তামিমের চোখে মিরাজও ম্যান অব দ্য ম্যাচ
ক্রীড়া প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম
ব্যাট হাতে সর্বোচ্চ ৭৭ রান করে ম্যাচসেরা হয়েছেন সাকিব আল হাসান। কিন্তু জয়ে বোলারদের অবদান যে কম ছিল না সেটি সন্দেহাতীত। বিশেষ করে মেহেদী হাসান মিরাজ; যার কথা না বললেই নয়। দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যানরা যখন থিতু হয়ে চোখ রাঙানি দিচ্ছিলেন তিনি আসেন ত্রাতা হয়ে। চার-চারটি উইকেট নিয়ে আদতে বাংলাদেশের জয়ের গল্প লিখে ফেললেন মিরাজ। তাইতো সাকিবের সঙ্গে মিরাজকেও ম্যাচসেরা মনে করছেন অধিনায়ক তামিম ইকবাল।
শুক্রবার (১৮ মার্চ) সেঞ্চুরিয়নে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচশেষে জয়ের প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে অকপটে বলে ফেললেন লাল সবুজের দলনেতা।
তামিম বলেন, ‘আমি খুব খুশি যে আত্মবিশ্বাসটা তার মধ্যে আছে। এমন চাপের মধ্যে ডানহাতির সামনে ছোট বাউন্ডারিতে বোলিং করা, উইকেট এনে দেওয়া... আমার মতে, সেও আমার ম্যান অব দ্য ম্যাচ।’
অথচ মিরাজের পথচলাটা সহজ ছিল না। প্রথম তিন ওভারে দেন ২৫। চতুর্থ ওভারে এসে এক ছয় এক চার হজম করে দেন ১৩। চার ৩৮ রান দেওয়া মিরাজকে যে কোনো অধিনায়কেরই বোলিংয়ে নিয়ে আসতে ভয় পাওয়ার কথা। তাই হয়তো মিরাজ আগ বাড়িয়েই চ্যালেঞ্জটা নিলেন। নিজেই তামিমকে গিয়ে বলেছেন তাকে বোলিং দিতে, ম্যাচের মোমেন্টাম পরিবর্তন করে দেবেন তিনি। তামিমও বিশ্বাস রাখলেন। আর পরের গল্পটা সবার জানা। বাকি ৫ ওভারে ২৩ রান দিয়ে নেন ৪ উইকেট। তার মধ্যে এক ওভারে জোড়া উইকেট ও কিলার মিলারের উইকেটও আছে।
মিরাজের বল চাওয়া নিয়ে তামিম বলেন, ‘আমি মনে করি, সব দলে মিরাজের মতো ক্যারেক্টার প্রয়োজন আছে। কারণ প্রথম ৪ ওভারে ৪০ রান দেওয়ার পর সে আমার কাছে এসে বলে, আমাকে বল দিন, আমি খেলা বদলে দিবো। সে খুবই আত্মবিশ্বাসী ছিল। এটি অধিনায়কের কাজ সহজ করে দেয়, যখন আপনার খেলোয়াড়রা নিজেদের ওপর আত্মবিশ্বাসী থাকে। সবসময় হয়তো আমাদের পক্ষে আসবে না, কখনও কখনও আমাদের বিপক্ষেও যেতে পারে।’
বাংলাদেশ এই ম্যাচে টস হেরে আগে ব্যাটিং করে ৭ উইকেটে ৩১৪ রান করে। যা দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে সর্বোচ্চ। রান তাড়া করতে নেমে ৪৮.৫ ওভারে অলআউট হয় দক্ষিণ আফ্রিকা। ৩৮ রানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো প্রোটিয়াদের মাটিতে জয়ের চিত্রনাট্য লেখে সফরকারীরা।
তামিম বলেন, ‘হ্যাঁ অবশ্যই এটি অনেক বড় জয় আমাদের জন্য। দক্ষিণ আফ্রিকায় (দ্বিপাক্ষিক সিরিজে) আগে কখনও জিতিনি, তাই এটি বিশেষ জয়। ছেলেদের ওপর অনেক গর্বিত, সবাই যেভাবে খেলেছে।’
ঢাকা/রিয়াদ/মাসুদ