RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     বুধবার   ২৭ জানুয়ারি ২০২১ ||  মাঘ ১৩ ১৪২৭ ||  ১২ জমাদিউস সানি ১৪৪২

পিএসএলে বাংলাদেশি ক্রিকেটার

রিফাত বিন জামাল || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১২:৫২, ২৪ নভেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৫:২৮, ২৪ নভেম্বর ২০২০
পিএসএলে বাংলাদেশি ক্রিকেটার

নিজেদের দেশে ক্রিকেট ফেরানোর উদ্যোগে ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথমবারের মতো ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা করে পাকিস্তান। যা সত্যিকারের রূপ পায় ২০১৬ সালে। বিভিন্ন দেশের ক্রিকেটারদের নিয়ে আয়োজিত পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) নামের সেই টুর্নামেন্ট শুরুতেই ঘরের মাঠে আয়োজন করতে ব্যর্থ হয় কর্তৃপক্ষ। যদিও দ্বিতীয় আসরের প্লে অফ থেকে দেশের মাটিতে জনপ্রিয় এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে সফল হয় পিএসএল কমিটি।

পিএসএলের প্রথম আসর থেকে বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা খেলে আসছে টুর্নামেন্টটি। ২০১৬ সালের প্রথম আসরেই চারজন টাইগার ডাক পান পিএসএল খেলার জন্য। যদিও মুস্তাফিজুর রহমানের সুরক্ষার কথা ভেবে তাকে অনাপত্তিপত্র দেওয়া হয়নি। তবে তামিম ইকবাল খেলেছিলেন পেশোয়ার জালমি এবং মুশফিকুর রহিম ও সাকিব আলো হাসান মাঠে নেমেছেন করাচি কিংসের হয়ে।

সেই আসরে করাচি কিংস ৮ ম্যাচে মাত্র দুই জয় নিয়েও প্লে অফে জায়গা করে নেয়। এক্ষেত্রে তাদের সৌভাগ্য ছিল লাহোর কালান্দার্সের সমান ৪ পয়েন্ট থাকলেও নেট রান রেটে এগিয়ে যায় তারা। যদিও প্লে অফের আগেই সাকিব ৮ ও মুশফিক ৩ ম্যাচ খেলে চলে আসেন। তামিমও গ্রুপ পর্বের ৬ ম্যাচ পরে দেশে ফিরেন। সেই আসরে সাকিব ও তামিম একে অপরের মুখোমুখিও হয়েছিলেন।

সাকিবের ৪ বল থেকে এক বাউন্ডারিতে ৮ রান করেছিলেন তামিম। ফ্লপ সাকিব সে ম্যাচে ২ ওভারে ২৬ রান দেন। এদিকে তামিম করেছিলেন ৩৫ রান। তামিম সে মৌসুমেই ছিলেন দুর্দান্ত, ৬ ইনিংসে করেন ২৬৮ রান। ছিলেন সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের তালিকায় পঞ্চম।

সাকিব ব্যাট হাতে প্রথম তিন ইনিংসে ৮৮ করার পরের পাঁচ ম্যাচে করেন মাত্র ৩৮ রান। বল হাতেও ছিলেন খরুচে, ৭.৯৫ ইকোনমিতে উইকেট নেন মাত্র ৩টি। মুশফিক সর্বোচ্চ ৩৩ রানের ইনিংসসহ তিন ম্যাচে খেলে করেন মোটে ৪৯ রান। 

প্রথমবারের মতো দ্বিতীয় আসরেও সুযোগ পান চার বাংলাদেশি। এবার অবশ্য সুযোগ পাওয়া তামিম, সাকিব, মাহমুদউল্লাহ, এনামুল বিজয় সবাই খেলেছিলেন। তবে এবার আর দুই বন্ধুর মোকাবিলা হল না। তামিমের সঙ্গে সাকিবও যোগ দিলেন পেশোয়ার জালমিতে। কোয়েটার স্কোয়াডে শুরু থেকে মাহমুদুল্লাহ থাকলেও মৌসুমের শেষ দিকে এলেন এনামুল। এই আসর দিয়ে পিএসএল আসে পাকিস্তানে।

২০১৭ সালে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে পিএসএলের ফাইনাল খেলেন এনামুল। যদিও ৯ বলে ৩ রান করে ব্যর্থ হয়ে ফেরেন তিনি। সেই আসরে পেশোয়ারের সাকিব ৪ ম্যাচে ১১২.৫ স্ট্রাইক রেটে করেন ৫৪ রান, সঙ্গে ৬.৪২ ইকোনমিতে নেন ৫ উইকেট। সর্বোচ্চ ৩০ রানের ইনিংস খেলেন কালান্দার্সের বিপক্ষে।

সেই আসরে ভিন্ন দলে খেলা মাহমুদুল্লাহকে সাকিব না খেললেও তামিম পেরেছেন। যদিও দুই ম্যাচে ১২ বল খেলে তাকে আউট হতেও হয়েছে একবার। মাহমুদুল্লাহর সে বলগুলিতে তামিম রান নিতে পেরেছেন মাত্র ৫।

তামিম ও মাহমুদুল্লাহ দুজনেই ৫ ম্যাচ খেলে ফিরে আসেন। সেবার তামিম করেছিলেন মোট ৯৪ রান। মাহমুদুল্লাহ ৭.৭৪ ইকোনমিতে ৭ উইকেটের পাশাপাশি করেছিলেন ৩ ইনিংসে ৩৪ রান। তামিম সেবার নিজের সর্বোচ্চ ৪৬ বলে ৬২ রান করার পর বৃষ্টিতে খেলা পণ্ড হয়। ফলে ৩২ বছর পর ফলাফলহীন ম্যাচ দেখে শারজাহ।

প্রথম আসরে স্কোয়াডে থেকে এবং পরের আসরে স্কোয়াডে না থেকে মুস্তাফিজের পিএসএল খেলা হয়নি। ২০১৮ সালে পিএসএলে নিজের অভিষেক আসরে এসে খেললেন ৫ ম্যাচ। লাহোর কালান্দার্সের মুস্তাফিজ সেবার বল করছেন স্বদেশি তামিমকে। তামিম কাটার মাস্টারের ৫ বল খেলে করতে পেরেছিলেন মাত্র ৪ রান। মুস্তাফিজ সেবার ৫ ম্যাচ খেলে ৬.৪৪ ইকোনমিতে ১৬ ওভার বল করে শিকার করেছিলেন ৪ উইকেট।

সেই আসরে তামিম, সাকিবের সঙ্গে প্রথমবারের মতো ডাক পান সাব্বির রহমানও। এছাড়াও পঞ্চম ক্রিকেটার হিসেবে ছিলেন মাহমুদউল্লাহও। এরমধ্যে একই ফ্র্যাঞ্চাইজি পেশোয়ার জালমিতে ছিলেন তিন টাইগার। তামিম, সাকিব ও সাব্বির। এরমধ্যে তামিম ৬ ম্যাচে তিনটি ত্রিশোর্ধ্ব ইনিংসের সহায়তায় ১০৪.৫ স্ট্রাইক রেটে ১৬১ রান করেছিলেন। সে আসরে সাকিব এক ম্যাচেও খেলেননি। সাব্বির ১ ম্যাচে মাঠে নেমে ১০০ স্ট্রাইক রেটে ১ চারে করেছিলেন ১১ রান।

তামিম সেবারই প্রথম প্লেঅফে খেলেণ, প্রতিপক্ষ ছিল মাহমুদুল্লাহর কোয়েটা। তামিমের করা ২৭ রানের ম্যাচে তার দল জিতলো ১ রানে। মাহমুদউল্লাহ সেই ম্যাচে ২ ওভারে ২০ রানে ১ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি ২০ বলে ১৯ রান করেন। এই ম্যাচ বাদে মাহমুদউল্লাহ খেলেন মাত্র একটি ম্যাচ। সেই ম্যাচে ১৪ রান করেন তিনি।

২০১৯ পিএসএলে কোনো বাংলাদেশিই অংশ নেননি আন্তর্জাতিক সূচি থাকার কারণে। এদিকে সর্বশেষ আসরের শুরুতেও কোনো বাংলাদেশি ক্রিকেটার ছিলেন না পিএসএলে। তবে করোনা আসায় চিত্রটা বদলে যায়। আট মাস পর প্লে অফ শুরু হলে তামিম ও মাহমুদউল্লাহকে দলে টানে কালান্দার্স ও মুলতান সুলতান্স। এরমধ্যে মাহমুদউল্লাহ করোনার কারণে যেতে না পারলেও তামিম যোগ দেন কালান্দার্স শিবিরে।

তামিমের দল লাহোর কালান্দার্স টানা দুই এলিমিনেটর জিতে চলে যায় ফাইনালে। ফাইনালে গিয়ে অবশ্য ছুঁতে পারে না সেই অধরা ট্রফিটা। তামিম তিন ম্যাচে করেন- ১৮, ৩০ ও ৩৫। তামিম এত মৌসুম খেললেও কোন মৌসুমেই স্ট্রাইক রেট ১২৩ এর উপরে নিতে পারেননি। এবারও প্রথম দুই ম্যাচে দুর্দান্ত শুরুতে সেটি পার করার সম্ভাবনা থাকলেও ফাইনালের ৩৮ বলে ৩৫ সেটি হতে দেয়নি। এই বার সাকিবকেও পেতে চায় একটি দল। তবে বাকিদের আপত্তির মুখে বাংলাদেশের সেরা তারকার খেলা হয়নি এবারের পিএসএল।

ঢাকা/কামরুল

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়