ঢাকা     শনিবার   ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ||  বৈশাখ ১২ ১৪৩৩ || ৮ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

গাজার শিশুরা যে কারণে কথা বলার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২০:১৪, ২৫ এপ্রিল ২০২৬  
গাজার শিশুরা যে কারণে কথা বলার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে

বাড়ির কাছে তীব্র বোমাবর্ষণের পর পাঁচ বছর বয়সী জাদ জোহুদ হঠাৎ কথা বলার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। সে একা নয়, গাজার অনেক শিশুর অবস্থা এখন জাদের মতো। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, যুদ্ধজনিত আঘাত বা মানসিক আঘাতের কারণে কথা বলতে অক্ষম শিশুর সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে।

কারো কারো ক্ষেত্রে এর কারণ শারীরিক – যেমন মাথায় আঘাত, স্নায়বিক ক্ষতি বা বিস্ফোরণের আঘাত। আবার অন্যদের ক্ষেত্রে কোনো দৃশ্যমান ক্ষত থাকে না। বারবার সহিংসতার শিকার হওয়ার ফলেই তাদের এই নীরবতা নেমে আসে, যা তাদের উপলব্ধি বা যোগাযোগের ক্ষমতাকে ছাপিয়ে যায়।

আরো পড়ুন:

শিশু মনোচিকিৎসক ক্যাটরিন গ্লাটজ ব্রুবাক, যিনি ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস-এর সাথে গাজায় দুবার কাজ করেছেন, তিনি এটিকে ‘নীরব যন্ত্রণা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এটি প্রায়শই ধ্বংসযজ্ঞের ব্যাপকতার আড়ালে লুকিয়ে থাকে।

গাজা শহরের হামাদ হাসপাতালে চিকিৎসকরা বলছেন, শিশুদের মধ্যে কথা বলার ক্ষমতা হারানোর ঘটনা বাড়ছে।

হাসপাতালের স্পিচ বিভাগের প্রধান ডা. মুসা আল-খোরতি আল-জাজিরাকে বলেছেন, কিছু ক্ষেত্রে, ‘একটি শিশু সম্পূর্ণরূপে কথা বলার ক্ষমতা হারাতে পারে।’

ঘটনাগুলো ভিন্ন ভিন্ন হলেও, অনেক ক্ষেত্রেই একই ধরনের ধাঁচ দেখা যায়: সহিংসতা বা আঘাতের পর হঠাৎ কথা বলার ক্ষমতা হারানো।

পাঁচ বছর বয়সী জাদের আগে কথা বলতে কোনো সমস্যা ছিল না। কিন্তু বাড়ির কাছে একটি বোমা হামলার পর, সে ঘুম থেকে উঠে কথা বলতে পারছিল না- কোনো শব্দ বা কথা তৈরি করতে পারছিল না বলে জানান জাদের মা।

জাদ একা নয়। চার বছর বয়সী লুসিন তাম্বোরা তার বাড়ির তৃতীয় তলা থেকে পড়ে যাওয়ার পর তার কণ্ঠস্বর হারায়, যখন ইসরায়েলি বিমান হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি সিঁড়ি ভেঙে পড়েছিল।

লুসিনের মা নেহাল তাম্বোরা আল জাজিরাকে বলেন, “পড়ে যাওয়ার ফলে তার কথা বলার ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তার হাত ও পায়ে আংশিক পক্ষাঘাত হয়েছে। তার হাত ও পা সেরে উঠেছে, কিন্তু কথা বলতে এখনো সমস্যা হয়। আমরা এর জন্য তার চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছি।”

ডাক্তাররা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, নিয়মিত যত্ন ছাড়া এই অবস্থাগুলো শিশুদের বিকাশের ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে যখন তা মানসিক আঘাতের সাথে যুক্ত থাকে।
 

ঢাকা/শাহেদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়