ঢাকা, শুক্রবার, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

‘বাংলাদেশের কৌশল স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মডেল হতে পারে’

নাসির উদ্দিন : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-১১-২৩ ৫:২৫:০০ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-১১-২৩ ৫:২৫:০০ পিএম

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে বাংলাদেশের উদ্যোগ ও কৌশল স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য অনুকরণীয় মডেল হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু।

বৃহস্পতিবার স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মন্ত্রী পর্যায়ের সপ্তম সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে এ মন্তব্য করেন আমির হোসেন আমু। অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারে দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।

সম্মেলনে শিল্পমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ৭ দশমিক ২৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের মাধ্যমে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বর্তমানে এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর গড় জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৭ ভাগ। আর ইস্তাম্বুল কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য ৭ ভাগ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনে সম্মিলিত প্রয়াস জোরদার করতে হবে।

সম্মেলনের উদ্বোধনী দিনে ‘বিশ্ব অংশীদারিত্ব সৃষ্টি : স্বল্পোন্নত দেশগুলোতে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই উন্নয়নের প্রসার’ শীর্ষক উচ্চ পর্যায়ের প্যানেল আলোচনা হয়।

আলোচনা সভায় আমির হোসেন আমু বলেন, শিল্প খাতে উন্নয়নের পাশাপাশি স্বল্পোন্নত দেশগুলোর উৎপাদিত পণ্য বিপণনের জন্য আন্তর্জাতিক বাজার সুবিধা সম্প্রসারণ করতে হবে। এর মাধ্যমে এলডিসিভুক্ত দেশগুলোতে শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি ও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে ২০২০ সালের মধ্যে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর রপ্তানির পরিমাণ দ্বিগুণ করার লক্ষ্য থাকলেও এখন পর্যন্ত এলডিসিভুক্ত দেশগুলো বিশ্ব রপ্তানি বাণিজ্যের মাত্র ০ দশমিক ৯৪ ভাগে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। ২০১৬ সালে এলডিসিভুক্ত দেশগুলো ৮৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি ঘাটতি মোকাবিলা করেছে। এ ঘাটতি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোতে এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর উৎপাদিত সকল পণ্যের জন্য দীর্ঘ মেয়াদি শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা বাস্তবায়নেরও তাগিদ দেন মন্ত্রী।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধি জোরদারে বিজ্ঞান, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি খাতে ব্যয় বাড়ানো প্রয়োজন। উন্নত দেশগুলো শিল্প খাতের উন্নয়ন ও গবেষণায় যেখানে জিডিপির ২ ভাগ ব্যয় করছে, সেখানে এ খাতে এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর ব্যয় মাত্র শতকরা ০ দশমিক ১ ভাগ।

ইউনিডোর ‘জ্ঞান সহায়তা’ কর্মসূচির আওতায় স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য নতুন স্থাপিত ‘টেকনোলজি ব্যাংক’ সমৃদ্ধকরণে উন্নত দেশ, উন্নয়ন সহযোগী, বেসরকারি খাত, শিক্ষাবিদসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে অবদান রাখার আহ্বান জানান তিনি।

আমির হোসেন আমু বলেন, এলডিসিভুক্ত দেশগুলোতে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই শিল্পায়নের লক্ষ্য অর্জনে বহুপক্ষীয় অংশীদারিত্ব জোরদার করা জরুরি। দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক পণ্য ও সেবা আদান-প্রদান, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি হন্তান্তর এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে শিল্প খাতে উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনের সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ সরকার শিল্প খাতে দুই অংকের প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে সরকার দারিদ্র্য বিমোচন, টেকসই নগরায়ন, মান অবকাঠামোর আধুনিকায়ন, পরিবেশবান্ধব শিল্পায়ন ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির প্রতি অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

জাতিসংঘ শিল্প উন্নয়ন সংস্থার (ইউনিডো) মহাপরিচালক লি ইয়ংয়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে জাতিসংঘের স্বল্পোন্নত দেশ, ল্যান্ডলক উন্নয়নশীল দেশ ও ছোট দ্বীপ রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী অফিসের উপ-মহাসচিব ফেকিটমোলোয়া কাটোয়া, জাতিসংঘের ভিয়েতনাম অফিসের মহাপরিচালক ইউরি ফেডোভ, অস্ট্রিয়ার ফেডারেল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক পিটার লোনস্কি, ওপেক ফান্ড ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের মহাপরিচালক সুলেইমান জে আল হার্বিশ বক্তব্য রাখেন।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৩ নভেম্বর ২০১৭/নাসির/রফিক

Walton
 
   
Marcel