পাঁচ বছরে সমৃদ্ধ অর্থনীতি গড়ার রোডম্যাপ ঘোষণা
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
পাঁচ বছরের মধ্যে সমৃদ্ধ অর্থনীতি বিনির্মাণের লক্ষ্যে একটি মধ্যমেয়াদি অর্থনৈতিক কৌশল ও রোডম্যাপ ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনকালে তিনি এ রোডম্যাপ তুলে ধরেন।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “দেশের বর্তমান বাস্তবতা পর্যালোচনায় স্পষ্ট যে, বিগত সরকারের অনিয়ম, দুর্বল ব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির কারণে অর্থনীতি এখনো নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। তবে, রাজনৈতিক সদিচ্ছা, সঠিক নীতি, কার্যকর সংস্কার এবং বাস্তবমুখী পরিকল্পনার মাধ্যমে এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ সম্ভব বলে সরকার বিশ্বাস করে।”
তিনি বলেন, “অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, বাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং নতুন প্রবৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টিতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। একটি শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ অর্থনীতির ভিত্তি গড়ে ওঠে দেশের প্রতিটি নাগরিকের শ্রম, দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও উৎপাদনশীল সক্ষমতার ওপর। সে কারণে সরকার অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক রূপান্তরের পথে যাত্রা শুরু করেছে, যাতে উন্নয়নের সুফল সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে যায়।”
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, দেশের অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা অর্জন, পুনর্গঠন এবং বিনিয়োগনির্ভর প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে একটি মধ্যমেয়াদি কৌশলগত কাঠামো প্রণয়ন করা হয়েছে। এ কাঠামোর আওতায় ২০৩০-৩১ অর্থবছরের মধ্যে প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করা, মূল্যস্ফীতি ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা, প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ জিডিপির ২ শতাংশে উন্নীত করা এবং মোট বিনিয়োগ জিডিপির ৪০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, “অর্থনীতিতে গতি সঞ্চারের লক্ষ্যে সরকার তিন ধাপে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে। ‘থ্রি-আর (3R) স্ট্র্যাটেজি’ নামে অভিহিত এ কৌশলের প্রথম ধাপ ‘রিকভারি অ্যান্ড স্ট্যাবিলাইজেশন’, যা এক বছরের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে। দ্বিতীয় ধাপ ‘রেস্টোরেশন অ্যান্ড রিকনস্ট্রাকশন’, যা সরকারের প্রথম থেকে তৃতীয় বছরের মধ্যে সম্পন্ন হবে। আর তৃতীয় ধাপ ‘রিকনস্ট্রাকশন ফর অ্যাকসেলারেশন’, যার মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে একটি সমৃদ্ধ অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।”
তিনি বলেন, “পরিকল্পিত সংস্কার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি টেকসই ও সমৃদ্ধ অর্থনীতির পথে এগিয়ে নেওয়াই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।”
ঢাকা/নজরুল/মাসুদ