‘পরিকল্পনা নিয়েই এসেছেন হাথুরুসিংহে’
ক্রীড়া প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম
২০১৭ সালে বাংলাদেশের চাকরি ছেড়ে চলে যাওয়ার পর একবার এসেছিলেন চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। জিম্বাবুয়ে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজে হেড কোচ হয়ে নিজ দেশকে প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। ওই সফরে বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কার সঙ্গে দুটি টেস্টও খেলেছিল। এবার হাথুরুসিংহের আসাটা আবার ভিন্ন।
বাংলাদেশ ক্রিকেটে দ্বিতীয় দফায় কোচ হয়ে ফিরেছেন। তার প্রথম অধ্যায়ে বাংলাদেশ বেশ কিছু বড় সাফল্য পেয়েছিল। ভারত, পাকিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে প্রথমবার ওয়ানডে সিরিজে হারিয়েছে। ২০১৫ সালে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ প্রথমবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল। ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে খেলেছিল সেমিফাইনাল। এছাড়া অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কা ও ইংল্যান্ডের মতো বড় দলের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জিতেছিল।
তার হাত ধরে বদলে যাওয়া বাংলাদেশ এখন বিশ্ব ক্রিকেটে অন্যতম পরাশক্তি। তবে সময় বদলেছে। বেড়েছে প্রত্যাশা। সামনেই ২০২৩ বিশ্বকাপ। যা সাকিব, তামিমদের শেষ বিশ্বকাপ হতে পারে। তাদের নিয়ে ভালো কিছু করার চ্যালেঞ্জ হাথুরুসিংহের সামনে। এ দলের ক্রিকেটার কাজী নুরুল হাসান সোহানও জানালেন, পরিকল্পনা নিয়েই হাথুরুসিংহে দায়িত্ব গ্রহণ করতে এসেছেন। সেসব পরিকল্পনা কি তা নিয়ে কোনো ধারণা দিতে পারলেন না।
মিরপুরে সোহান বলেছেন, ‘ও যেটা বলল, ওর একটা পরিকল্পনা আছে। ওই পরিকল্পনা অনুযায়ী আসলে আগাচ্ছে।’ হাথুরুসিংহের পরিকল্পনায় পূর্ণ আস্থাও দেখালে সোহান, ‘পরিকল্পনা অনুযায়ী হাথুরুর পরিকল্পনা ভালো। পরিকল্পনামাপিক ও খুব ভালো এবং টেকনিক্যাল যে জিনিসগুলো আছে ও ওইভাবে হোম ওয়ার্ক করেই আসছে। আমার কাছে মনে হয় বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য ভালো কিছুই হবে।’
পুরোনো অনেককেই পেয়েছেন হাথুরুসিংহে। তামিম ইকবাল, তাসকিন আহমেদ, এনামুল হক বিজয়, নুরুল হাসান সোহান, তাইজুল ইসলামের সঙ্গে প্রথম দিনই সাক্ষাৎ হয়েছে তারা। সঙ্গে নতুন করে ইবাদত হোসেন, আফিফ হোসেন, ইয়াসির আলি রাব্বি, মাহমুদুল হাসান জয়, শরিফুল ইসলাম, তৌহিদ হৃদয়দের সঙ্গে পরিচিত হয়েছেন। নতুন পুরোনো মিলিয়ে কাজের ভালো পরিবেশ হারুথুসিংহে পাবেন বলে বিশ্বাস করেন সোহান, ‘ও প্রথম যেখানে এসেছিল এবং যেখানে শেষ করছে তখন থেকে অনেক কিছু পরিবর্তন আছে। আমার কাছে মনে হয় যে বেশিরভাগই হয়তো ওর পরিচিত। একজন দু’জন বাদে। সেহেতু কাজ করতেও বেশি সুবিধা হবে, যেহেতু বিসিবিও তাকে নিয়ে এসেছে।’
হাথুরুসিংহের থেকে যে প্রত্যাশা বেশি তা জানাতে অবশ্য পিছু পা হননি সোহান, ‘দলের যে অবস্থায় আছে, সবাই এখন অনেকদিন ধরে ক্রিকেট খেলছে এবং ফল আরও ভালো হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তাকে ঘিরে সবার প্রত্যাশা অনেক বেশি থাকবে। ওয়ানডেতে আমরা টি-টোয়েন্টি ও টেস্ট থেকে ভালো এবং এটা আমাদের প্রতিটি খেলোয়াড়ের সেরা সংস্করণ। অবশ্যই আশা করব সবাই যেন সবার পারফর্ম করতে পারে।’
‘৩-৪ বছর আগে বাংলাদেশ জায়গায় ছিল, আস্তে আস্তে এখন আগাচ্ছে। এখন অনেক পারফর্মার আছে। তার সময় অনেকেই নতুন ছিল, এখন হয়তো অনেক দিন ধরে ক্রিকেট খেলছে, অভিজ্ঞতাটাও আছে। দল হিসেবে, খেলোয়াড় হিসেবে আমার কাছে মনে হয় যে অবশ্যই উন্নতি করার অনেক জায়গায় আছে এবং সে জিনিসটা আস্তে আস্তে করছে। ফল ভালো হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।’
ইয়াসিন/আমিনুল