গরমে হাঁসফাঁস, স্বস্তি দিচ্ছে তালের শাঁস
জাহিদুল হক চন্দন, মানিকগঞ্জ || রাইজিংবিডি.কম
মানিকগঞ্জ শহরের বিভিন্নস্থানে তালের শাঁস বিক্রি করতে দেখা যাচ্ছে।
মানিকগঞ্জে তীব্র গরমে জনজীবনে হাঁসফাঁস অবস্থা। তাপ প্রবাহ থেকে স্বস্তি পেতে মানিকগঞ্জ শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে তালের শাঁসের চাহিদা বেড়েছে। ভোরে ঝিটকা বাজার থেকে তাল এনে দিনভর বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। পানিসমৃদ্ধ এই মৌসুমি ফলে স্বস্তি খুঁজছেন মানুষ।
মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড, কাঁচাবাজার, হাসপাতাল গেট, বেউথা, বয়েজ স্কুল মাঠের গেট, বাজার ব্রিজ, জরিনা কলেজ মোড়, চাঁন মিয়া লেন, গার্লস স্কুল রোড, রিজার্ভ ট্যাংকসহ শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে তালের শাঁস বিক্রেতাদের দোকানে ভিড় দেখা গেছে। তীব্র গরমে এই মৌসুমি ফলের চাহিদা বাড়ায় শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তালের শাঁস বিক্রির অস্থায়ী দোকান বসেছে।
বিক্রেতারা জানান, তারা মূলত হরিরামপুর উপজেলার ঝিটকা বাজার থেকে ভোরে তাল কিনে এনে শহরের বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করেন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তাদের এই ব্যবসা চলছে।
চাঁন মিয়া লেন এলাকায় তাল বিক্রি করা কাশেম মিয়া বলেন, ‘‘ভোরে ঝিটকা বাজার থেকে তাল কিনে আনি। শহরে সকাল ১১টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত বিক্রি করি। প্রতিদিন প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০টি তাল বিক্রি হয়।’’
বাসস্ট্যান্ড এলাকার আরেক বিক্রেতা শাহিনুর রহমান জানান, প্রতি তাল ৩০ টাকা করে বিক্রি করছেন। গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিক্রিও বেড়েছে। এখন শহরের বিভিন্ন জায়গায় নতুন নতুন বিক্রেতা বসছে।
ক্রেতারাও গরমে তালের শাঁসকে স্বস্তির উপায় হিসেবে দেখছেন। দাশড়া এলাকার বাসিন্দা পিয়াস মাহমুদ বলেন, ‘‘প্রতিদিন পরিবারের জন্য ৬-৭টি তাল কিনে নিয়ে যাই। বাচ্চারাও খুব পছন্দ করে। এই গরমে তালের শাঁসে কিছুটা হলেও আরাম পাওয়া যায়।’’ গরমের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তালের শাঁস মানুষের জন্য যেমন স্বস্তি এনে দিচ্ছে, তেমননি ব্যবসাও ভালো হচ্ছে।
মানিকগঞ্জ জেলা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. এ বি এম তৌহিদুজ্জামান সুমন বলেন, তালের শাঁসে প্রচুর পানি ও প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান রয়েছে, যা শরীরের পানিশূন্যতা দূর করতে সহায়ক। গ্রীষ্মের তাপ প্রবাহে শরীরকে সতেজ রাখতে এটি সহজলভ্য ও পুষ্টিকর খাবার।
ঢাকা/বকুল
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের লাল টেলিফোনের তার চুরির ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই