ঢাকা     শনিবার   ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ২৪ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

পাকিস্তানের রক্ষক, আর প্রতিপক্ষের গুপ্তঘাতক আসিফ

ক্রীড়া ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৪:২৮, ৩০ অক্টোবর ২০২১  
পাকিস্তানের রক্ষক, আর প্রতিপক্ষের গুপ্তঘাতক আসিফ

নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে মঙ্গলবার রাতে আসিফ আলী যা করেছেন, সেটা বেশিরভাগ ক্রিকেটার বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে করে থাকেন একবার। কিন্তু ৩০ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান একবার নয়, দুইবার করে উদ্ধার করলেন পাকিস্তানকে। তা-ও আবার অভিভূত স্টাইলে। বলা চলে ফেনোমেনাল, সিনেমার স্ক্রিপ্টেই এমন নায়কোচিত মুহূর্ত লেখা থাকে।

নিউ জিল্যান্ড বাধা টপকে আফগানিস্তানের বিপক্ষেও নায়ক আসিফ। ১২ বলে দরকার ছিল ২৪ রান। উত্তেজনায় নখ কামড়াচ্ছেন গ্যালারির দর্শকরা। শেষ ওভারের আগের ওভারে সব উত্তেজনা দূর করলেন চারটি ছয় মেরে। সবচেয়ে চোখে পড়ার মতো ব্যাপার হলো, শোয়েব মালিক ১৮তম ওভারে নাভিন উল হকের পঞ্চম বলে যখন আউট হলেন তখন কাছে গিয়ে তাকে কিছু একটা বলে প্যাভিলিয়নে ফিরলেন। নতুন ব্যাটসম্যান শাদাব খান শেষ বলটিতে সিঙ্গেল নিতে গেলেও তাকে ফিরে যেতে বললেন।

আরো পড়ুন:

কতটা আত্মবিশ্বাস হলে ওই সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ১ রানও নিতে চান না একজন ব্যাটসম্যান। ঠিক কাজই করেছিলেন আসিফ। শাদাবকে আর স্ট্রাইকিংয়ে আসতেই হলো না, গুনে গুনে চারটি ছক্কায় প্রয়োজনীয় ২৪ রান করে দলকে জেতালেন ডানহাতি ব্যাটসম্যান।

ম্যাচ শেষে আসিফ শাদাবকে সিঙ্গেল না দেওয়া প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমার ব্যাটিং প্রান্ত থেকে বাউন্ডারি ছোট ছিল তাই তাকে (শাদাব) বলেছিলাম ওভারটা আমি খেলব। আল্লাহকে ধন্যবাদ যে সফল হলাম আমরা। ওই সময় পরিস্থিতি যাচাই করেছি আমি, কী দরকার এবং কোন বোলাররা আছে এবং ফিল্ড সেটিং নিয়েও। আমি শোয়েবকে আমি বলেছিলাম নাভিন ভালো বল করছিল এবং এই প্রান্ত থেকে আমি এক ওভারে ২৫ রানও করতে পারি। আমার এমন পরিকল্পনাই ছিল।’

১৭তম ওভারের শেষ বলে অধিনায়ক বাবর আজম (৫১) আউট হলে নামেন আসিফ। পরের ওভারে একটি বলই খেলেন। তারপর খেললেন আর ৬ বল, যাতে তুলে নিলেন ২৪ রান। মাত্র ৭ বলে ২৫ রানের অপরাজিত ছিলেন ডানহাতি ব্যাটসম্যান। স্ট্রাইক রেট ৩৫৭.১৪।

আগের ম্যাচেও পাকিস্তানকে জেতাতে মালিকের সঙ্গে দারুণ পাওয়ার হিটিং ক্রিকেট খেলেন আসিফ। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ৮৭ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর নামেন তিনি। প্রথম বলেই চার। ১৭তম ওভারে টিম সাউদিকে টানা দুটি ছয় মারেন। ওই দিনও শেষ ওভারে ম্যাচ যেতে দেননি আসিফ। ১৯তম ওভারে তৃতীয় ছয় মেরে আগুন ব্যাটিংয়ে শারজা জ্বালিয়ে দেন। ১২ বলে ১ চার ও ৩ ছয়ে ২৭ রানে অপরাজিত ছিলেন। স্ট্রাইক রেট ২২৫।

বিশ্বকাপের তিন ম্যাচেই একাদশে, ভারতের বিপক্ষে ব্যাট করতে হয়নি। দুই ইনিংসে মাত্র ১৯ বল খেললেন আসিফ, করলেন ৫২ রান। দুই ম্যাচ শেষে স্ট্রাইক রেট ২৭৩.৬৮।

এমন নায়কোচিত ইনিংস দুটির পর এই বিশ্বকাপকে বলা হচ্ছে আসিফের কাছে দুঃখ প্রকাশ করার টুর্নামেন্ট। যখন দলে ডাক পেয়েছিলেন কতই না সমালোচনা শুনতে হয়েছিল তাকে। সমালোচিত হওয়ারই কথা, ২০২০ সালে তার গড় ছিল মাত্র ১০.৪৪ এবং ২০২১ সালে বিশ্বকাপে এসেছিলেন কেবল ১৩ রান করে। হঠাৎ করেই বিশ্বকাপে দুরন্ত খেলে সমালোচকদের মুখ বন্ধ করে দিলেন আসিফ। না ভুল বলা হলো, তার রহস্যময় ইনিংসে বিস্ময়ে সবার মুখ এখন বিশাল হা।

ঢাকা/ফাহিম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়