ঢাকা, বুধবার, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

এখন হুমায়ুন আজাদ || পিয়াস মজিদ

: রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৫-০৮-১১ ১০:১১:২৭ এএম     ||     আপডেট: ২০১৫-০৮-১২ ১২:৩৮:৪৯ পিএম

...রাহুগ্রস্ত সভ্যতার অবশিষ্ট সামান্য আলোক-
আমি জানি তারা সব নষ্টদের অধিকারে যাবে।
(হুমায়ুন আজাদ; সব কিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে)

লাল¬-সবুজের সুপ্রিয় স্বদেশকে ‘প্রতিক্রিয়াশীলতার দীর্ঘ ছায়ার নিচে’ আচ্ছাদিত করতে যখন মরণপণ যুদ্ধ ঘোষণা করতে দেখি পরাজিত প্রেতকুলকে তখন এইসব সংঘবদ্ধ আঁধারের বিরুদ্ধে হুমায়ুন আজাদকেও দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় তাঁর দীপ্যমান রচনাসমুদয় হাতে। প্রতিক্রিয়ার অপশক্তিকে ভালো করে জানতেন বলেই বোধহয় তিনি আগাম বলে গেছেন ‘সব কিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে’। কিন্ত না, নষ্ট সময় পেরিয়ে হুমায়ুন আজাদইতো শেখান অফুরান আলো ঝলমল স্বপ্নের তরণীতে ভাসতে। আর স্বপ্নের সীমান্তে পৌঁছুতে চেয়েছেন বলেই অতিক্রম করতে চেয়েছেন সীমাবদ্ধতার সূত্র-

...আমি কখনোই চারপাশকে মেনে নিই নি;-তারপর তো আমি মেনে নিই নি প্রথাগত সভ্যতাকেই- খুব ভালো পাশ, চাকুরি, শক্তি কখনোই আমার গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় নি। আমার মনে হয়েছে পেরিয়ে যেতে হবে চারপাশ; যেতে হবে স্বপ্নকল্পনার কাছে, অভূতপূর্বের কাছে।
(দুই অন্ধকারের মধ্যে; বহুমাত্রিক জ্যোতির্ময়)

এ শুধু নিরর্থ বাগবিস্তার নয়; এতেই নিহিত হুমায়ুন আজাদের মৌলদর্শন। ব্যক্তিগতভাবে বর্তমান অক্ষম লেখক কৃতজ্ঞ আজাদের উপন্যাস `ছাপ্পান্নো হাজার বর্গমাইল’-এর কাছে। কারণ কলেজ-কৈশোরে এই বইয়ের সূত্রে অনুধাবন করেছি প্রথা ও প্রচলের অর্গল কতটা ভয়াবহ হতে পারে। আমাদের মতো তরুণের মাঝে হুমায়ুন আজাদ এই বোধ জাগিয়ে দেন যে, চিন্তার স্বচ্ছতা ব্যতিরেকে মানব প্রগতির আর কোনো সোজাসাপ্টা সড়ক নেই। তাই কৈশোরক-রচনা থেকে মহাবিশ্ব সম্পর্কিত রচনার মধ্য দিয়ে এক অনন্য আলোক-পরম্পরা তৈরি করেন হুমায়ুন আজাদ।
কবিতায় বলেছেন তিনি-

আমি সম্ভবত খুব ছোট্ট কিছুর জন্যে মারা যাবো
খুব ছোট্ট একটি স্বপ্নের জন্যে
খুব ছোটো দুঃখের জন্যে
আমি হয়তো মারা যাবো কারো ঘুমের ভেতরে
একটি দীর্ঘশ্বাসের জন্যে
একফোঁটা সৌন্দর্যের জন্যে
(আমি সম্ভবত খুব ছোট্ট কিছুর জন্যে)

সুন্দরের প্রতি এই পক্ষপাত নেহায়েত কাব্যকথন নয় বরং এই আকাঙ্ক্ষিত সুন্দরের কাঠামোয় গ্রথিত ছিলো তাঁর সমগ্র সৃষ্টিবিশ্ব। হুমায়ুন আজাদ জানতেন ভাষাকে ভিত্তি করেই গড়ে ওঠে মানুষের চেতনা। তাই বাংলার শিশু-কিশোরদের মাঝে ভাষা ও সাহিত্যের বোধ জাগিয়ে তুলতে চেয়েছেন। তাঁর ‘লাল নীল দীপাবলী’ বা ‘বাঙলা সাহিত্যের জীবনী’ কিংবা ‘কতো নদী সরোবর’ বা ‘বাঙলা ভাষার জীবনী’ বাংলাদেশের কয়েক প্রজন্মের মাঝে রোপণ করেছে মাতৃভাষা ও সাহিত্যকেন্দ্রিক পূর্ণায়ত জীবনবোধ অর্জনের বীজ। তাঁর সাথে কণ্ঠ মিলিয়ে আমরাও যেন অজানিতে বলে উঠি-

তোমার দীর্ঘশ্বাসের নাম চণ্ডীদাস
শতাব্দীকাঁপানো উল্লাসের নাম মধুসূদন
তোমার থরোথরো প্রেমের নাম রবীন্দ্রনাথ
বিজন অশ্রুবিন্দুর নাম জীবনানন্দ
তোমার বিদ্রোহের নাম নজরুল ইসলাম
(বাঙলা ভাষা)

মাতৃভাষা ও সাহিত্যকে জননী-জ্ঞানে ভালোবাসতেন বলেই এর শত্রু পক্ষকেও শনাক্ত করতে নিরত হয়েছেন গভীর গবেষণায়। ‘ভাষা-আন্দোলন : সাহিত্যিক পটভূমি’ শীর্ষক মহার্ঘ্য গ্রন্থে তাই ‘পাকিস্তানবাদী সাহিত্যতত্ত্ব’ নামের প্রতিক্রিয়াশীল বিষবৃক্ষের স্বরূপ উন্মোচন করে দেখান ভাষা ও সাহিত্যের মাঝে দূষণের রং ছিটিয়ে পাকিস্তানি জমানায় কীভাবে চেতনাকে নষ্ট করার চেষ্টা চলেছে। সেই চেষ্টা এখনো অশেষ। তাই ফিরে তাকাতে চাই আজাদের অন্তর্ভেদী বিশ্লেষণে-

পাকিস্তানবাদী সাহিত্যতত্ত্ব (১৯৪৩-১৯৫১) ছিলো সামাজিক-রাজনৈতিকভাবে প্রগতিবিমুখ এবং শৈল্পিকভাবে অনাধুনিক ও অনুর্বর। মুসলিম লিগের দ্বিজাতিতত্ত্ব ও পাকিস্তান-আন্দোলনে বিশ্বাসী এ-সাহিত্যতত্ত্বের প্রচারকেরা ভূমিকা পালন করেছিলেন পাকিস্তানি রাজনীতির প্রচারকের। ...পাকিস্তান ও পাকিস্তানবাদী সাহিত্যতত্ত্ব বাঙালির জীবনের দু’টি দুর্ঘটনা।

আক্ষরিক অর্থে পাকিস্তানবাদ আর নেই কিন্তু মনোজাগতিক পাকিস্তান এখনো হানা দেয় আমাদের জীবনে। পাকিস্তানের ভাঙনে যাদের স্বপ্ন খান খান হয়ে গেছে তারাই এখন বাংলাদেশকে খান খান করে দিতে চাচ্ছে। কি আশ্চর্য! এই জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা ‘নামপরিচয়হীন যে-কোনো একজন নিহত মুক্তিযোদ্ধার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা’ শীর্ষক মর্মন্তুদ ইশতেহারে ধরা আছে তীব্রতর আবেগে-

চারদিকে জেগে উঠেছে অন্ধকারের প্রাণীরা, তোমাকে খঞ্জর হাতে খুঁজতো যারা একাত্তরের পথেঘাটে, পরে পালিয়ে যারা ঢুকেছিলো পাতালে, এখন তাদেরই সুসময়। তোমার লক্ষ্য ছিলো ভবিষ্যৎ, যদিও নিজে তুমি অতীত হয়ে গেছো; কিন্তু আমরা যারা বেঁচে আছি, তাদের লক্ষ্য অতীত। আমরা এখন পিছমুখো, পেছনের দিকে দৌড় দিচ্ছি প্রাণপণে। আমাদের সমস্ত চাওয়া আমরা এখন সংশোধন করে নিচ্ছি; যা একসময় বাতিল ব`লে ছেড়ে এসেছি, এখন তাই বরণ করছি প্রত্যহ; আর যা পাওয়ার স্বপ্নে তুমি অস্থি হয়েছো, তাদের দণ্ড দিচ্ছি, আঁস্তাকুড়ে ফেলছি ভোরবেলা সন্ধ্যাবেলা। তুমি কি ক্ষমা করবে আমাকে?

না, এই অপরাধের কোনো ক্ষমা হয় না। তাই এই জাতিগত পাপ-ক্ষলনের জন্য বাংলার অদম্য তারুণ্য রচনা করেছে প্রজন্ম-চত্বর। আর তখনই দেখা যাচ্ছে পাতালবাসী কীটেরা আবার নখদন্ত বিকাশ করা শুরু করেছে। সেই পুরোনো শকুনেরা বিভিন্ন ফ্রন্টে মাঠে নেমেছে এবার। রাজনীতির পাশাপাশি এদের কাউকে কাউকে বুদ্ধিবৃত্তিক রাস্তায়ও হল্লা করতে দেখা যাচ্ছে। অবাক বিস্ময়ে দেখি; দেখতে হয় আমাদের- পাকিস্তানবাদী খোয়াবের বিরুদ্ধে কলম-চালনার অপরাধে যারা হুমায়ুন আজাদকে কুপিয়ে জখম করেছিলো তারাই আজ আমাদের ফ্যাসিবাদের সংজ্ঞা শেখায়। সত্যি সেলুকাস!


হুমায়ুন আজাদের প্রগতিচিন্তা ও তৎপরতা ছিলো সর্বব্যাপ্ত। তাই বাংলা ভাষার শত্রু-মিত্র চিহ্নিতকরণ থেকে শুরু করে নারীপ্রশ্ন প্রসঙ্গেও তিনি ছিলেন সমান ভাবিত। সঙ্গত ক্রোধেই তদানিন্তন কুপমণ্ডূক শাসকচক্র কর্তৃক তাঁর মূল্যবান সন্দর্ভ নারী নিষেধের খড়গে আটকা পড়ে। ধরাবাঁধা আপ্তবাক্য দিয়ে হুমায়ুন আজাদ তাঁর প্রতিপাদ্য উপস্থাপন বা সমাধায় বিশ্বাসী ছিলেন না বরং বিষয়ের গভীরে গিয়ে উদ্ঘাটন করে আনেন সারসত্য। তাই নারীবাদ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে রোকেয়া থেকে মেরি ওলস্টোনক্র্যাফ্ট পর্যন্ত তাঁর বিশ্লেষণ বিস্তৃত হয়। ফলত আমরা দেখি যে নারীবিরোধী অচলায়তনের ভূগোল কত দীর্ঘ-বিশাল! আর আজ যখন প্রীতিলতা-রোকেয়া-সুফিয়া কামালের বাংলাদেশে নারীকে নতুন করে অবরুদ্ধ করার মৌলবাদী দাবি উচ্চারিত হয় এবং টেলিভিশন টক-শোতে কেবল রাজনৈতিক মতলবে অনেক নারীকেও এর পক্ষে সাফাই গাইতে দেখি তখন হুমায়ুন আজাদের উপলব্ধির সত্যতাই খুঁজে পাই যে- পুরুষতন্ত্রের রক্ষক নারী-পুরুষ যে কেউই হতে পারে। এ এক ব্যাধি। অন্তর্গত মৌলবাদ লালনকারীরা নারী-পুরষ যেই হোক এরা পুরুষতন্ত্রেরই ঘরের মানুষ। সুতরাং নির্বিশেষ লড়াইটা এদের বিরুদ্ধে শুরু না করলেই নয়।

হুমায়ুন আজাদের গল্পগ্রন্থ ‘যাদুকরের মৃত্যু’ (১৯৯৬)-র নাম গল্প ‘যাদুকরের মৃত্যু’ শৈল্পিক ঋদ্ধিতে ধারণ করেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে; তাঁর সুদীর্ঘ সংগ্রাম ও অনশ্বর স্বপ্নকে। বঙ্গবন্ধুকে তিনি কল্পনা করে ওঠেন এক অমর ইন্দ্রজালরূপে যিনি তাঁর জাদুর বলে গোটা জাতিকে গ্রথিত করেন স্বপ্নিল উত্থানে। আর তাঁর অকস্মাৎ প্রয়াণে ধ্বস্ত স্বদেশ-চ্যুত স্বপ্ন এবং করাল সময় বাক্সময় হয় এভাবে-

পরদিনই যাদুকরের লাশ পাওয়া গেলো শহরের চৌরাস্তায়। বর্বরদের একটি বিশাল ছুরিকা আমূল গাঁথা যাদুকরের হৃৎপিণ্ডে। ...যাদুকরের কথা, খুবই গোপনে, বলতো কেউ কেউ; তার কথা মনে হ’লে তার বুকে গেঁথে থাকা ছুরিকাটিকে মনে পড়তো আমাদের। কোথা থেকে এসেছিলো সেই যাদুকর, যে আমাদের স্বপ্ন দেখিয়েছিলো? স্বপ্নের মতো সত্য আর সত্যের মতো স্বপ্ন দেখানোর জন্যে সে আবার কবে আসবে?
অবাক হই যখন বঙ্গবন্ধু বিষয়ক অনেক বিশালকায় সংকলনে এই গল্পটির উপস্থিতি দেখি না।

তাঁর কথাসাহিত্যের প্রধান ক্ষেত্র উপন্যাস। উপন্যাসে তার নীরিক্ষা মূলত মানুষ ও শিল্প বিষয়ে নীরবরত ভাবনাশীলতারই স্মারক। দশদিকে সবকিছু ভেঙে পড়তে দেখে তিনি কনফেশনাল কবির মতো বিবৃত করেছেন মানুষ হিসেবে তাঁর বা আমাদের অপরাধসমূহ। নারী থেকে মূল্যবোধ-ধর্ষণকবলিত সময়কে যেমন তিনি উপন্যাসের কাঠামোয় বেঁধেছেন তেমনি শ্রাবণের বৃষ্টিতে ভেজা রক্তজবার আদলে জাজ্বল্য করেছেন বহমান সময়ের অগ্নি ও উত্তাপ। ‘পাক সার জমিন সাদ বাদ’ওয়ালাদের প্রেতযুগ ফিরে চাননি বলে হৃদয়-গভীর থেকে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন- ‘আমরা কি এই বাংলাদেশ চেয়েছিলাম?’

তাঁর নায়ক শুভব্রতের জন্যে যখন আর কোনো সুসমাচার অবশিষ্ট নেই তখন মহৎ-ট্র্যাজিক শিল্পীর মতোই তাঁকে বরণ করে নিতে হয় জঙ্গি-চাপাতির কোপের পর কোপ। কিশোরতোষ একটি গ্রন্থ লিখেছিলেন তিনি ‘আমাদের শহরে একদল দেবদূত’ শিরোনামে। তিনি  কি কখনো ভেবেছেন দেবদূত নয় বরং তাঁর প্রিয় শহরে- স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়ে- প্রাণের বইমেলার সামনে কাপুরুষ দানবদল ঝাঁপিয়ে পড়বে তাঁর উপর?

ব্যক্তি হুমায়ুন আজাদের ওপর তারা হামলা করেছিলো বললে তাদের অপরাধ বিচ্ছিন্ন ও লঘু করে দেখা হবে। ওরা ছাপ্পান্নো হাজার বর্গমাইল জুড়ে- গোটা বাংলাদেশ জুড়ে সেই পরিত্যক্ত পাকিস্তানি চান-তারার পুনঃপ্রতিষ্ঠা চায়। ওদের এই অশুভ খোয়াব ফাঁস করে দেয়ায় তারা হুমায়ুন আজাদের কলমকে তাদের অস্তিত্বের জন্য নিরাপদ বোধ করেনি।

ভাবছি- এখন হুমায়ুন আজাদ কী ধরনের উপন্যাস লিখতেন? যখন যুদ্ধাপরাধীর পাপিষ্ঠ নিঃশ্বাসমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে তার উত্তরসূরি অজেয় তারুণ্য গঠন করেছে অনন্ত স্বপ্নের জাগরণ-স্কোয়াড! আর যখন এই দেশের আলো হাওয়ায় বাস করে কেউ কেউ ফুকো-দেরিদা-হাইডেগার-হাবারমাসের রেফারেন্স টেনে রাজাকারের ক্ষমাহীন অপরাধকে বৈধতা দিতে চায় তাদের নিশ্চয়ই হুমায়ুন আজাদ তাঁর উপন্যাসের মাধ্যমে নিয়ে যেতেন রায়েরবাজার বধ্যভূমি কিংবা মুসলিমবাজার জল্লাদখানায়। নিশ্চয়ই এই জ্ঞানপাপীদের তিনি নিক্ষেপ করতেন সেইসব লক্ষ লক্ষ শহীদ নিঃশ্বাসের বেদিমূলে আর তারপর তারা নিশ্চয়ই ‘রাজাকারের বিচার চাই... তবে’, ‘কিন্তু’, ‘বিচার হতে হবে আন্তর্জাতিক মানের’, ‘স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ’ ইত্যাদি ভণ্ড শব্দবন্ধের আশ্রয় নেবার স্পর্ধা দেখাতো না।

না, হুমায়ুন আজাদ আর নতুন কোনো উপন্যাস লিখবেন না। কারণ তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘ছাপ্পান্নো হাজার বর্গমাইল’ (১৯৯৪)-য়েই তো ধরা আছে কুড়ি বছর পরের আজকের বাংলাদেশ-
রাশেদ একটা স্বপ্ন দেখেছে; এক রাতে ঘুমিয়েই স্বপ্নটি সে দেখেছিলো, তার পর থেকে জেগে জেগেই সে স্বপ্নটি দেখতে থাকে, মাঝেমাঝেই স্বপ্নটি তার মগজ ফেড়ে ঝিলিক দিয়ে ওঠে। একটা উৎসবে গেছে রাশেদ, উৎসবটা হচ্ছে প্রাসাদের ভেতরে যেখানে তার যাওয়ার কথা নয়, কিন্তু সে যায় যেমন স্বপ্নে মানুষ যায়, প্রাসাদে ঢোকার আগে সে দেখতে পায় চারপাশে স্তূপ স্তূপ হাড় প’ড়ে আছে। অতো হাড় কোথা থেকে এলো সে বুঝতে পারে না, প্রাসাদের বাইরে হাড় পড়ে থাকাও তার কাছে অদ্ভুত লাগে। উৎসবে যারা এসেছে, তারা প’রে এসেছে তাদের শ্রেষ্ঠ স্যুট, পাজামা, শেরোয়ানি, সাফারি, উর্দি, শাড়ি; কিন্তু রাশেদ যার সাথেই হাত মেলাতে যাচ্ছে, দেখতে পাচ্ছে সে-ই তার দিকে একটা থাবা বাড়িয়ে দিচ্ছে, থাবার নখে রক্ত ঝলমল করছে; তাদের কারো মুখ সিংহের কারো মুখ বাঘের কারো মুখ শেয়াল কুকুর শুয়োরের। রাশেদ কোনো মানুষের মুখ দেখতে পাচ্ছে না...।

মুখোশ পরা এই  সময় পাল্টাতে হুমায়ুন আজাদ উপস্থিত হন তাঁকে আক্রমণের স্থল থেকে মাত্র কয়েক গজ দূরের শাহবাগ প্রজন্ম চত্বরে। বলেন- নষ্টদের অধিকার থেকে প্রিয় বাংলাদেশকে উদ্ধার করতে আমার নতুন জন্ম হলো তোমাদের এই অভূত গণজাগরণে।




রাইজিংবিডি/ঢাকা/১১ আগস্ট ২০১৫/তাপস রায়

Walton Laptop
 
     
Marcel
Walton AC