হাদি হত্যা নিয়ে মন্তব্যের জেরে মমতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ
কলকাতা ব্যুরো || রাইজিংবিডি.কম
বাংলাদেশের ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি হত্যা প্রসঙ্গে মন্তব্যের জেরে এবার রাষ্ট্রদ্রোহিতাসহ জামিন অযোগ্য ধারায় একাধিক অভিযোগ দায়ের করা হলো পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের আইনজীবী রিংকু চ্যাটার্জি সিং।
অভিযোগকারীর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে জনমনে ঘৃণা তৈরির অপচেষ্টা করেছেন। এছাড়া, বাংলাদেশের একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ভারত সরকার ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জড়িয়ে তার মন্তব্য আন্তর্জাতিক স্তরে দেশের সম্মান ক্ষুণ্ণ করেছে এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সাথে কূটনৈতিক সংকট তৈরি করতে পারে। এই মন্তব্য দুই দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
তাই মমতার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ১৫২, ১৫৩, ১৫৩(এ),১৯১,১৯২,১৯৬,৩৫১,৩৫২,৩৫৩ সহ একাধিক ধারায় এই অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৫২ ধারা দেশের সার্বভৌমত্ব, একতা এবং অখণ্ডতাকে বিপন্নকারী বা ক্ষুণ্ণকারী কার্যকলাপকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে।
১৫৩ ধারা অনুযায়ী, ভারত সরকারের সাথে শান্তিতে থাকা কোনো বিদেশী রাষ্ট্রের সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা, যুদ্ধ করার চেষ্টা করা বা যুদ্ধে সহায়তা করা একটি গুরুতর অপরাধ।
আইনজীবী রিংকু চ্যাটার্জি সিং জানান, অবিলম্বে মমতার এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। ৮ জুন হাইকোর্ট খুললেই সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তিনি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির দাবিতে মামলা করবেন ।
প্রসঙ্গত, বিধানসভার নির্বাচনে পরাজয়ের প্রায় এক মাস পর গত মঙ্গলবার প্রথম রাজনৈতিক কর্মসূচিতেই ওসমান হাদি হত্যা প্রসঙ্গ টেনে এনে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন মমতা। তার দাবি, হাদি হত্যাকারীদের রাজ্য পুলিশের এসটিএফ গ্রেপ্তার করার পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ফোন পান তিনি। তাকে বলা হয় এই বিষয়টি যেন বাইরে না জানানো হয়।
মমতা বলেছিলেন, “বাংলাদেশ থেকে একটা বড় খুনিকে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ গ্রেপ্তার করেছিল। যা নিয়ে বাংলাদেশে অনেক আন্দোলন হয়েছিল। অন্য দেশের কথা আমি বলছি না। আমার অধিকারও নেই বলার। কিন্তু আমি যেটা বলতে চাইছে তা হলো, ওই হত্যাকারীরা মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে চলে আসে। বাংলায় আসার পর আমাদের এসটিএফ তাদের ধরে। এইটা তাদের কৃতিত্ব। কিন্তু তারপর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নিজে আমাকে ফোন করে জানিয়েছিলেন, আপনি রাজ্য পুলিশকে জানিয়ে দিন এটা যেন বাইরে না যায়। কারণ এটা দেশের ব্যাপার।”
এরপরই অমিত শাহ এর উদ্দেশে মমতার প্রশ্ন, “কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন? কার কার নাম বেরিয়ে ছিল? আজকের সরকার পরিবর্তন হলেও আমি সবটাই জানি। আমার হৃদয়টাই একটা কথার ভান্ডার। তথ্য ভান্ডার।”
মমতা বলেন, “কিন্তু এতদিন আমি বলিনি। কিন্তু আজকে অত্যাচারে শেষ সীমায় গেছে বলে আমাকে মুখ খুলতে হয়েছে। আমি সেই নামটা বলতে চাইছি না, বললে বাংলাদেশ উত্তাল হয়ে যাবে। আমি বাংলাদেশকে ভালবাসি। দেশের স্বার্থে ওই নাম আমি বলবো না।”
ঢাকা/সুচরিতা/শাহেদ
হাম ও উপসর্গে আরো ৪ শিশুর মৃত্যু