ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৭ চৈত্র ১৪২৫, ২১ মার্চ ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

‘নারী-পুরুষ সমতার নতুন বিশ্ব গড়ো’

আসাদ আল মাহমুদ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৩-০৮ ৯:২৫:৫৭ এএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৩-০৮ ১২:০২:২৬ পিএম

আসাদ আল মাহমুদ : আন্তর্জাতিক নারী দিবস আজ। এবারের নারী দিবসের প্রতিপাদ্য- সবাই মিলে ভাবো, নতুন কিছু করো, নারী-পুরুষ সমতার নতুন বিশ্ব গড়ো।

১৮৫৭ সালের ৮ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের একটি সেলাই কারখানায় নারী শ্রমিকরা ভোটাধিকারসহ বেশকিছু সুনির্দিষ্ট দাবিতে আন্দোলন করলে তারা নির্যাতনের শিকার হন। এ দিনটিকে নারী দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাব করেছিলেন জার্মান নারী নেত্রী ক্লারা জেটকিন ১৯১০ সালে। ১৯১১ সালে প্রথম বেসরকারিভাবে বিভিন্ন দেশে দিনটিকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালন করা হয়। এরপর ১৯৮৪ সালে জাতিসংঘ ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। বাংলাদেশও জাতিসংঘের সদস্যরাষ্ট্র হওয়ায় ৮ মার্চ নারী দিবস পালন করে আসছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত নারীদের পুনর্বাসন ও ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে ১৯৭২ সালে ‘নারী পুনর্বাসন বোর্ড’ গঠন করে জাতীয় জীবনের সকল ক্ষেত্রে নারীর সমানাধিকার বিষয়টি সংবিধানে নিশ্চিত করেন।

কর্মক্ষেত্রে এখনো অনেক সময় নারীরা বঞ্চিত হন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অনেক ক্ষেত্রে নারীরা পুরুষের চেয়ে কম পারিশ্রমিক পায়। সামাজিক প্রতিবন্ধকতা বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। অনেক প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ নারীবান্ধব নয়। এর পেছনে ব্যক্তিগত, প্রাতিষ্ঠানিক ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতা কাজ করে। এসব কারণে অনেক সক্ষম নারী কর্মসংস্থানের সুযোগ গ্রহণ করেন না। এ জন্য সরকারসহ সবার সচেতনতা প্রয়োজন।

দেশের প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, বিএনপি চেয়ারপারসন নারী। বাংলাদেশের সংবিধানসহ বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নীতিমালায় নারীর রাজনৈতিক-সামাজিক ক্ষমতায়ন ও অংশগ্রহণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার নারীর প্রতি সকল ধরণের সহিংসতা প্রতিরোধের লক্ষ্যে জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি-২০১১ প্রণয়ন করেছে। পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) বিধিমালা ২০১৩, ডিএনএ আইন ২০১৪ এবং নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ২০১৩-২০২৫ প্রণয়ন করা হয়েছে। করা হয়েছে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন-২০১৭ ও যৌতুক নিরোধ আইন-২০১৮।

এ ছাড়া ভিজিডি, বিধবাভাতা, মাতৃত্বকালীন ভাতা, ল্যাকটেটিং মাদার সহায়তা কার্যক্রমসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মাধ্যমে নারীদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করেছে। মাতৃত্বকালীন ছুটি বেতনসহ ৬ মাসে উন্নীত এবং মাতৃত্বকালীন ভাতা ও ল্যাকটেটিং মাদার ভাতা চালু করা হয়েছে। এ ছাড়া বয়স্ক ভাতা, অসচ্ছল প্রতিবন্ধীদের ভাতা চালু করেছে।

শতভাগ উপবৃত্তি প্রদান ও অবৈতনিক শিক্ষা কার্যক্রমের ফলে শিক্ষাক্ষেত্রেও নারীরা এগিয়ে যাচ্ছে। রাজনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরিসহ সকল ক্ষেত্রে আজ নারীর অবাধ পদচারণা।

নারী নির্যাতন প্রতিরোধে জেলা-উপজেলায় ৬৭টি ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার ও ন্যাশনাল হেল্প লাইন (১০৯) চালু হয়েছে।

রাজনীতি, বিচার বিভাগ, প্রশাসন, শিক্ষা, চিকিৎসা, সশস্ত্রবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সর্বক্ষেত্রে নারীরা যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখছেন। গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাদেশের অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ার সকল দেশের উপরে।

দেশে নারী মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক নারী উদ্যোক্তাদের সহায়তা করছে। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ‘অর্জন’ নামে একটি তহবিল রয়েছে। এখান থেকে নারী উদ্যোক্তাদের বিশেষভাবে ব্যবসায়িক ঋণ প্রদান করছে।

বাংলাদেশকে ২০২১ সালে মধ্যম আয়ের দেশ গড়ার অঙ্গীকার করেছে সরকার। এটা বাস্তবায়নের জন্য নারীদের অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। কেননা, পুরুষের একক প্রচেষ্টায় অতীতে সফলতা অর্জন করা সম্ভব হয়নি। সামনেও সম্ভব হবে না। দেশের মোট জনসংখ্যার ৫০ ভাগই নারী। আর ৪০ শতাংশ নারী গ্রামে বসবাস করেন। তাঁরা প্রায় সবাই কৃষক পরিবারের সন্তান।

আর্থসামাজিক উন্নয়নে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে রোল মডেল। নারীর প্রতি সকল ধরনের বৈষম্যমূলক আচরণ, নারী নির্যাতন প্রতিরোধ, কর্মক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমান মজুরি করা গেলে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হবে।

লেখক: গণমাধ্যমকর্মী


রাইজিংবিডি/ঢাকা/৮ মার্চ ২০১৯/আসাদ/ইভা

Walton Laptop
 
     
Walton AC