ঢাকা     বুধবার   ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ ||  আশ্বিন ১৩ ১৪২৯ ||  ০১ রবিউল আউয়াল ১৪১৪

রোজার তুলনায় এখন তরমুজের দাম অর্ধেকের কম

মেসবাহ য়াযাদ || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:০৪, ১৫ মে ২০২২   আপডেট: ১৭:১৭, ২ জুন ২০২২
রোজার তুলনায় এখন তরমুজের দাম অর্ধেকের কম

তিন-চার দিন ধরে রাজধানীর বাজারে তরমুজের দাম অর্ধেকেরও কম। রোজার সময় যে তরমুজ ৩০০ টাকার ওপরে বিক্রি হয়েছে, বর্তমানে সেই আকারের তরমুজ সর্বোচ্চ ১৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

রোববার (১৫ মে) কারওয়ান বাজার, হাতিরপুল ও নিউমার্কেট ঘুরে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এখন বাজারে যেসব তরমুজ পাওয়া যাচ্ছে তার বেশিরভাগ খুলনা ও সাতক্ষীরার। এর পাশাপাশি বরিশাল অঞ্চলের তরমুজও পাওয়া যাচ্ছে। তবে, বরিশালের তরমুজের চেয়ে খুলনা বা সাতক্ষীরার তরমুজের স্বাদ অনেক ভালো। এসব তরমুজ আকারে তুলনামূলক ছোট হলেও চাহিদা অনেক বেশি।

হঠাৎ করে তরমুজের দাম কমে অর্ধেক হওয়ার কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বৃষ্টিতে তরমুজের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কয়েকদিন ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি হওয়ায় চাষিরা খেত থেকে বেশি পরিমাণে তরমুজ তুলে বাজারে সরবরাহ করছেন। বাজারে সরবরাহ বেড়ে যাওয়াই তরমুজের দাম কমার অন্যতম কারণ।

তাছাড়া, এখন বাজারে মৌসুমি ফল লিচু এবং আম ওঠা শুরু হয়েছে। রোজার সময় গ্রীষ্মের ফল হিসেবে কেবল তরমুজই পাওয়া যেতে। এখন অন্যান্য ফলের সরবরাহ থাকায় তরমুজের চাহিদায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। রোজায় তরমুজের যে বাড়তি চাহিদা ছিল, সেটাও এখন নেই। সব মিলিয়ে রোজার সময়ের তুলনায় এখন তরমুজের চাহিদা অর্ধেকে নেমে গেছে। চাহিদা কমায় দামও কমে গেছে।

এদিকে, গত দুই-তিন বছরের মতো এবারও মৌসুমের প্রথমে খুচরা বাজারে তরমুজ কেজি হিসেবে বিক্রি হয়েছে। তরমুজের আকার ও মার্কেটভেদে রোজায় তরমুজের কেজি ছিল ৪০ থেকে ৫০ টাকা। এখন পিস হিসেবে বিক্রি হচ্ছে। ৫-৬ কেজি ওজনের একটি তরমুজ এখন বিক্রি হচ্ছে ১২৫ থেকে ১৫০ টাকায়। ঈদের আগে এই তরমুজ বিক্রি হয় ৩০০ টাকার ওপরে।

এখন বড় তরমুজ পাওয়া যাচ্ছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকার মধ্যে। ঈদের আগে এই সাইজের তরমুজ বিক্রি হয়েছে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায়। বর্তমানে ছোট তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৮০ টাকায়, যা ঈদের আগে ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা বিক্রি হয়েছে।

তরমুজের দাম কমে যাওয়ার বিষয়ে কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী শফিক বলেন, ‘ঈদের আগে থেকেই বাজারে খুলনার তরমুজ আসতে শুরু করেছে। এখন বাজারে যে তরমুজ পাওয়া যাচ্ছে তার বেশিরভাগ খুলনার। আকারে ছোট হলেও এই তরমুজের চাহিদা বেশি। আর বরিশালের তরমুজ আকারে বড় ও দেখতে সুন্দর হলেও চাহিদা কম।’

তিনি বলেন, ‘খুলনা ও বরিশালের সব ধরনের তরমুজের দাম এখন অনেক কমে গেছে। রোজার মধ্যে বরিশালের যে তরমুজ ৫০০ টাকা বিক্রি হয়েছে, এখন তা ২০০ টাকায়ও বিক্রি হচ্ছে না। খুলনার কিছু তরমুজ ঈদের আগে ৪০০ টাকার ওপরে বিক্রি হয়েছে। সেই তরমুজ এখন ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।’

হাতিরপুলের ফল ব্যবসায়ী মান্নান বলেন, ‘তরমুজের দাম অনেক কমে গেছে। আগে যে তরমুজ ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি করেছি, এখন সেই তরমুজ ১৫০ টাকায় বিক্রি করছি। আগের তুলনায় এখনকার তরমুজ লাল ও মিষ্টি বেশি। তবে মান ভালো ও দামে কম হলেও এখন বিক্রি সেভাবে হচ্ছে না।’

নিউমার্কেট এলাকায় তরমুজ কিনতে আসা ব্যাংকার জাহান পন্না বলেন, ‘২০০ টাকা দিয়ে আজ যে তরমুজ কিনেছি, ঈদের আগে একই সাইজের তরমুজ ৪০০ টাকা দিয়ে কিনতেও অনেক দর কষাকষি করতে হয়েছে। এখন তরমুজের দাম বেশ কম।’

কারওয়ান বাজার থেকে ১৫০ টাকা দিয়ে তরমুজ কেনা তেজতুরি বাজারের বাসিন্দা তোকাব উদ্দিন বলেন, ‘ঈদের দুই দিন আগে এরকম ৬-৭ কেজি ওজনের একটা তরমুজ ৩৫০ টাকা দিয়ে কিনেছিলাম। আজ কিনলাম অর্ধেকেরও কম দামে। তরমুজের এমন দাম থাকলে সবাই মৌসুমি এই ফলটা কিনে খেতে পারবেন।’

তরমুজের দামের বিষয়ে নিউমার্কেটের ব্যবসায়ী মো. কোব্বাদ মিয়া বলেন, ‘বর্তমান বাজারের বেশিরভাগ তরমুজ দেখতে সুন্দর না। কোনোটার মুখ চিকন, আবার কোনোটা বাঁকা। এসব তরমুজের আকৃতি ভালো না হলেও স্বাদ কিন্তু ভালো। এখনকার অধিকাংশ তরমুজ লাল ও অনেক মিষ্টি। তবে দাম অনেক কম। ঈদের আগের তুলনায় এখন তরমুজ অর্ধেকের কম দামে বিক্রি হচ্ছে।’

কারওয়ান বাজারের পাইকারি আড়তদার সেলিম মিজি বলেন, ‘তরমুজ নিয়ে চাষি, ব্যাপারী সবাই এখন বিপাকে আছেন। এখন তরমুজ বেচে গাড়িভাড়াও উঠছে না। দেখা যাচ্ছে, জাহাজভাড়া ৯০ হাজার টাকা আর তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ৭০ হাজার টাকা। কয়দিন আগে এক ব্যাপারী ঘাটে জাহাজ রেখে পালিয়ে গেছেন।’

মেয়া/রফিক

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়