চিন্তার প্রহর পেরিয়ে আনন্দযজ্ঞ
ক্রীড়া প্রতিবেদক, সিলেট থেকে || রাইজিংবিডি.কম
ক্যারিয়ারের ছয় সেঞ্চুরির তিনটিই পাকিস্তানের বিপক্ষে। লিটনের জন্য পাকিস্তান নিশ্চিতভাবেই সহজ প্রতিপক্ষ হয়ে যাওয়ার কথা। তবে লিটন তা মানতে চাইলেন না, ‘‘নাহ। এরকম কিছু না। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সব রান কষ্ট করেই করতে হয়।’’
লিটন আজ সেই একই কষ্টটা করেছেন দৃঢ়চিত্তে। অজুতনিযুত ঘাম ঝরিয়ে। দল যখন প্রবল চাপে তখন দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে লেজের ব্যাটসম্যানদের সঙ্গে নিয়ে লড়াই করেছেন। ১১৬ রানে ৬ উইকেট হারানো বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস শেষ করে ২৭৮ রান নিয়ে। যার পুরো কৃতিত্ব লিটনের। তার একার ব্যাট থেকেই আসে ১২৬ রান।
সেঞ্চুরিতে নিজের ইনিংস রাঙিয়েছেন দারুণভাবে। ১৫৯ বলে ১৬ চার ও ২ ছক্কায় করেছেন এই রান। ঠিকঠাক লড়াই করে দলকে উদ্ধার করলেও সেঞ্চুরি হবে কিনা তা নিয়ে দুশ্চিন্তা কাজ করছিল তার। শেষ দিকে অপেক্ষা বাড়ছিল। হচ্ছিল নাটকীয়তা।
৯৩ রানে থেকে খুররাম শাহজাদকে ফ্লিক করে চার মারেন লিটন। ৯৭ রানে থেকে ওভারের দ্বিতীয় বলে নেন ১ রান। ওভারের বাকি চার বলে তখন শরিফুলের টিকে থাকার লড়াই। কোনো মতে তা পার করে দেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।
পরের ওভারে সাজিদ খানের বল ড্রাইভ করে কাভারে পাঠিয়েছিলেন। দৌড়ে ২ রান নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ফিল্ডারের হাতের নাগালে বল থাকায় ১ রানে সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাকে। ৯৯ রানে নট আউট লিটন। আবার তার অপেক্ষা বাড়ে।
শরিফুল দ্বিতীয় বলে আত্মবিশ্বাসী শটে চার পেলেও তৃতীয় বলে আম্পায়ার তাকে এলবিডব্লিউ দেন। রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান শরিফুল। এরপর ওভারের বাকি তিন বল কোনোমতে কাটিয়ে দেন। এরপর ড্রিংকস ব্রেক। লিটনের অপেক্ষা আবার বাড়ে। বাড়ে চিন্তা। সেঞ্চুরি হবে তো? ৫ মিনিটের অপেক্ষার পর লিটন পরের ওভারের দ্বিতীয় বলে চার মেরে পৌঁছে যায় সেঞ্চুরির স্বর্গে।
ওই সময়টা নিয়ে তিনি বলেছেন, ‘‘আমি অনেক চিন্তায় ছিলাম। বিশেষ করে যখন শরিফুলের পায়ে লাগছে আর কি। আমি ওকে বারবার বলতেছিলাম যে সামনে খেলার জন্য কারণ ও তো অনেক লম্বা, সো ব্যাক অব লেংথে গেলে এই বলটা পায়ে লাগার চান্স বেশি। কিন্তু ও খুবই ভালো সাপোর্ট দিয়েছে।’’
নিজের ইনিংস গড়তে সময় নিয়েছেন লিটন। গিয়েই শট খেলেননি। প্রথম রানের জন্য অপেক্ষা করেছেন নবম বল পর্যন্ত। প্রথম বাউন্ডারির জন্য অপেক্ষা করেছেন ১৯ বল। ক্রিজে গিয়ে মিরাজকে কিছু সময়ের জন্য পেয়েছিলেন। মিরাজ আউট হলে বাকিটা পথ তাইজুল, তাসকিন ও শরিফুলকে নিয়ে কাটিয়ে দেন। ৫০ রানে পৌঁছান ৯৩ বলে। পরের ৫০ রানের জন্য খেলেন মাত্র ৪২ বল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি অনুযায়ী এগিয়ে যাওয়া, খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসার কাজটা করেছেন।
নিজের ইনিংস নিয়ে তার ব্যাখ্য, ‘‘আমি যখন উইকেটে নামি তখন উইকেটটা খুব সহজ ছিল না। কিন্তু যত সময় গেছে উইকেটটা ব্যাটিংয়ের জন্য ভালো হওয়া শুরু হয়েছে আস্তে আস্তে। বাউন্সার আমার জন্য স্কোরিং সুযোগ। আউট হয়ে গেলেও বাউন্সার আমার জন্য স্কোরিংয়ের সুযোগ।’’
ঢাকা/ইয়াসিন/আমিনুল
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন ৭ জুন