ঢাকা, সোমবার, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১০ ডিসেম্বর ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

‘মুখ ও মুখোশ’র জানা-অজানা

: রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৫-০৯-০৪ ৬:২৭:২০ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৫-০৯-০৫ ৬:১৫:২৩ পিএম

রাহাত সাইফুল : বাংলাদেশ তথা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য সবাক চলচ্চিত্র মুখ ও মুখোশ। ১৯৫৬ সালের সিনেমাটি পরিচালনা করেন আব্দুল জব্বার খান। চলচ্চিত্রটি ১৯৫৬ সালের ৩ আগস্ট মুক্তি পায়। ৫৯ বছর আগের এ সিনেমাটি ঐতিহাসিকভাবেও বহুল আলোচিত। তবে ছবিটি সম্পর্কে এখনও অনেক তথ্যই অড়ালে রয়ে গেছে। সম্প্রতি একটি সিনেমার মহরত অনুষ্ঠানে সিনেমাটি নিয়ে বেশ কিছু তথ্যই জানান ছবিটির অন্যতম প্রযোজক কলিম উদ্দীন দুদু মিয়ার ছেলে জীবন্ত কিংবদন্তী চিত্রনায়ক আলমগীর। তার দেওয়া তথ্য এবং ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত তথ্য থেকে মুখ ও মুখোশর জানা-অজানা কিছু তথ্য জেনে নিন।


সিনেমাটি প্রথম প্রদর্শনী হয় মুকুল প্রেক্ষাগৃহে বর্তমানে যা আজাদ সিনেমা হল নামে পরিচিত। সিনেমাটি ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ এবং খুলনায় একযোগে মুক্তি পায়। এ অঞ্চলের প্রথম চলচ্চিত্র হিসাবে দর্শকমহলে এটি নিয়ে আগ্রহের সৃষ্টি হয়।


মুখ ও মুখোশের আয় ও ব্যয় :
স্বাধীনতার পূর্বে ১৯৫৬ সালে নির্মাণ ব্যয় হয় তৎকালিন পাকিস্তানি রুপিতে ৮২ হাজার। ৭০ ও ৮০ দশকে  তুমুল জনপ্রিয় অভিনয় শিল্পী আলমগীরের বাবা কলিম উদ্দিন আহমেদ দুদু মিয়া  তিনি এ সিনেমার নির্মাণে ৪২ হাজার টাকা দিয়েছেন। বাকী ৪০ হাজার টাকা দিয়েছেন তার চার বন্ধুমিলে। সিনেমাটি মুক্তির পরে প্রথম দফায় আয় করে ৪৮ হাজার টাকা।


পূর্ব পাকিস্তানে সিনেমা হলগুলোতে যে সিনেমা চলতো :
সে সময়  পূর্ব পাকিস্তানে নিজস্ব কোন চলচ্চিত্র শিল্প গড়ে উঠেনি। স্থানীয় সিনেমা হলগুলোতে কলকাতা অথবা লাহোরের চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হতো।  তবে মুখ ও মুখোশ তৈরি পর তা দারুণ সাড়া ফেলে।

যেভাবে নির্মাণ কাজ শুরু হয় :
পশ্চিম পাকিস্তানের চলচ্চিত্র প্রযোজক এফ. দোসানির পূর্ব পাকিস্তানে চলচ্চিত্র প্রযোজনার ব্যাপারে নেতিবাচক মন্তব্যে ক্ষুদ্ধ হয়ে জব্বার খান চলচ্চিত্রটি নির্মাণে উদ্যোগী হন। জব্বার খান দুই বছর ধরে সিনেরমাটির কাজ করেন। আবদুল জব্বার খানের ডাকাত নাটক হতে চলচ্চিত্রটির কাহিনি নেওয়া হয়। ১৯৫৪ সালের ৬ই আগস্ট আবদুল জব্বার খান তার পরিচালনায় প্রথম সবাক চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’-এর মহরত করেন হোটেল শাহবাগে। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর ইস্কান্দার মির্জা সিনেমার  মহরতের উদ্বোধন করেন।


কলাকুশলী :
মুখ ও মুখোশ- এর চিত্রনাট্য করেন কলকাতার বিপ্রদাশ ঠাকুর। এর চিত্রগ্রহণে উপদেষ্টা থাকেন মুরারী মোহন। পরে এই দায়িত্ব তুলে নেন সহকারী চিত্রগ্রাহক মুরারী মোহন জামান। অঙ্গসজ্জায় ছিলেন শ্যাম বাবু যার আসল নাম শমসের আলী। সমর দাস এর সংগীত পরিচালনায় গানে কন্ঠ দেন আবদুল আলীম এবং মাহবুবা হাসনাত। সহকারী সংগীত পরিচালক হিসেবে ছিলেন ধীর আলী। শব্দগ্রহণ করেন মইনুল ইসলাম। সিনেমাটির সম্পাদনা করেন পশ্চিম পাকিস্তানে আব্দুল লতিফ। এর পোস্টার ডিজাইন করেন সুভাষ দত্ত।

 


অভিনয় শিল্পী ও তাদের চরিত্র :
ইনাম আহমেদ মুখ্য পুরুষ চরিত্রে অভিনয় করেন। দ্বিতীয় প্রধান পুরুষ চরিত্র অভিনয় করেন ছবিটির নির্মাতা আবদুল জব্বার খান।  নায়িকা চরিত্রে ছিলেন চট্টগ্রামের পূর্ণিমা সেন। অন্যান্য চরিত্রে ছিলেন নাজমা (পিয়ারী), জহরত আরা, আলী মনসুর, রফিক, নুরুল আনাম খান, সাইফুদ্দীন, বিলকিস বারী প্রমুখ। 


কেমন ছিল শিল্পীদের পারিশ্রমিক :
পূর্ব পাকিস্থানের স্থানীয় অভিনেতারা, চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়াই বিনা পারিশ্রমিকে এই চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। তাদের কোনো পারিশ্রমিক দেওয়া হয়নি।


পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ :
র্পূব পাকিস্থানে স্থানীয়ভাবে কোনো ফিল্ম প্রোডাকশন স্টুডিও না থাকায়, সিনেমার নেগেটিভ ডেভেলপের জন্য লাহোরে পাঠানো হয়। লাহোরের শাহনূর স্টুডিওতে ‘মুখ ও মুখোশ’-এর পরিস্ফূটন কাজ সম্পন্ন হয়। ১৯৫৬ সালে সিনেমার  কাজ শেষ হয়। কিন্তু সে বছর ছবিটির নির্মাতা আবদুল জব্বার ঢাকায় ফেরার অনুমতি পাননি।


প্রথম প্রদর্শনী :
মুখ ও মুখোশর প্রথম প্রদর্শনী হয় লাহোরে। ঢাকায় ফিরে আসার পর সিনেমাটি প্রদর্শনীর বিষয়ে কোনো প্রেক্ষাগৃহের মালিকের কাছ থেকে আশানুরূপ সাড়া পাননি সিনেমা সংশ্লিষ্টরা। তবে এ অবস্থা কাটাতে বেশি সময় লাগেনি। অল্পদিনের মধ্যে ছবিটি ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম এবং খুলনায় একযোগে প্রদর্শিত হয়। সিনেমাটি প্রিমিয়ার শো অনুষ্ঠিত হয় রূপমহল প্রেক্ষাগৃহে।

অন্যান্য তথ্য :
সিনেমাটির প্রথম প্রদর্শনীতে প্রধান অতিথি ছিলেন শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক। প্রথম শুটিং কালীগঞ্জে ১৯৫৩ সালের ডিসেম্বর মাসে। এর নাম প্রথম রাখা হয়েছিল ডাকাত। পরে ফজল শাহাবুদ্দিনের পরামর্শে নাম রাখা হয় মুখ ও মুখোশ। এর শুটিং শেষ হয় ১৯৫৫ সালের ৩০ শে অক্টোবর। শুটিংয়ের মূল স্থানগুলো ছিল সিদ্ধেশ্বরী, তেজগাঁও, রাজারবাগ, কমলাপুর, লালমাটিয়া, জিঞ্জিরা এবং টঙ্গীর বিভিন্ন জায়গায়।  বাংলা ভাষায় নির্মিত প্রথম এ সিনেমার দৈর্ঘ ৯৯ মিনিট।

 



রাইজিংবিডি/ঢাকা/৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫/ রাহাত সাইফুল/রাশেদ শাওন

Walton Laptop
 
     
Marcel
Walton AC