডস ফর দ্য ফিউচার, আইসিটি স্কিল কম্পিটিশন পরিচালনা করছে। পাশাপাশি, তরুণদের দক্ষতা বিকাশে হুয়াওয়ে আইসিটি একাডেমি গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটি দেশজুড়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে অংশীদারিত্ব করছে।’

হুয়াওয়ে টেকনোলজিস (বাংলাদেশ) লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী প্যান জুনফেং বলেন, ‘বিগত ২৩ বছর ধরে হুয়াওয়ে আইসিটি খাত, টেলিকম অপারেটর ও স্থানীয় অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশের তরুণদের ক্ষমতায়নে, প্রশিক্ষণে এবং তাদের জন্য অভাবনীয় সব সুযোগ তৈরিতে আমাদের ধারাবাহিক প্রচেষ্টারই অংশ এই হুয়াওয়ে আইসিটি ইনকিউবেটর প্রোগ্রাম। এ কর্মসূচিজুড়ে অংশগ্রহণকারীরা খাত বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে জানার সুযোগ পেয়েছেন এবং তাদের ধারণাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে ব্যবসা সম্পর্কিত জ্ঞান ও কারিগরি জ্ঞান অর্জন করেছেন। সকল বিজয়ীদের আমি অভিনন্দন জানাই। আমার বিশ্বাস, ভবিষ্যৎ পৃথিবীতে ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আসতে তাদের মধ্যে এই হুয়াওয়ে আইসিটি ইনকিউবেটর ভূমিকা রাখবে।’  

এ বছরের আইসিটি ইনকিউবেটর প্রোগ্রামের জন্য প্রায় ১৮০ জন অংশগ্রহণকারী আবেদন করেন। ‘আইডিয়া স্টেজ’ ও ‘আর্লি স্টেজ’ এই দুটি গ্রুপে ভাগ করে মোট ৬৮টি স্টার্টআপকে ইনকিউবেটর বুট ক্যাম্পে অংশগ্রহণের জন্য নির্বাচিত করা হয়। বুট ক্যাম্পে তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে, অংশগ্রহণকারীরা তাদের স্টার্টআপ সংক্রান্ত আইডিয়া (ধারণা) বিচারক প্যানেলের সামনে উপস্থাপন করেন। বিচারক প্যানেলের রায়ের ভিত্তিতে, উভয় পর্যায় থেকে মোট ২০টি স্টার্টআপকে চূড়ান্ত পর্যায়ের জন্য ফাইনালিস্ট হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। পরিশেষে, এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আইডিয়া স্টেজ থেকে ৩টি ও আর্লি স্টেজ থেকে ৩টি সহ মোট ছয়টি স্টার্টআপকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।

/ফিরোজ/

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়