একটা বিশ্বকাপ চাই মুশফিকের
ওদের হাতে বিশ্বকাপ মশাল। ওদের কাছে ১৬ কোটির প্রত্যাশা। ওরাই স্বপ্নের ধারক। ওরা বাংলার টাইগার। ওরা বাংলাদেশের বিশ্বকাপ স্বপ্নসারথি। ওদেরই একজন মুশফিকুর রহিম।
ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ১৫ খেলোয়াড়কে নিয়ে প্রতিদিন লেখা প্রকাশ করছে রাইজিংবিডি’র ক্রীড়া বিভাগ। আজ পড়ুন মুশফিকুর রহিমের গল্প, লিখেছেন আমিনুল ইসলাম। যিনি বাংলাদেশের হয়ে এ নিয়ে চতুর্থ বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন। বাংলাদেশের হয়ে ২০৫টি ওয়ানডে খেলা মুশফিক এবার বাংলাদেশের হয়ে একটি বিশ্বকাপ প্রত্যাশা করতেই পারেন।
১৯৮৭ সালে বগুড়ার মাটিডালিতে জন্ম তার। বাল্যকাল থেকেই সারাদিন ক্রিকেট নিয়ে মত্ত। পড়াশুনায় মনযোগ নেই। যেহেতু ক্রিকেটের প্রতি ঝোঁক সেহেতু ২০০০ সালে তার বাবা বাধ্য হয়ে মুশফিকুর রহিমকে ভর্তি করিয়ে দিলেন বিকেএসপিতে। এরপর অবশ্য জাদুর কাঠির ছোঁয়ার মতো বদলে যেতে থাকলো মুশফিকের সময় ও ভাগ্য। বিকেএসপির ছাত্র থাকাকালিন ২০০৫ সালে এক প্রকার ওয়াইল্ড কার্ড পেয়ে তিনি ইংল্যান্ড সফরের দলের সঙ্গে যুক্ত হন। তার বয়স তখন মাত্র ১৬ বছর। যদিও তিনি প্রাথমিক দলের স্কোয়াডে ছিলেন না। তারপরও তাকে ইংল্যান্ডে উড়িয়ে নেওয়া হয়।

অবশ্য এই সফরে নেওয়ার আগে ২০০৫ সালে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে জিম্বাবুয়ে সফরে ভালো করেছিলেন। একটি সেঞ্চুরিও করেছিলেন। এ ছাড়া আগের বছর ইংল্যান্ডে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে রান পেয়েছিলেন। জাতীয় দলের সঙ্গে ইংল্যান্ডে গিয়ে প্রস্তুতি ম্যাচে সাসেক্সের বিপক্ষে ৬৩ ও নটিংহ্যামশায়ারের বিপক্ষে ১১৫ রান করে নিজের জাত চেনান। ফলে লর্ডসে সবচেয়ে কম বয়সী ক্রিকেটার হিসেবে টেস্ট অভিষেক হয়ে যায় তার। প্রথম ইনিংসেই করেন নজরকাড়া ৮৫ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে করেন ৯ রান। যদিও হাঁটুর ইনজুরির কারণে দ্বিতীয় টেস্টে খেলা হয়নি তার।
২০০৬ সালে তিনি বাংলাদেশ দলকে যুব বিশ্বকাপে নেতৃত্ব দেন। এরপর মার্চে ঘরের মাঠ বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামের প্রথম টেস্ট ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলার সুযোগ হয় তার। যদিও ব্যাট হাতে মাত্র ১৯ ও ২ রান করেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়। এরপর বেশ কয়েক মাস সাইডলাইনেই ছিলেন। ডিসেম্বরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষের সিরিজে ওয়ানডে দলে ডাক পান। ৬ আগস্ট ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তার অভিষেক হয়। ২০০৭ সালে এই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই ক্যারিয়ারের প্রথম হাফ সেঞ্চুরি করেন তিনি এবং বিশ্বকাপের স্কোয়াডে জায়গা করে নেন।

বিশ্বকাপে তার প্রথম ম্যাচ ছিল ভারতের বিপক্ষে। সেই ম্যাচে ব্যাটকে তলোয়াড় বানিয়ে ভারতের বাঘা বাঘা বোলারদের বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অপরাজিত ৫৬ রান করেন। বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে জয়সূচক রানটিও আসে তার ব্যাট থেকে। এরপর তিনি ঘরের মাঠে ২০১১ বিশ্বকাপে খেলেছেন। খেলেছেন ২০১৫ বিশ্বকাপেও। এবার বাংলাদেশের হয়ে চতুর্থ বিশ্বকাপ খেলতে তিনি এখন ইংল্যান্ডে। দুই শতাধিক ওয়ানডে খেলা মুশফিক এখন অনেক অভিজ্ঞ, অনেক পরিণত। তার সঙ্গে আছেন তামিম, সাকিব, মাহমুদউল্লাহ ও মাশরাফির মতো পরিণত ক্রিকেটাররা। আছেন সৌম্য, লিটন, মিরাজ, সাব্বির ও সাইফউদ্দিনের মতো তরুণরা। সব মিলিয়ে মুশফিক এবার একটি বিশ্বকাপ বাংলাদেশের জন্য প্রত্যাশা করতেই পারেন।
টেস্টে তার ডাবল সেঞ্চুরি রয়েছে। ওয়ানডেতেও রয়েছে ১৪৪ রানের ইনিংস। আগের তিন বিশ্বকাপে হাফ সেঞ্চুরির দেখা পেলেও একটিও সেঞ্চুরি পাননি। ইংল্যান্ডের কন্ডিশনে এবার তার অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানের ব্যাট থেকে একাধিক সেঞ্চুরি ভক্ত-সমর্থকরা প্রত্যাশা করতেই পারে। আর সেটা যদি হয় তাহলে বাংলাদেশ বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখতেই পারে।

সংক্ষেপে মুশফিকের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার :
এ পর্যন্ত তিনি ২০৫টি ওয়ানডে খেলেছেন। রান করেছেন ৫৫৫৮টি। সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ ১৪৪। সেঞ্চুরি ৬টি, হাফ সেঞ্চুরি ৩৩টি। টেস্ট খেলেছেন ৬৬টি। রান করেছেন ৪০০৬টি। সর্বোচ্চ ইনিংস ২১৯*। সেঞ্চুরি ৬টি, হাফ সেঞ্চুরি ১৯টি। বাংলাদেশের হয়ে তিনি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন ৭৭টি। রান করেছেন ১১৩৮টি। ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের ইনিংস ৭২*। ৪টি হাফ সেঞ্চুরি থাকলেও কোনো সেঞ্চুরি নেই। এই তিন ফরম্যাটে জাতীয় দলের হয়ে তিনি রান করেছেন ১০ হাজার ৭০২ রান।
রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৬ মে ২০১৯/আমিনুল/শামীম
রাইজিংবিডি.কম