ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ০৪ জুন ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ২১ ১৪৩৩ || ১৯ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

ভারতের শেয়ার বাজার থেকে কোটি কোটি ডলার নিয়ে যাচ্ছে বিদেশি সংস্থাগুলো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:৪৭, ৪ জুন ২০২৬   আপডেট: ১৮:০৮, ৪ জুন ২০২৬
ভারতের শেয়ার বাজার থেকে কোটি কোটি ডলার নিয়ে যাচ্ছে বিদেশি সংস্থাগুলো

বিদেশি সংস্থাগুলো ভারতের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির জন্য লাইন ধরছে। বিষয়টি দেখে ভারতের অত্যন্ত আকর্ষণীয় প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) বাজারকে অপ্রতিরোধ্য মনে হতে পারে। কিন্তু এই তাড়াহুড়োর কারণ দ্রুত বর্ধনশীল বাজারে ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য তহবিল সংগ্রহ করা নয়; এর মূল উদ্দেশ্য হলো শত শত কোটি ডলার প্রতিষ্ঠানগুলোর সদর দপ্তরে ফেরত পাঠানো। 

ভারতীয় বাজার গবেষণা সংস্থা প্রাইম ডেটাবেসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সাল থেকে মুম্বাইতে তাদের ভারতীয় ইউনিট তালিকাভুক্ত করা ছয়টি বিদেশি কোম্পানির মধ্যে মাত্র একটি নতুন তহবিল সংগ্রহ করেছে, বাকি সবগুলোই সম্পূর্ণরূপে সেকেন্ডারি অফারিং বা অফার ফর সেল (ওএফএস) হিসেবে সম্পন্ন হয়েছে, যেখানে বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডাররা কোনো নতুন তহবিল সংগ্রহ না করেই জনসাধারণের কাছে তাদের শেয়ার বিক্রি করে দেন।

আরো পড়ুন:

তথ্য থেকে দেখা গেছে, ভারতে দীর্ঘদিন ধরে বিনিয়োগকারী কোম্পানিগুলোর বিদেশি মূল সংস্থাগুলো এই ধরনের সেকেন্ডার -অফারিং আইপিও-এর মাধ্যমে প্রায় ৫০০ কোটি ডলার পকেটস্থ করেছে, যার মধ্যে হুন্দাই মোটর এবং এলজি ইলেকট্রনিক্স এই অর্থপ্রদানের ৮০ শতাংশেরও বেশির অংশীদার। সহজ কথায়, এই আইপিওগুলো থেকে সংগৃহীত প্রতিটি ডলারের বিপরীতে সম্মিলিতভাবে ৫৯ ডলারেরও বেশি অর্থ বেরিয়ে গেছে। এই ধারা অব্যাহত রয়েছে: ওয়ালমার্টের ভারতীয় পেমেন্ট শাখার পরিকল্পিত ১০০ কোটি ডলারের আইপিও এবং মডার্ন টাইমস গ্রুপের স্থানীয় গেমিং ইউনিটের ৩৩ কোটি ৫০ লাখ ডলারের আইপিও- উভয়ই ওএফএস পথেই এগোবে।

চলতি সপ্তাহে, কোকাকোলা জানিয়েছে, তাদের ভারতীয় বোতলজাতকারী সংস্থার পরিকল্পিত তালিকাভুক্তির জন্য এই আমেরিকান সংস্থাটি তাদের শেয়ারের একটি অংশ বিক্রি করবে। ব্যাংকিং সূত্র জানিয়েছে, কার্লসবার্গের পরিকল্পিত ভারতীয় আইপিও-তেও নতুন করে কোনো তহবিল সংগ্রহ করা হবে না - এটিও একটি ওএফএস হবে।

ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতে শেয়ারের আকাশছোঁয়া মূল্যায়নের ফলেই এই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এতে বোঝা যায় যে, ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য নতুন তহবিল সংগ্রহের চেয়ে অনেক বিদেশি কোম্পানির কাছে ভারতীয় বিনিয়োগ থেকে লাভজনক আংশিক প্রস্থানের সম্ভাবনা বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।

শার্দুল অমরচন্দ নামক আইন সংস্থার অংশীদার প্রশান্ত গুপ্ত বলেন, “বৈশ্বিক কোম্পানিগুলো ভারতে তালিকাভুক্ত হতে চাইছে, কারণ এটি তাদের তারল্য জোগানোর পাশাপাশি তাদের মূল কোম্পানির বাজার মূলধনের ওপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।”

এই সংস্থাটি হুন্দাই এবং এলজি উভয়কেই তাদের ওএফএস-কাঠামোর আইপিও-তে পরামর্শ দিয়েছিল।

মডার্ন টাইমস মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, অন্যদিকে কার্লসবার্গ বলেছে যে তারা “শেয়ারহোল্ডারদের মূল্য বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন বিকল্প খতিয়ে দেখছে, যার মধ্যে সম্ভবত একটি ভারতীয় আইপিও-ও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।”

ওয়ালমার্টের ভারতীয় শাখা, ফোনপে, হুন্দাই, এলজি এবং অন্যান্য কোম্পানিগুলো রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।

ঢাকা/শাহেদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়