পাঁচ কবির পাঁচটি কবিতা
মীর মোস্তাইন বিল্লাহ্ || রাইজিংবিডি.কম
অলংকরণ : অপূর্ব খন্দকার
যে চোখে আগুন জ্বলে
মীর মোস্তাইন বিল্লাহ্
হরিণীর চোখ দিয়ে
হৃদয়টা খুড়ে নিয়ে
প্রজাপতি ডানা মেলে
ছন্দ তুলে হেলেদুলে
হাওয়ায় ভেসে ভেসে
একেবেঁকে হেসে হেসে
সুনামীর ঢউে তুলে
কোথা যাও, যাও চলে!
সুনয়না! কার তরে
চারদিকি আলো করে
যাও তুমি উড়ে উড়ে
আমার হৃদয় চিরে!
চুম্বকত্ব
সাইফুল আহমেদ
দূরে,
আর কতটা দূরে গেলে
কাছে আসবে তুমি?
তুমি বলো, ‘আমরা দুই বিপরীত মেরু,
উত্তর-দক্ষিণ।
দুজনার মাঝে প্রশান্ত, সাহারা
আরও কত কী,
আমাদের হয় নাকো মিল।’
আমি বলি, ‘তাই তো ঠিক,
বিপরীত মেরুকেই তো কাছে টানে চুম্বক।
প্রশান্ত, সাহারা পড়ে থাক
মধ্যার্কষণে পৃথিবীতে ছুটে আসা বস্তুর মতো
আমরা ছুটে আসবো দুজনার পানেই
হৃদয়ে যদি থাকে চুম্বকের টান।’
কবিতাও গুম হবে একদিন
রফিক মুয়াজ্জিন
কবিতাও গুম হবে একদিন
যেমন গুম হয়েছে ভাটিয়ালি, জারি-সারি
মাইকেল জ্যাকসন অপহরণ করেছে বাবার পুঁথি পাঠের সুর
মা-মাসির মসলিন শাড়ি সেই কবে
হেঁচকা টানে খুলেছে বিদেশী বেনিয়া
বোনের বুক-জমিনে সাঁটিয়েছে পুঁজিবাদী বিলবোর্ড
বাবার মতো যে বড় ভাই
ইয়াবা খায় আর
ঘুমাতে ঘুমাতে জেগে থাকে
জেগে জেগে ঘুমায়
কবিতাও গুম হবে একদিন- এই ভেবে
ভাবতে ভাবতে দিন যায়
দিন যায় ভাবতে ভাবতে
আমার আর কবিতা লেখা হয় না।
কী?
আমিনুল ই শান্ত
কোনদিন আচমকা এসে যদি
পাশে এসে দাঁড়াই-
অবিন্যস্ত একটি গোলাপ হাতে।
তবে কী ঠেলে দিবে সমস্ত অভিমান
সমুদ্রের জলে?
ভালোবাসার মর্মবাণী
মানিক মজুমদার
ভরা পূর্ণিমার চাঁদের আলোর মাঝে
সহসা চোখ পড়তেই তোমার মুখচ্ছবি
ভেসে উঠলো।
মায়াবী চাঁদের আলোকচ্ছটা
যেমন-
পৃথিবীর সকল অন্ধকার দূরীভূত করে
তোমার দর্শনে আমিও তেমনি আলোকিত
পুলকিত হই।
অবেলায় হলেও ভালোবাসার মর্মবাণী
আমায় উজ্জীবিত করে,
আমি হারিয়ে যাই গোধূলী বেলায়
কাশফুলে ঘেরা নদী তীরে
নির্জন মাহেন্দ্রক্ষণে।
গভীর নিশিতে চারতলার ব্যালকনিতে
উঁকি মারে অবুঝ নয়ন।
ঘুমজাগা রাত, প্রভাতে তোমারই স্বপ্ন
দিনমান আমাকে রাখে মোহাচ্ছন্ন।
ক্রমশই আমি হারিয়ে যাই-
তোমাতে,
যখনি মুঠোফোনে তোমার ছবিটি ভেসে ওঠে
সুমধুর রিংটোনে-
তখনই ব্যাকুল হয়ে ওঠে হৃদয়;
সুকণ্ঠি প্রিয়ার বাক্যালাপে
শুষ্ক প্রাণে জোয়ার লাগে।
বিদায়ের চুম্বন সর্বাঙ্গে প্রলেপ দিয়ে
অপেক্ষার প্রহর গুনি।
রাইজিংবিডি/ঢাকা/৩০ জুন ২০১৪/তাপস রায়
রাইজিংবিডি.কম