ঢাকা     শনিবার   ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ||  বৈশাখ ১২ ১৪৩৩ || ৮ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

মিশন ২০২৮-এর পথে লিটনের ‘গোছানো সংসার’

ইয়াসিন হাসান || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২১:৪৪, ২৫ এপ্রিল ২০২৬   আপডেট: ২১:৪৬, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
মিশন ২০২৮-এর পথে লিটনের ‘গোছানো সংসার’

আব্দুল গাফফার সাকলাইনের জন্য দিনটি ছিল বিশেষ। জাতীয় দলে একেবারেই নতুন মুখ। তাই শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ক্যামেরার সব লেন্স তাকিয়েই ছিল তার দিকে। আর প্রথম দিনটিকেই স্মরণীয় করে তুললেন সতীর্থরা।

ইয়র্কার গিয়ে আঘাত হানতেই স্টাম্প ঘেঁষা বুটে, মুহূর্তেই ফেটে পড়ে উচ্ছ্বাস। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর আদলে “সিউউউ” উদযাপনে মেতে ওঠেন সাকলাইন। শামীম পাটোয়ারী দৌড়ে এসে তাকে জড়িয়ে ধরেন, কোলে উঠে যান। মাহেদী হাসান যোগ দেন সেই আনন্দে। আম্পায়ারের ভূমিকায় থাকা ম‌্যানেজার নাফিস ইকবাল হাত ছড়িয়ে হাসিতে শামিল হন। হেড কোচ ফিল সিমন্সের মুখে তখন প্রশস্ত হাসি। পুরো দৃশ্যটাই যেন এক পরিবারের উচ্ছ্বাস।

পেসারদের ইয়র্কার চ্যালেঞ্জ জিতে নেয় সাকলাইনের দল। প্রস্তুতির শেষে এমন দৃশ্যই বলে দেয় বাংলাদেশ দলের ড্রেসিংরুমে এখন ইতিবাচকতার হাওয়া বইছে। যার বড় অংশের কৃতিত্ব অধিনায়ক লিটন কুমার দাসের। কারণ তিনি দলটিকে গড়ে তুলেছেন এক ‘গোছানো সংসার’ হিসেবে।

অধিনায়কত্ব পাওয়ার পর থেকেই লিটন দলটিকে পরিবারের রূপ দিয়েছেন। কখনো শাসন, কখনো আগলে রাখা—সব মিলিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন শৃঙ্খলাবদ্ধ এক ইউনিট। যেখানে বিশৃঙ্খলার কোনো স্থান নেই। লক্ষ্য ছিল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, লাল-সবুজের পতাকা উড়ানো, প্রমাণ করা এই ফরম্যাটেও বাংলাদেশ অভাবনীয় কিছু করে দিতে পারেন। 

তবে সেই পরিকল্পনায় ছেদ পড়ে সরকারের ‘বিতর্কিত’ সিদ্ধান্তে। বাংলাদেশ যেতে পারে না বিশ্বকাপে। খেলতে পারেননি বিশ্বকাপে। এরপর দীর্ঘ অপেক্ষা। অবশেষে পাঁচ মাস পর ফিরছে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট। সোমবার চট্টগ্রামে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আবার মাঠে নামছে বাংলাদেশ। একই ভেন্যুতে গত বছরের ২ ডিসেম্বর শেষ ম্যাচ খেলেছিল দলটি।

এখন প্রশ্ন, নতুন পথচলার চ্যালেঞ্জ কী? উত্তর মিলবে সময়ের সঙ্গে। তবে সামনে লক্ষ্য স্পষ্ট, ২০২৮ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। বিসিবি ইতোমধ্যে সেই লক্ষ্য সামনে রেখে লিটনকে অধিনায়কত্বে বহাল রেখেছে। বিশ্বকাপে অংশগ্রহণও নিশ্চিত। এখন লক্ষ্য একটাই, অস্ট্রেলিয়া ও নিউ জিল্যান্ডের মাটিতে সর্বোচ্চ সাফল্য অর্জন।

পরিসংখ্যান বলছে, গত বছর টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স ছিল উল্লেখযোগ্য। ৩০ ম্যাচে ১৫ জয় ও ১৪ হারে বছর শেষ করে দলটি। জয়-পরাজয়ের অনুপাত ১.০৭১, গড় ২৩.৩২। যা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম সেরা।

দীর্ঘ বিরতির পর নতুন করে শুরু হচ্ছে লিটনের ‘সংসার’। এই সিরিজের আগেই দল নির্বাচনে ভবিষ্যতের আভাস মিলেছে। অভিজ্ঞ নাহিদ রানা, মোস্তাফিজুর রহমান ও তাসকিন আহমেদকে বিশ্রামে রেখে সুযোগ দেওয়া হয়েছে তরুণ সাকলাইন ও রিপন মন্ডলকে।

ফলে সামনে তৈরি হচ্ছে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ। শুরুটা পেসারদের দিয়ে হলেও তা ছড়িয়ে যেতে পারে ব‌্যাটসম‌্যানদের মধ‌্যেও। এছাড়া একগাদা স্পিনার তো বর্তমান স্কোয়াডেই আছে। সুস্থ এই প্রতিযোগিতাই শেষ পর্যন্ত এগিয়ে নেবে বাংলাদেশ ক্রিকেটকে।

ঢাকা/ইয়াসিন

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়