ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ২৭ জানুয়ারি ২০২২ ||  মাঘ ১৩ ১৪২৮ ||  ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

সার সংকট ও দাম বেশি, বিপাকে হিলির আলু চাষিরা

মোসলেম উদ্দিন, দিনাজপুর  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১২:৪০, ৩০ নভেম্বর ২০২১   আপডেট: ১২:৪৫, ৩০ নভেম্বর ২০২১
সার সংকট ও দাম বেশি, বিপাকে হিলির আলু চাষিরা

দিনাজপুরের হিলিতে শুরু হয়েছে আলু চাষ। মাঠে মাঠে আলুর বীজ রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। আমন ধানের কাটা-মাড়াই শেষের দিকে। আলু চাষে প্রয়োজন বেশি সার। বিশেষ করে জমি তৈরি করার সময় পর্যাপ্ত পরিমাণে বিভিন্ন প্রকার সার প্রয়োজন। আলু চাষিরা অভিযোগ করছেন, স্থানীয় বাজারে সারের সঙ্কট ও কিনতে হচ্ছে বেশি দামে। এদিকে কৃষি দপ্তর বলছে, পর্যাপ্ত পরিমাণ সার রয়েছে ডিলারদের কাছে। ডিলারদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত সার পাচ্ছেন না তারা।

হিলির বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা যায়, আমন চাষিরা ধান কেটে ওই জমি আলু চাষের জন্য প্রস্তুত করছেন। এছাড়াও অনেক জমিতে আলুর বীজও রোপণ করতে শুরু করেছেন তারা। কিন্তু সার সঙ্কট ও দাম বেশি হওয়ায় আলু চাষে অনিহা প্রকাশ করছেন অনেক কৃষক। ডিলারদের নিকট তারা চাহিদার তুলনায় টিএসপি ও ফসফেট সার পাচ্ছেন না। পেলেও বেশি দাম ধরায় বিপাকে পড়ছেন তারা।

হিলির হরিহরপুর গ্রামের আলু চাষি ইমরান আলী রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও আমন ধান কাটার পর এই জমিতে আলু চাষ শুরু করেছি। গতবারও ভালো ফলন পেয়েছি, এবারও ভালো ফলনের আশায় আলুর বীজ রোপণ করতে শুরু করেছি।’

‘আশা করছি আবহাওয়া ভালো থাকলে ভালো ফলন পাবো। তবে টিএসপি ও ফসফেট সারের সঙ্কট দেখা দিচ্ছে এবং ডিলার ও ব্যবসায়ীরা ১১০০ টাকা মূল্যের বস্তা টিএসপি সারের দাম নিচ্ছেন প্রায় ১৬০০ টাকা। সার সরবরাহ ঠিকমতো পেলে আলু চাষে আমরা আরও আগ্রহী হতাম’, বলেন তিনি।

হরিহরপুর গ্রামের আব্দুল রাজ্জাক বলেন, ‘আড়াই বিঘা জমির আমন ধান কাটা-মাড়াই শেষ। এই আড়াই বিঘাতেই আলুর চাষ করেছি, প্রয়োজনীয় সব সার দিয়ে মাটি তৈরি করে বীজ রোপণ করছি। কিন্তু সার ঠিকমতো পাচ্ছি না, যদিও পাচ্ছি তা আবার বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।’

হিলির হরিহরপুর বাজারের সারের ডিলার মিজান বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের এলাকায় আলু ও সরিষার মৌসুম চলছে। এসব ফসল ফলাতে কৃষকের প্রচুর সারের প্রয়োজন হয়ে থাকে। তবে তাদের চাহিদা অনুযায়ী ১০ ভাগ সারও আমরা পাচ্ছি না। ফলে কৃষকেরা হয়রানির শিকার হচ্ছে। তবে আমরা কৃষকদের কাছ থেকে সারের মূল্য বেশি নিচ্ছি না।’

হাকিমপুর (হিলি) উপজেলা কৃষি অফিসার ড. মমতাজ সুলতানা বলেন, ‘আলু চাষের জন্য হিলির ৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ১৯টি সারের ডিলার আছে। তাদের নিকট পর্যাপ্ত সার রয়েছে। সারের কোনো সঙ্কট নেই। তবে যদি কোনো সারের ডিলার অনিয়ম কিংবা দাম বেশি নেয়, তা প্রমাণ পেলে তাদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’

/মাহি/

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়