ঢাকা, শনিবার, ১৬ বৈশাখ ১৪২৪, ২৯ এপ্রিল ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

শিশুর মানসিক বিকাশে যা করতে হবে

আতিকুর রহমান : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০৩-১৭ ৮:৩৭:১০ এএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৩-১৭ ৯:৩৫:৩৪ এএম
প্রতীকী ছবি

আতিকুর রহমান : কথায় আছে শিশু হচ্ছে, কুমারের কাঁদামাটির মতো নরম, যে ভাবে গড়তে চাইবেন সে ভাবেই তারা তৈরি হবে। শিশুদের প্রাথমিক অভ্যাস সাধারণত গড়ে উঠে পরিবার থেকেই। সেক্ষেত্রে মা-বাবাই হচ্ছে শিশুর প্রথম শিক্ষক। ছোটবেলার শিক্ষা সন্তানের ভবিষ্যৎ জীবনকেও প্রভাবিত করে।

অনেক অভিভাবকই মনে করে শাসন মানেই হল, গায়ে হাত তোলা। গায়ে হাত না তুলে সন্তানকে সঠিকভাবে মানুষ করা যাবে না। এরকম ধারণা এখনো অনেকের মাঝে রয়েছে। এ ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। আসুন জেনে নেয়া যাক, সন্তানের মানসিক বিকাশে কি কি বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে।

* শিশুরা দুই বছর বয়স থেকেই শিখতে শুরু করে, তখন থেকেই তাকে ভালো কাজের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে হবে।

* বড়দের আচরণে শালীনতা থাকতে হবে, কারণ শিশুরা বড়দের অনুকরণ করে। কথায় ও কাজে মিল রেখে চলতে হবে।

* ছোট বয়স থেকেই শিশুকে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় দিবসের অনুষ্ঠানে নিয়ে যাওয়া, এতে করে তার মধ্যে দেশের প্রতি চেতনা বোধ জাগ্রত হবে।

* শিশুদেরকে বুঝতে শেখার সময় থেকেই বইয়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে। এজন্য ঘুমাতে যাওয়ার আগে বিছানায় নানা ধরনের বই নিয়ে যান, এতে তারাও বই হাতে নিয়ে দেখবে। এভাবে শিশুদের বইয়ের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে হবে।

* পড়ালেখার পাশাপাশি শিশুকে নানা বিষয়ে জানতে উৎসাহী করতে হবে। তার প্রশ্নের যথাযথ জবাব দিতে হবে।

* শিশুকে নিজের মতো করে কাজ করতে দিতে হবে। এতে সে একদিকে স্বাবলম্বী হবে অন্যদিকে নিজে সিদ্ধান্ত নিতে শিখবে।

* শিশুরা ভুল করলে সঙ্গে সঙ্গে রাগারাগি বা শাস্তি না দিয়ে তাকে বুঝিয়ে বলতে হবে, সে যে কাজটা করেছে এর কুফল কি কি হতে পারে। এতে শিশুর উপলব্ধির ক্ষমতা বাড়বে।

* শিশুর ভালো কাজের প্রশংসা করুন। ছোট ছোট উপহার দিন, এত সে ভালো কাজে উৎসাহী হয়ে উঠবে।

* বাবা-মায়ের শিশুকে পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে। পাশাপাশি অন্য শিশুর সঙ্গে মিলেমিশে থাকার সুযোগ করে দিতে হবে।

* শিশুরা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কিছুর বায়না ধরে, অনেক সময় তা পূরণ করা সম্ভব হয় না। এক্ষেত্রে রাগারাগি না করে মনটাকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিন। তার পছন্দের কাজ করতে দিন।

* শিশুদের অন্য শিশুর সঙ্গে কখনোই তুলনা করবেন না। তার আবেগের জায়গায় যেন আঘাত না লাগে সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে।

* শিশুকে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করতে হবে। যেকোনো বিষয়ের ভালো মন্দ দুটো দিকই তার সামনে তুলে ধরুন। সেখান থেকে সে সিদ্ধান্ত নিবে। এক্ষেত্রে তার জন্য যা ভালো সেটাই সে বেছে নিবে।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৭ মার্চ ২০১৭/ফিরোজ

Walton Laptop