Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ০২ ডিসেম্বর ২০২১ ||  অগ্রহায়ণ ১৮ ১৪২৮ ||  ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৩

৪ কোটি টাকার চাল নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-মিলমালিক দ্বন্দ্ব

ঝালকাঠি সংবাদদাতা || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৪:৪১, ৫ জুলাই ২০২০   আপডেট: ১০:৩৯, ২৫ আগস্ট ২০২০
৪ কোটি টাকার চাল নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-মিলমালিক দ্বন্দ্ব

ঝালকাঠির নলছিটিতে বোরো সংগ্রহ কার্যক্রমে স্থানীয় খাদ‌্য বিভাগের সঙ্গে একটি রাইসমিলের চাল দেওয়ার চুক্তি হলেও এখন চার কোটি টাকার চাল গুদামে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। মিল মালিক এজন‌্য ঘুষ না দেওয়ার অভিযোগ আনছেন খাদ্যগুদাম কর্মকর্তার (ওসিএলএসডি) বিরুদ্ধে। আর ওই কর্মকর্তা বলছেন, মানসম্মত না হওয়ার কারণেই ওই চাল গুদামে নেওয়া হচ্ছে না।

এতে চার কোটি টাকার চাল প্রস্তুত করে বিপাকে পড়েছেন সুগন্ধা অটো রাইস অ্যান্ড এগ্রো ফুড প্রসেসিং কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় অটোরাইস মিলের পক্ষ থেকে খাদ্য বিভাগের বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়ে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে খাদ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিল্লুর রহমান খান।

অভিযোগে জানা যায়, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী জেলা খাদ্য বিভাগ ৩৬ টাকা কেজি দরে ১১৯১ মেট্রিকটন চাল সংগ্রহের জন্য উন্নতমানের চাল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘সুগন্ধা অটো রাইস অ্যান্ড এ্গ্রো ফুড প্রসেসিং’ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ৩০ এপ্রিল চুক্তি করে। চুক্তি অনুযায়ী বোরো ধান কিনে চাল উৎপাদন শুরু করে মিল কর্তৃপক্ষ। প্রথম দফায় চাল দিতে গেলে নলছিটি খাদ্য পরিদর্শক (ওসিএলএসডি) গুদামে চাল প্রবেশে বাধা দেন। তিনি মিল কর্তৃপক্ষের কাছে মোটা অঙ্কের ঘুষ দাবি করেন।

পরে ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে গত ২৪ জুন ৫১ মেট্রিকটন চাল গুদামে নেওয়া হয়। বাকিগুলো চালগুলো প্রস্তুত করে পাঠানো হলে আবারও ঘুষ দাবি করে চাল গুদামে প্রবেশ করতে দেয়নি ওই কর্মকর্তা। গুদাম থেকেই চাল মিলে ফেরত নিয়ে আসতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। এ অবস্থায় সরকারের সঙ্গে চার টাকা ভর্তুকি দিয়েও চুক্তি করে বিপাকে পড়েছেন মিল কর্তৃপক্ষ। আগামী ৩০ আগস্টের মধ্যে খাদ্য বিভাগ চাল না নিলে চার কোটি ১০ লাখ টাকা ক্ষতির সম্মুখিন হতে যাচ্ছে জেলার একমাত্র অটোরাইস মিলটি।

মিলটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিল্লুর রহমান খান অভিযোগ করেন, সরকার তাদের সঙ্গে যে চুক্তি করেছে, তা বাস্তাবায়ন না করতে পারলে সিকিউরিটি মানি আটকে যাচ্ছে। এমনকি তাদের প্রতিষ্ঠান কালো তালিকাভুক্তও হতে পারে। আর এসব কিছুর জন্য দায়ী নলছিটি উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক এইচ এম আনোয়ার হোসেন।

অভিযোগ অস্বীকার করে খাদ্য পরিদর্শক জানান, চালের মান ভাল না থাকায়, গুদামে ওঠানো হয়নি। মানসম্মত চাল হলে অবশ্যই তা গ্রহণ করা হবে।


অলোক সাহা/সাজেদ

রাইজিংবিডি.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়