সোধির চোখে রিশাদ টেস্টের জন্য হবেন ‘বিরল’
ক্যারিয়ারে ৫২ টেস্টে ১৮৫ উইকেট তার। পাকিস্তান ক্রিকেট দলের স্বর্ণসময়ের লেগ স্পিনার ছিলেন। ছিলেন দলের মধ্যমনি। মুশতাক আহমেদ জানেন টেস্ট ক্রিকেটে সফলতার শেখরে যেতে হলে কতোটা পরিশ্রম করতে হয়। কতোটা ধারালো হতে হয়। অযুত-নিযুত ঘামবিন্দু ঝরাতে হয়।
বোলিংয়ে ধারালো প্রসঙ্গটা যখন আসেন, তখন লেগ স্পিনারের জন্য ধারালো মানেই গুগলি। লেগ স্পিনারদের লেগ ব্রেক বরাবরই মায়াবি। কিন্তু গুগলি চোখকে ধাঁধিয়ে দেয়। মুশতাক সেই লেগ ব্রেক দিতে পারতেন বলে কয়ে। কতো বাঘা বাঘা ব্যাটসম্যানকেই এই লেগ ব্রেকে করতেন বিভ্রান্ত।
বাংলাদেশের লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেনকে সেই লেগ ব্রেকে ধারালো করে তুলছেন মুশতাক। চট্টগ্রামে গুরু-শিষ্যর একান্ত সময় যাচ্ছে এই লেগ ব্রেক প্রশিক্ষণেই। মুশতাক জানালেন, লেগ ব্রেকে উন্নতি করতে পারলে রিশাদ হয়ে উঠবেন আরও ক্ষুরধার,
“নানা ধরনের বৈচিত্র্য, ক্রিজ ব্যবহার করা নিয়ে কাজ। তার গুগলির জন্যও… তার গুগলির আরও কিছুটা উন্নতি করতে হবে। যেমন গুগলির অ্যাঙ্গল, ডানহাতিদের জন্য কোন দিকে বল করতে হবে, স্টাম্পের কাছ ঘেষে নাকি স্টাম্পের দূর থেকে। মৌলিকভাবে শক্তিশালী, ‘রিপিটেবল’ অ্যাকশন দিয়ে ক্রিজ ব্যবহার করা… সবসময় যে কথাটি আমি ব্যবহার করি। আমি মনে করি, একজন লেগ স্পিনারের জন্য এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।।”
রিশাদ বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা একজন লেগ স্পিনার।যার ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেটেও রয়েছে চাহিদা। কিন্তু জাতীয় দলের হয়ে পারফরম্যান্সের আঁধারে রয়েছেন তিনি। টিম কম্বিনেশনের কারণে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ টি-টোয়েন্টিতে তাকে বাদ পড়তেও হয়েছিল। তার জায়গায় খেলানো হয়েছিল বাঁহাতি স্পিনার তানভীরকে। তবে রিশাদকে বাদ দেওয়া হয়নি বলেই জানালেন মুশতাক,
‘‘আমার মনে হয়, এটা তার (রিশাদের) অগ্রগতিরই একটা অংশ। মাঝেমধ্যে বাইরে বসে থাকলে মানসিকতা কেমন থাকে! তার মনকে শক্তিশালী করে তোলা কোচ হিসেবে আমাদের দায়িত্ব। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মানেই হলো দারুণ টেম্পারমেন্ট থাকা। অন্য যেকোনো কিছুর চেয়ে বেশি এটা মনস্তাত্ত্বিক খেলা। কারণ স্কিল কাউকে এখানে নিয়ে আসতে পারে, কিন্তু এখানে মানসিকতা দিয়ে টিকে থাকতে হবে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে টিকে থাকতে হলে শক্তিশালী মানসিকতা থাকতে হবে।”
উইকেট পাওয়া-না পাওয়া, রান দেওয়া না দেওয়া সব কিছুই ভালো সময়-খারাপ সময়ের ওপর নির্ভর করে। খেলোয়াড়দের ওপর নির্ভর করে তার পরিশ্রম, একাগ্রতা মুশতাক সেসবই মনে করিয়ে দিলেন, ‘‘আপনারা জানেন, লেগ স্পিনাররা অনেক সময় খরুচে হতে পারে। তাই আমরা তার অ্যাকশন নিয়ে কাজ করতে চাই, যাতে সে নিখুঁত হতে পারে। সে যেন শুধু ভালো ডেলিভারি করার চেয়ে ভালো ওভার করতে পারে। তার অনেক উন্নতি হয়েছেও।”
এদিকে টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে আসা নিউ জিল্যান্ডের লেগ স্পিনার ইশ সোধি রিশাদের বোলিংয়ে মুগ্ধ। তাকে সাদা পোশাকের ক্রিকেটে রিশাদ হতে পারে বিরল, এমন মন্তব্য করেছেন, ‘‘সে দারুণ সম্ভাবনাময় ক্রিকেটার, বলে অনেক ঘোরাতে পারে। আমার মনে হয়, তার ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল এবং আশা করি সে টেস্ট ক্রিকেটেও সুযোগ পাবে। টেস্ট ক্রিকেটে আবার লেগ স্পিনার খেলতে দেখাটা সত্যিই দারুণ ব্যাপার হবে, আজকাল বেশ বিরল, যা তাই না? সেই স্কিল তার অবশ্যই আছে।”
রিশাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ হয় বলেও জানালেন সোধি, ‘‘মাঝেমধ্যে তাকে ইনস্টাগ্রামে বার্তা পাঠাই। তার সঙ্গে যোগাযোগ থাকাটা বেশ দারুণ ব্যাপার। শুধু যে ক্রিকেট নিয়েই কথা হয়েছে, তা নয়। মাঝেমধ্যেই তার সঙ্গে কথা বলি। এই সিরিজ চলাকালীন সম্ভবত দেখা হবে এবং সে কেমন খেলছে, এই পরিস্থিতিতে কোনটা তার জন্য ভালো কাজ করছে, ইত্যাদি বিষয়ে একটা ধারণা নেব। সে খুবই প্রতিভাবান বোলার এবং আমার বিশ্বাস সে দিন দিন আরও ভালো হতে থাকবে। আন্তর্জাতিক এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি উভয় পর্যায়েই তার শুরুটা দুর্দান্ত হয়েছে এবং আমার মনে হয়, দিন দিন আরও ভালো হতেই থাকবে।”
ঢাকা/ইয়াসিন
২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু ১১, আক্রান্ত ১০৫৮