Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     মঙ্গলবার   ১৫ জুন ২০২১ ||  আষাঢ় ১ ১৪২৮ ||  ০৩ জিলক্বদ ১৪৪২

টিকটক-লাইকিতে আপত্তিকর ছবি দেওয়ায় স্ত্রীকে হত্যা

বাগেরহাট প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০০:২০, ৯ মে ২০২১   আপডেট: ০৮:৫৫, ৯ মে ২০২১
টিকটক-লাইকিতে আপত্তিকর ছবি দেওয়ায় স্ত্রীকে হত্যা

বাগেরহাটে টিকটক ও লাইকি অ্যাপসে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও পোস্ট করায় সোমা আক্তার (১৯) নামের এক শিক্ষার্থীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে তার স্বামী। শনিবার (০৮ মে) সন্ধ্যায় বাগেরহাট শহরে দশানী উত্তরপাড়া এলাকায় এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

রাত সাড়ে আটটার দিকে ঘাতক স্বামী আব্দুল্লাহ আল নাইম ওরফে শান্ত (২৩) বাগেরহাট মডেল থানায় আত্মসমর্পণ করেছে। পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।

হত্যার শিকার সোমা আক্তার বাগেরহাট সদর উপজেলার সিংড়াই গ্রামের আব্দুল করিম বকসের মেয়ে। তিনি বাগেরহাট সরকারি পিসি কলেজে ইংরেজি বিভাগে স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষে পড়াশুনা করতেন।

আত্মসমর্পণকারী আব্দুল্লাহ আল নাইম ওরফে শান্ত দশানী উত্তরপাড়া এলাকার গোলাম মোহাম্মাদের ছেলে। তিনি ঢাকায় একটি বাইয়িং হাউসে কাজ করতেন। প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে ২০১৯ সালে নাইম ও সোমার বিয়ে হয়েছিল।

আত্মসমর্পণকারী আব্দুল্লাহ আল নাইম ওরফে শান্তর বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়,  লাইকি এ্যাপস ও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সোমার অ্যাকাউন্ট ছিল। সোমা সেসব অ্যাকাউন্টে আপত্তিকর ছবি পোস্ট করতো। এসব নিয়ে স্বামী নাইমের সাথে তার ঝামেলা ছিল। শনিবার ঢাকা থেকে ফিরে সোমাকে ফোন করে।

বিকেল তিনটার দিকে দশানীস্থ নাইমের বাড়িতে আসে সোমা। সেখানে সন্ধ্যার দিকে ওরনা দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে সোমাকে হত্যা করে নাইম। নাইমের বাবা-মা ঢাকায় থাকায় বাড়িতে শুধু তারা দুজনই ছিল। সোমা পরকিয়া করে বলে পুলিশের কাছে অভিযোগও করেছে তার স্বামী।

সোমার ভাই রাসেল জানান, ছেলে বেকার কিছু করতো না। আমার বোনকে খেতে-পড়তে দিতো না। এসব নিয়ে সংসারে ঝামেলা হতো। এই কারণেও হত্যা হতে পারে।

বাগেরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম আজিজুল ইসলাম বলেন, আমরা মরদেহ উদ্ধার করে বাগেরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছি। হত্যাকারী আব্দুল্লাহ আল নাইম ওরফে শান্ত আমাদের হেফাজতে রয়েছে। সে হত্যার দায় ও কারণ পুলিশকে জানিয়েছে। এরপরেও হত্যার সাথে অন্য কোন বিষয় জড়িত আছে কিনা তা আমরা খতিয়ে দেখছি।

টুটুল/আমিনুল

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়