ঢাকা     বুধবার   ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ১৪ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

গাইবান্ধায় থামছেই না সার পাচার, এবার ট্রাকভর্তি সার জব্দ 

গাইবান্ধা প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৫:৩০, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬  
গাইবান্ধায় থামছেই না সার পাচার, এবার ট্রাকভর্তি সার জব্দ 

জব্দকৃত সারবোঝাই মিনি ট্রাক।

গাইবান্ধায় এবার পাচারের সময় সারবোঝাই একটি মিনি ট্রাক জব্দ করেছে সদর উপজেলা প্রশাসন। ওই ট্রাকে ২০০ বস্তা ইউরিয়া সার ছিল।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাতে জেলা শহরের কদমতলী এলাকা থেকে ট্রাকটি জব্দ করা হয়।

আরো পড়ুন:

গাইবান্ধা সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাহাঙ্গীর আলম গণমাধ্যমকে জানান, জেলার পলাশবাড়ি উপজেলার ডিলার মেসার্স রাম চন্দ্র সাহা মহদীপুর ইউনিয়নের জন্য বরাদ্দকৃত সার সদর উপজেলার তুলসীঘাট বাফার গোডাউন থেকে উত্তোলন করে মহদীপুর ইউনিয়নে না নিয়ে সদর উপজেলার মাঠেরহাটের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। পথে শহরের কদমতলী এলাকায় স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তারা সারবোঝাই ট্রাক ও চালককে আটক করে কৃষি অফিসে খবর দেন।

খবর পেয়ে গাইবান্ধা সদর উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আটককৃত ২০০ বস্তা সারসহ ট্রাকটি সদর উপজেলা পরিষদে নিয়ে যান। পরে উপজেলা পরিষদে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। 

ট্রাক চালক মিন্টু মন্ডলকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাহাঙ্গীর আলম। জব্দকৃত ২০০ বস্তা সার জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালকের জিম্মায় দেওয়া হয়। 

দণ্ডিত মিন্টু মন্ডল সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের বালুয়াবাজারের ওয়াহেদ আলীর ছেলে।

গাইবান্ধা সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার মো. জাহাঙ্গীর আলম বাবু জানান, জব্দ করা সারের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগেও ঘটেছে সার পাচার
চলতি বছরের গত ১৭ জানুয়ারি শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে গাইবান্ধা সদর উপজেলার খোলাহাটি ইউনিয়নের গাইবান্ধা-সুন্দরগঞ্জ সড়কের কদমতলীতে ভ্যানগাড়িসহ ২০ বস্তা সার জব্দ করে সদর উপজেলা কৃষি বিভাগ। 

পরদিন রবিবার সকালে সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাকিবুল আলম ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাহাঙ্গীর আলম বাবুর নেতৃত্বে সদর উপজেলার তুলসীঘাট বাজারে অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেসময় খুচরা সার ব্যবসায়ী খাজা মিয়া, শাহাদাত হোসেন ও নির্মল বাবুর ঘর থেকে ৩৪ বস্তা সার (ডিএপি) জব্দ করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক করা হয় এবং ২০ হাজার টাকা নগদ জরিমানা করা হয়। 

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার তুলসীঘাট বাজারের খুচরা সার ব্যবসায়ী খাজা মিয়ার দোকান ঘর থেকে ২০ বস্তা ডিএপি সার ব্যাটারিচালিত ভ্যানগাড়িতে করে কামারজানি নৌ-বন্দরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। পথে সদর উপজেলার খোলাহাটি ইউনিয়নের গাইবান্ধা-সুন্দরগঞ্জ সড়কের কদমতলীতে পৌঁছালে সারবাহী ভ্যানগাড়িটি দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। 

ভ্যানে ঢেকে রাখা সারগুলোর বিক্রির রশিদ দেখাতে না পারলে স্থানীয়রা তাৎক্ষণিক বিষয়টি কৃষি কর্মকর্তাকে অবহিত করে। খবর পেয়ে গাইবান্ধা সদর উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে ২০ বস্তা সার জব্দ করে খোলাহাটি ইউনিয়ন পরিষদের জিম্মায় রাখেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এর আগেও এই একই পথে রাতে পাচারের সময় সারভর্তি একটি ট্রাক এই একই স্থানে (কদমতলী) আটক করেছিল স্থানীয় লোকজন। সেসময় অভিযোগ করার পরেও ওই সার ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থাই নেয়নি কর্তৃপক্ষ। এসব সার কামারজানি ঘাট দিয়ে নৌপথে কুড়িগ্রামে পাচার করা হয়। কালোবাজারীরা এই পথে দীর্ঘদিন ধরে সার পাচার করে আসছে।

বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির নেতা গোলাম রব্বানী মুসা বলেন, “এলাকায় নিয়মিত সারসংকট চলছে। ডিলারের কাছে সার পাওয়া যায় না, পেলেও অতিরিক্ত দামে কিনতে হয়। অথচ রাতের আঁধারে গোপনে অহরহ সার পাচার হচ্ছে।”

তিনি আরো বলেন, “কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় অবৈধভাবে সার পাচার ও কালোবাজারির বিরুদ্ধে নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। লোক দেখানো জরিমানা করে কোন লাভ নেই।” 

কৃষি কর্মকর্তা, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা এবং ব্যবসায়ীর যোগসাজশেই সার পাচার হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

বারবার সার পাচার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে গাইবান্ধা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাকিবুল আলম বলেন, “বারবার ডিলারদের বলার পরও তারা অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধ করছে না। অবৈধভাবে সার পাচারের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।”

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আতিকুল ইসলাম বলেন, “জেলায় বর্তমানে ২৬৫ জন ডিলার আছে। এর বাইরেও খুচরা ডিলার রয়েছে। সবাইকে মনিটরিং করা সম্ভব হচ্ছে না। এখন পর্যন্ত বেশ কয়েকজন ডিলারকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। মনিটরিং করার পাশাপাশি অবৈধ সার পাচারের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

ঢাকা/মাসুম/এস

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়