ঢাকা, সোমবার, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ২০ মে ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

শুভ জন্মদিন তমালিকা কর্মকার

: রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৫-০৭-০২ ১২:২৭:২৬ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৫-০৭-০২ ৫:১৩:৫৭ পিএম

মোখলেছুর রহমান : আরণ্যকের ‘রাঢ়াঙ’ নাটকের শ্যামলী, ‘ময়ূর সিংহাসন’র কৃষ্ণা কিংবা এবং বিদ্যাসাগরের ‘রাধা’ চরিত্রে যার অভিনয় দেখে আমরা প্রতিনিয়ত মুগ্ধ হই, তিনি তমালিকা কর্মকার।

 

মঞ্চ, টেলিভিশন, চলচ্চিত্র সব জায়গাতেই তার সরব পদচারণা। বিনোদন মিডিয়ার তিনাঙ্গনেই দাপুটে এই অভিনেত্রী জয় করেছেন অগণিত দর্শকের ভালোবাসা। স্বপ্রতীভ এ অভিনেত্রী সম-জনপ্রিয়তায় পাল্লা দিয়ে এগিয়ে চলছেন শোবিজ অঙ্গনের তিন মাধ্যমেই। তার অভিনয় ক্যানভাসটা বিশাল ও বর্ণাঢ্য। ক্লান্তিহীন সুঅভিনয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন ঈর্ষণীয় জনপ্রিয়তার চূড়ায়। তমালিকা কর্মকারের বোন পরিচালক চয়নিকা চৌধুরী, অরুণ চৌধুরী তার দুলাভাই।

 

তমালিকার অভিনয় শুরুটা মঞ্চ থেকেই। ১৯৯২ সালে আরণ্যক নাট্যদল প্রযোজিত মামুনুর রশীদের লেখা ও আজিজুল হাকিম নির্দেশিত ‘পাথর’ নাটক দিয়ে তার মঞ্চাভিনয় শুরু। এরপর দলের ইবলিস, জয়জয়ন্তী, খেলা খেলা, ওরা কদম আলী, প্রাকৃতজন কথা, রাঢ়াঙ এবং বিদ্যাসাগর, ময়ূর সিংহাসনে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে থিয়েটার অঙ্গনে নিজের অভিনয়শৈলী তুলে ধরেন। সম্প্রতি কাজ করেছেন দলের নতুন নাটক ‘বঙ্গভঙ্গ’তে।

 

নাট্যজন মামুনুর রশীদের কাছে হাতে খড়ি পাওয়া এই অভিনেত্রীর কাছে মিডিয়াতে মঞ্চই প্রাণের জায়গা। তমালিকা কর্মকার টিভি পর্দায় ব্যস্ত অভিনেত্রী হওয়া সত্ত্বেও মঞ্চের একজন সক্রিয় কর্মী। আরণ্যক ছাড়াও একাধিক মঞ্চ নাটকে অভিনয় করেছেন।

 

শুধু দেশেই নয় অতলস্পর্শী এই অভিনেত্রী পশ্চিমবঙ্গে আরণ্যক নাট্যদলের হয়ে একাধিক নাটকে অভিনয় নৈপুণ্য দেখিয়ে সেখানেও প্রিয়মুখ হয়ে উঠেছেন। আরণ্যক নাট্যদলের নতুন নাটক ‘বঙ্গভঙ্গ’র মালিনী চরিত্রে অভিনয় করে আবারও দর্শকদের জানান দেন অভিনয়ে তার সামর্থ্যরে কথা। মঞ্চে অবারিত আঙ্গিক শিল্পনৈপুণ্য যেন তমালিকার শরীরে ঢেউ খেলে।

 

ছোট পর্দায় তার অভিনয় বৈচিত্র্য বলার অপেক্ষাই রাখে না। ছোট পর্দায়ও অভিনয় করেছেন অসংখ্য নাটকে। আগুনপোকা, ক্ষণিকালয়, বড় বাড়ির ছোট বউ সহ বর্তমানে প্রচারিত অনেক নাটকে তার অভিনয় দর্শককে মুগ্ধ করেছে।

 

মঞ্চের তুমুল জনপ্রিয় এ চরিত্রগুলোর রূপদানকারী এই অভিনেত্রী শুধু মঞ্চ আর ছোট পর্দাতেই নয়, দেশের প্রধান সেলুলয়েডেও আলো ফেলেছেন স্বমহিমায়। অন্য জীবন দিয়ে চলচ্চিত্রাঙ্গনে যাত্রা করে ১৯৯৬ সালে এই ঘর এই সংসার ছবিতে চিত্রনায়ক আলী রাজের বিপরীতে, ২০০০ সালে কীর্তনখোলা ছবিতে বেদের মেয়ে ডালিমন চরিত্রে এবং ২০১২ সালে ঘেটুপুত্র কমলায় কমলার মা চরিত্রে দুর্দান্ত অভিনয়ের মধ্য দিয়ে দেশের চলচ্চিত্র দর্শকদের হৃদয়ে ঝড় তোলেন।

 

প্রতিনিয়তই তিনি নতুন নতুন চরিত্রে নিজেকে মেলে ধরছেন। অভিনয় তার কাছে প্রার্থনার মতো। অভিনয় ব্যতীত অন্য কোনো ইচ্ছাই নেই তমালিকার। তমালিকা অংকন, নৃত্য এবং গানের শিক্ষা নিলেও অভিনয় ব্যতীত কোনো বিষয়েই আগ্রহী হননি। তবে এসব অভিজ্ঞতা তার অভিনয়ে সহায়ক ভূমিকা রেখেছে বলে জানিয়েছেন।

 

চলচ্চিত্র নির্মাতা আবু সাইয়ীদের কীর্তনখোলা ছবিতে অভিনয়ের জন্য দূরদর্শী এই অভিনেত্রী ২০০২ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। মঞ্চ, টিভি এবং চলচ্চিত্রাঙ্গনে অবদান রাখার জন্য ২০১৩ সালের ২১ জুনে তমালিকাকে যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশ কালচারাল সোসাইটি অফ নর্থ আমেরিকা সম্মাননা প্রদান করেন।

 

সম্প্রতি নাট্যযুদ্ধ নামের একটি রিয়েলিটি শো’র বিচারক হিসেবে অংশগ্রহণ করলেন তমালিকা।

 

২ জুলাই এই সু অভিনেত্রীর জন্মদিন। রাইজিংবিডির পক্ষ থেকে তমলিকা কর্মকারকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা।

 

 

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/২ জুলাই ২০১৫/ফিরোজ

Walton Laptop
     
Walton AC
Marcel Fridge