‘ভীষণ নিরাপদবোধ করছি’- পাকিস্তানের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কামিন্স
পাকিস্তানে পৌঁছানোর পর স্বস্তিতে কামিন্স
অবশেষে অপেক্ষার অবসান। অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট দল ২৪ বছরে প্রথম পাকিস্তান সফর সামনে রেখে রোববার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ইসলামাবাদে পৌঁছায়। প্যাট কামিন্সদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত ছিল ৪ হাজার পুলিশ সদস্য। বিশেষ বিমানে পাকিস্তানে পা রাখার পর নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা দিয়ে ক্রিকেট দলকে নেওয়া হয় হোটেলে। সেখান থেকে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক বললেন, ভীষণ নিরাপদবোধ করছেন তারা।
কামিন্স ও অস্ট্রেলিয়াকে স্বাগত জানিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড টুইটারে লেখে, ‘স্বাগতক প্যাট কামিন্স। আপনাকে ও অস্ট্রেলিয়ান দলকে এখানে পেয়ে দারুণ লাগছে।’ এই ঐতিহাসিক সফরের অংশ হওয়া ১৮ জনের অস্ট্রেলিয়া স্কোয়াডের অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের রোমাঞ্চ প্রকাশ করেছেন। ইসলামাবাদে জন্ম নেওয়া অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যান উসমান খাজা লিখেছেন, ‘অস্ট্রেলিয়া থেকে পাকিস্তান।’ সাবেক অধিনায়ক ও তারকা ব্যাটসম্যান স্টিভ স্মিথ পাকিস্তানে পৌঁছানোর পর অস্ট্রেলিয়ান দলের সঙ্গে একটি ছবি প্রকাশ করেছেন। পাকিস্তানের পতাকা দিয়ে ক্যাপশনে লেখা, ‘পৌঁছালাম।’
গণমাধ্যম জানিয়েছে, প্রায় চার হাজার পুলিশ সদস্য ও সামরিক সদস্য ইসলামাবাদে অবস্থিত টিম হোটেল ও রাওয়ালপিন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামের নিরাপত্তায় থাকবেন। আসন্ন টেস্টটি হতে যাচ্ছে অধিনায়ক হিসেবে কামিন্সের প্রথম সফর। আগামী ৪ মার্চ রাওয়ালপিন্ডিতে শুরু হবে তিন টেস্টের সিরিজ।
পাকিস্তানের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অভিভূত কামিন্স জানালেন, তাদের চিন্তা কেবল আসন্ন সিরিজ নিয়ে। অধিনায়ক হিসেবে অ্যাশেজ সিরিজ ৪-০ তে জিতে শুরু করা এই পেসার বলেছেন, ‘আমি ভীষণ নিরাপদবোধ করছি এবং পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড আমাদের সত্যিই দারুণ খেয়াল রাখছে। আসার পর থেকে অনেক নিরাপত্তা। প্লেন থেকে নেমে সরাসরি হোটেলে।’
কামিন্স আরো যোগ করেছেন, ‘এখানে সেটআপ দারুণ পেয়েছি আমরা। খেলা ও ট্রেনিং ছাড়া আমরা হোটেলেই থাকব। অনেক দেশেই আমরা গেছি, যেখানে হোটেলের বাইরে বেশি যাওয়া যেত না, সুতরাং আমরা অভ্যস্ত। ভালোই লাগছে এবং এত বেশি পেশাদাররা আমাদের ঘিরে রাখায় আমরা সৌভাগ্যবান।’
জৈব নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও তৃপ্তির কথা বললেন অজি অধিনায়ক, ‘এখানে আসার আগে আমরা যেসব বিষয় নিয়ে সত্যিই চিন্তিত ছিলাম তা শুধু নিরাপত্তা নয়, জৈব নিরাপত্তা নিয়েও। প্রত্যেকেই দারুণ কাজ করেছে। সুতরাং আমরা এখন কেবল ক্রিকেট নিয়ে ভাবতে পারি। ২৪ বছরে প্রথম সফর সত্যিই উপভোগ্য হতে যাচ্ছে।’
অস্ট্রেলিয়ার খেলোয়াড়দের এখন আইসোলেশনে থাকতে হবে ২৪ ঘণ্টার জন্য। করোনা রিপোর্টের ভিত্তিতে সোমবার থেকে শুরু অনুশীলন।
১৯৯৮ সালে শেষবার পাকিস্তানে এসে মার্ক টেলরের মহাকাব্যিক ট্রিপল সেঞ্চুরিতে ১-০ তে টেস্ট সিরিজ জিতেছিল অস্ট্রেলিয়া। ওয়ানডে সিরিজও ৩-০ তে নিশ্চিত করে তারা। দুই যুগে অনেক সেরা খেলোয়াড়রা পাকিস্তানে খেলতে পারেননি। সেক্ষেত্রে কামিন্স নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছেন, ‘একটি পুরো প্রজন্ম এখানে কোনো ক্রিকেট খেলার সুযোগ পায়নি, তাই এখানে আসতে পেরে আমরা সত্যিই নিজেদের ভাগ্যবান মনে করছি। আমি মনে করি পাকিস্তানে ধীরে ধীরে ক্রিকেট বাড়ছে। জর্জ বেইলি, আমাদের নির্বাচক, এখানে এসে খেলেছিল কয়েক বছর আগে। পাকিস্তান সুপার লিগও অনেক সফল হয়েছে। আমরা ভাগ্যবান যে তারা অস্ট্রেলিয়ায় খেলতে এসেছিল এবং আমরা সেটার ফিরতি সুবিধা পাব।’
পাকিস্তানে জন্ম নেওয়া অস্ট্রেলিয়ান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ফাওয়াদ আহমেদ স্পিন বোলিং পরামর্শক হিসেবে অস্ট্রেলিয়ান দলে। লাহোর কালান্দার্সের সঙ্গে পিএসএল খেলেছেন তিনি। তার অভিজ্ঞতা দারুণ কাজে দিবে বিশ্বাস কামিন্সের।
ঢাকা/ফাহিম