ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৮ কার্তিক ১৪২৫, ১৩ নভেম্বর ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

যে ধরনের স্বপ্ন দেখায় ডিমেনশিয়া রোগের ঝুঁকি

এস এম গল্প ইকবাল : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৮-১১-০১ ৮:২৬:০২ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-১১-০১ ৮:২৬:০২ পিএম
প্রতীকী ছবি

এস এম গল্প ইকবাল : স্বপ্নে আপনি কি দেখেছেন তা মনে করার প্রবণতা আপনার থাক কিংবা না থাক, প্রত্যেকেই ভীতিকর দুঃস্বপ্ন স্মরণ করতে পারে। দুঃস্বপ্নের কয়েকটি নমুনা হচ্ছে: কেউ বা কোনোকিছু তাড়া করছে, গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় দেরি হয়ে গেছে, সব দাঁত পড়ে গেছে, ছাদ বা পাহাড় থেকে পড়ে যাচ্ছেন।

দুঃস্বপ্ন যাই হোক, আপনি সম্ভবত আতঙ্ক বা ভয় নিয়ে জেগে ওঠেন, তারপর অনুধাবন করেন যে এটি একটি দুঃস্বপ্ন ছিল এবং স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন।

কিন্তু যদি প্রায়সময় ঘুমের মধ্যে ভীতিকর স্বপ্ন দেখেন এবং আপনার বিছানার সঙ্গী বলে যে আপনি ঘুমের সময় কান্না বা আর্তনাদ করেন, লাথি মারেন অথবা প্রহার করেন বা আঘাত করেন, তাহলে আপনার মস্তিষ্ক ঝুঁকিতে আছে।

ঘুমের আরইএম স্তরের আচরণ ব্যাধির (রেম বিহেভিয়ার ডিডঅর্ডার বা আরবিডি) কারণে দুঃস্বপ্ন ঘনঘন দেখে থাকতে পারেন। আরইএম হচ্ছে, ঘুমের গভীরতম পর্যায়। আরবিডি হচ্ছে, একটি কন্ডিশন যার কারণে রোগী ভয়ানক স্বপ্নের প্রতি শারীরিক প্রতিক্রিয়া দেখায়। গবেষণায় আবিষ্কার হয়েছে যে, ৮০ শতাংশেরও বেশি আরবিডি রোগীর শেষপর্যন্ত কোনো না কোনো স্নায়ুরোগ বিকশিত হয়, যেমন- পারকিনসন’স অথবা ডিমেনশিয়া (স্মৃতিভ্রংশ রোগ)।

কিছু কারণে আরইএম ঘুম স্তরের কোষ প্রথমে অসুস্থ হয় এবং তারপর স্নায়ুকোষ ক্ষয়মূলক রোগ (নিউরোডিজেনারেটিভ ডিজিজ) মস্তিষ্কে ছড়িয়ে পড়ে এবং অন্যান্য স্থানকে আক্রান্ত করে যা পারকিনসন’স রোগের মতো ব্যাধি সৃষ্টি করে, লাইভ সায়েন্স ডটকমকে বলেন ইউনিভার্সিটি অব টরন্টোর স্নায়ুবিজ্ঞানী জন পিভার- যিনি এ গবেষণায় নেতৃত্ব দেন। তিনি যোগ করেন, পারকিনসন’স রোগ বিকশিত হতে যাচ্ছে এটার বেশ পরিচিত লক্ষণ আরইএম বিহেভিয়ার ডিসঅর্ডার (আরবিডি)।

২০১৩ সালের আরো দুটি গবেষণায়ও পাওয়া যায় যে, ৮০ শতাংশ আরবিডি রোগীর এক দশকের মধ্যেই নিউরোজেনারেটিভ ডিসঅর্ডার বিকশিত হয়, কিন্তু এই দুই গবেষণা শুধু উভয়ের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক দেখাতে সমর্থ হয়েছিল। কিন্তু ২০১৭ সালে কানাডিয়ান নিউরো সায়েন্স মিটিংয়ে উপস্থাপিত সবচেয়ে সাম্প্রতিক গবেষণা এর কারণ প্রকাশ করেছে।

আরবিডিতে যারা ভুগে এটি তাদের জন্য ভীতিপ্রদ হলেও এই কন্ডিশনটি চিকিৎসকদের শনাক্ত করতে সাহায্য করবে যে কারা অন্যান্য নিউরোডিজেনারেটিভ ডিসঅর্ডারের সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে আছে। পিভার বলেন যে তার গবেষণার পরবর্তী পর্যায়ে একটি ড্রাগ থেরাপি ডেভেলপ করা হবে যা আরবিডি নির্ণীত হয়েছে এমন রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হবে। তিনি বলেন, ‘এই থেরাপি আরবিডি রোগীদের নিরাময় দিতে পারবে না, কারণ এই ডিসঅর্ডার সৃষ্টিকারী মস্তিষ্ক কোষ ইতোমধ্যে ড্যামেজ হয়ে গেছে। কিন্তু এই থেরাপি এই রোগ মস্তিষ্কের অন্যান্য অংশে ছড়ানো প্রতিরোধ করতে পারবে।’

নিউরোডিজেনারেটিভ ডিসঅর্ডার নির্মূল করতে বিজ্ঞানীদের এখনো অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। কিন্তু তাদের জ্ঞাত এমন কিছু বিষয় রয়েছে যা এসব কন্ডিশন প্রতিরোধে সাহায্য করতে পারে।

তথ্যসূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১ নভেম্বর ২০১৮/ফিরোজ

Walton Laptop
 
     
Marcel