নেতিবাচক ঘটনার ইতিবাচক জবাব
দাদির কবরের ফুলগাছ চুরির জবাবে অভিনব উদ্যোগ শামীমের
ফরিদপুর প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
হাওলাদার শামীম আহমেদ
দাদির কবরের পাশে যত্নে রোপণ করা তিনটি ফুলগাছ চুরি হয়ে যাওয়ায় পুরো গ্রামে ফুল গাছের চারা রোপণ করেছেন হাওলাদার শামীম আহমেদ। চুরির পর ক্ষোভ প্রকাশ না করে চোরের মনে অনুশোচনা জাগাতে তিনি অভিনব এ উদ্যোগ নেন। শামীম ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার পূর্বশ্যামপুর গ্রামের বাসিন্দা।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শামীমের দাদি মারা যায় ২০২৪ সালের ১৮ মার্চ। কয়েক মাস আগে দাদির কবরের পাশে শখ করে হাসনাহেনা, কামিনী ও শিউলী ফুলগাছ রোপণ করেন শামীম। নিয়মিত পরিচর্যা ও যত্নে গাছগুলো বড় হয়ে উঠছিল এবং সম্প্রতি একটি গাছে ফুল ফোটে। কিন্তু ফুল ফোটার পরদিন সকালে কবরস্থানে গিয়ে শামীম দেখেন, ফুলসহ তিনটি গাছ-ই কে বা কারা চুরি করে নিয়ে গেছে।
দাদির কবরের স্মৃতিজড়ানো গাছ হারিয়ে স্বাভাবিকভাবেই মনে কষ্ট পান শামীম। তবে চোরের প্রতি ক্ষুব্ধ না হয়ে বিষয়টি তিনি ইতিবাচকভাবে দেখেন। শামীমের ভাষায়, যে ব্যক্তি গাছগুলো চুরি করেছে, সে নিশ্চয়ই ফুল ভালোবাসে। আর এই ভাবনা থেকেই আমি সিদ্ধান্ত নেই, শুধু নিজের বাড়ির আঙিনায় নয়, গ্রামজুড়ে ফুলের সুবাস ছড়িয়ে দেব।
যেমন ভাবনা তেমন কাজ। নিজস্ব অর্থায়নে শ্রমিক নিয়োগ করে পূর্ব শ্যামপুর গ্রামের প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কের দুই পাশের পাঁচশ বাড়ির সামনে তিনটি করে মোট দেড় হাজার হাসনাহেনা, কামিনী ও শিউলি ফুলের গাছ রোপণ করেন শামীম।
বুধবার (৩ জুন) সরেজমিনে দেখা যায়, শামীম বাড়ি বাড়ি ঘুরে গাছ রোপণ করছেন। শুধু তাই নয়, তিনি বাড়ির বাসিন্দাদের গাছগুলো নিয়মিত পরিচর্যা করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছেন। শামীমের এই অভিনব উদ্যোগে দারুণ খুশি এলাকাবাসী।
স্থানীয় বাসিন্দা তানভীর তুহিনসহ কয়েকজন জানান, ব্যক্তিগত ক্ষতি থেকে পুরো গ্রামের জন্য এমন সুন্দর একটি উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। নেতিবাচক ঘটনার এমন ইতিবাচক সমাধান সমাজে খুব কমই দেখা যায়। এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ অন্যদের জন্যও অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। গ্রামবাসীদের আশা, আর কয়েক মাস পরেই যখন গাছগুলোতে ফুল ফুটবে, তখন পুরো গ্রাম সুগন্ধে ও সৌন্দর্যে ভরে উঠবে।
শামীম আহমেদ বলেন, ‘‘আমি চোরকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করিনি। বরং এমন ব্যবস্থা করেছি যাতে পুরো গ্রামেই ফুলগাছ থাকে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে হয়তো চোরের বাড়িতেও আমার রোপণ করা গাছ পৌঁছে গেছে। সে যখন দেখবে, যে গাছের জন্য সে চুরি করেছিল, তা এখন তার নিজের দুয়ারেই হাজির, তখন সে যদি অনুতপ্ত হয় এবং ভবিষ্যতে আর এমন কাজ না করে, তবেই আমার কষ্ট সার্থক হবে।’’
শুধু চোরকে শিক্ষা দেওয়া নয়, বরং পুরো এলাকা ফুলে ভরিয়ে তোলাই লক্ষ্য। আগামীতে সদরপুর উপজেলার প্রতিটি গ্রামে ফুল ও ঔষধি গাছ রোপণের পরিকল্পনা আছে বলে জানান শামীম।
ঢাকা/তামিম
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের লাল টেলিফোনের তার চুরির ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই