নবম শতাব্দীর বিস্ময়কর নারী ফাতিমা আল-ফিহরি
সাতসতেরো ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম
ছবি: সংগৃহীত
ফাতিমা আল-ফিহরি ছিলেন ধনী ব্যবসায়ী মুহাম্মদ আল ফিহরির কন্যা। তাদের পরিবার উত্তর আফ্রিকার কারাওয়ান অঞ্চল থেকে মরক্কোর ফেজ শহরে এসে বসবাস শুরু করে। পিতার মৃত্যুর পর ফাতিমা এবং তার বোন মরিয়ম আল ফিহরি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হন। এই সম্পদ ব্যক্তিগত ভোগে ব্যয় না করে তারা সমাজকল্যাণমূলক কাজে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেন। মরিয়ম একটি মসজিদ নির্মাণে অর্থায়ন করেন, আর ফাতিমা প্রতিষ্ঠা করেন এমন একটি শিক্ষাকেন্দ্র, যা পরবর্তীতে বিশ্বের অন্যতম ঐতিহাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হয়।
৮৫৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এক ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠান
খ্রিস্টীয় ৮৫৯ সালে ফাতিমা আল-ফিহরি কারাওইন মসজিদের সঙ্গে যুক্ত একটি শিক্ষাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি পূর্ণাঙ্গ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রূপ নেয় এবং পরিচিতি লাভ করে কারাওইন বিশ্ববিদ্যালয় নামে।
বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইসলামি ধর্মতত্ত্বের পাশাপাশি গণিত, জ্যোতির্বিজ্ঞান, ব্যাকরণ, দর্শন, চিকিৎসাবিজ্ঞান, আইন এবং ভাষাতত্ত্বসহ বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা দেওয়া হতো। মধ্যযুগে এটি উত্তর আফ্রিকা ও ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের অন্যতম প্রধান জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র হিসেবে খ্যাতি অর্জন করে।
জ্ঞানচর্চার আন্তর্জাতিক কেন্দ্র
কারাওইন বিশ্ববিদ্যালয়ে শুধু মরক্কো নয়, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চল থেকেও শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করতে আসতেন। বহু খ্যাতিমান পণ্ডিত ও চিন্তাবিদ এখানে অধ্যয়ন বা গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এর বিশাল গ্রন্থাগার আজও বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন সচল গ্রন্থাগার হিসেবে পরিচিত। বিশ্ববিদ্যালয়টি দীর্ঘ ইতিহাসজুড়ে ইসলামি সভ্যতা, বিজ্ঞান, সাহিত্য ও দর্শনের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এখানকার গবেষণা ও শিক্ষাব্যবস্থা মধ্যযুগীয় ইউরোপীয় জ্ঞানচর্চাতেও প্রভাব ফেলেছিল বলে ইতিহাসবিদদের অনেকেই মনে করেন।
‘কারাওইন’ নামটি এসেছে তিউনিসিয়ার ঐতিহাসিক নগর ‘Kairouan’ থেকে আসা অভিবাসীদের নামানুসারে। ফাতিমা আল-ফিহরির পরিবারসহ ওই অঞ্চলের বহু মানুষ ফেজে এসে বসতি স্থাপন করেছিলেন। তাদের বসবাসের এলাকাকে কেন্দ্র করেই মসজিদ ও পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম হয় “আল-কারাওইন” বা “কারাওইন”।
নবম শতাব্দীতে এই নারীর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এক হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে জ্ঞান বিতরণ করে চলেছে। তার দূরদর্শিতা আজও নারী নেতৃত্ব, শিক্ষা বিস্তার এবং মানবকল্যাণের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিশ্বজুড়ে স্মরণীয়।
ঢাকা/লিপি