ঢাকা     শনিবার   ১৪ মার্চ ২০২৬ ||  ফাল্গুন ৩০ ১৪৩২ || ২৪ রমজান ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

শাস্তি পেলেন সালমান আগা

ক্রীড়া প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:৪২, ১৪ মার্চ ২০২৬   আপডেট: ১৭:৪৪, ১৪ মার্চ ২০২৬
শাস্তি পেলেন সালমান আগা

বাংলাদেশের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের রান আউটের পর মেজাজ হারিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে শাস্তি পেলেন পাকিস্তানের ব্যাটসম্যান সালমান আগা। 

গতকাল মিরপুরে বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে রান আউটের পর প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের সঙ্গে অসদাচরণ এবং গ্লাভস ও হেলমেট মাটিতে ছুড়ে মারেন সালমান। তবে সালমান শাস্তি পেয়েছেন কেবল গ্লাভস ও হেলমেট ছুড়ে মারায়। প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের সঙ্গে অসদাচরণ হয়েছে ভুল বোঝাবুঝিতে।

এ ঘটনায় পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানকে তিরস্কার ও একটি ডিমেরিট পয়েন্ট দেওয়া হয়েছে। ম্যাচে দায়িত্ব পালন করা ম্যাচ রেফারি নিয়ামুর রশিদ রাহুল সালমানের শাস্তির বিষয় নিশ্চিত করেছেন, ‘‘নির্দিষ্ট ঘটনাটি মাঠ ছাড়ার সময় ক্রিকেট সরঞ্জামের অবমাননা সংক্রান্ত। সালমান আগার ক্ষেত্রে এমন আচরণের কোনো পূর্ব ইতিহাস নেই। বিচারের সময় আমাদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হয়। ফলে আমরা একটি তিরস্কার এবং একটি ডিমেরিট পয়েন্ট দিয়েছি।’’

ম্যাচে যা ঘটেছিল

৩৯তম ওভারের চতুর্থ বলের ঘটনা। মিরাজের শর্ট বল ফরোয়ার্ড ডিফেন্স করেছিলেন রিজওয়ান। বল ঠেকিয়ে রান আটকে রাখতে মিরাজ ডান পা এগিয়ে দেন। ততক্ষণে ক্রিজের বাইরে ননস্ট্রাইক প্রান্তে থাকা সালমান। দুজনের ধাক্কা লেগে যায় মুহূর্তেই। বল থেমে যায় মিরাজের পায়ে লেগে।

মিরাজকে বল তুলে দিতে চেষ্টা করেন সালমান। কিন্তু বল দ্রুত গতিতে তুলে মিরাজ ভাঙেন স্টাম্প। আবেদন করেন রান আউটের। আম্পায়ার তানভীর তৃতীয় আম্পায়ারের স্বরণাপন্ন হন এবং তৃতীয় আম্পায়ার কুমার ধর্মাসেনা রিপ্লে দেখে ৬২ বলে ৬৪ রান করা সালমানকে আউট দেন।

আউট হয়ে নিজের মেজাজ হারান সালমান। মিরাজকে আঙুল তুলে কথা বলতে দেখা যায় তাকে। লিটনও এগিয়ে এসে সালমানকে পাল্টা জবাব দেন। সালমান নিজের মেজাজ স্থির রাখতে পারেননি। ড্রেসিংরুমে ফেরার পথে তার অবয়ব ছিল রাগান্বিত। ড্রেসিংরুমের আগে নিজের গ্লাভস, হেলমেট ছুঁড়ে ফেলেন। ব্যাট আঘাত করেন মাটিতে। তাকে আউট হওয়ায় ড্রেসিংরুম থেকে বেরিয়ে কোচ মাইক হেসনকে কথা বলতে দেখা যায় চতুর্থ আম্পায়ার মাহমুদুর রহমান মুকুলের সঙ্গে।

রান আউট পুরোপুরি বৈধ হয়েছে। বল তখনও ডেড হয়নি। মিরাজ বল তুলে রান আউট করে চতুরতা দেখিয়েছেন। সালমান ডেড হওয়ার আগেই যদি বল নিজের হাতে তুলে নিতেন তাহলে বাংলাদেশ ‘অবস্ট্রাক্টিং দ্যা ফিল্ড’ বা ‘হ্যান্ডলড দ্য বল’ আউটও চাইতে পারতো। তাহলেও আউট হতেন সালমান।

কিন্তু মিরাজ তাৎক্ষণিকভাবে বল নিয়ে স্টাম্প ভেঙে দেখিয়েছেন গেম অ্যাওয়ারনেস। সালমান ক্রিজের বাইরে আছেন তা বুঝে গিয়ে চতুরতা দেখিয়েছেন। যেখানে স্পিরিট অব দ্য গেমের কোনো সম্পর্ক নেই। বরং মিরাজের উপস্থিত বুদ্ধিরই প্রশংসা করতে হবে।

‘অ্যাবিউজিং অব ক্রিকেট ইকুপমেন্ট’ অভিযোগ সালমান মেনে নেওয়ায় শুনানির প্রয়োজন হয়নি। 

উল্লেখ্য, আইসিসি কোড অব কন্ডাক্টের ২.২ ধারা অনুযায়ী এই শাস্তি দেওয়া হয়েছে, যা 'আন্তর্জাতিক ম্যাচ চলাকালীন ক্রিকেট সরঞ্জাম বা পোশাক, মাঠের সরঞ্জাম বা ফিক্সচার এবং ফিটিংসের অবমাননার সঙ্গে সম্পর্কিত।

ম্যাচে পাকিস্তান ১২৮ রানে বাংলাদেশকে হারিয়ে তিন ম্যাচ সিরিজে ১-১ এ সমতা এনেছে। সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেটি আগামীকাল রোববার মিরপুরেই অনুষ্ঠিত হবে। 
এদিকে এমন ঘটনার জন‌্য বাংলাদেশের স্পোর্টসম্যানশিপকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন সালমান। মিরাজের জায়গায় তিনি থাকলে এমন রান আউট কখনোই করতেন না বলে দাবি তুলেছেন। সঙ্গে এ-ও বলেছেন, ওই বলে রান নেওয়ার সুযোগ থাকলেও নিতে নিতেন না।

তার কথায়, ‘‘আমি এমন একজন, যে সব সময় আইন অনুসরণ করতে চাই। কিন্তু যখন এটা স্পোর্টসম্যানশিপ স্পিরিটের বিষয় হয়, তখন এটাকেই ওপরে রাখতে হবে। পরিস্থিতি যেমনই হোক। সে যা করেছে, যদি মনে করে ঠিক, তাহলে তা–ই। কিন্তু যদি আমার দৃষ্টিভঙ্গি জানতে চান, আমি হয়তো ভিন্ন কিছু করতাম, স্পোর্টসম্যান স্পিরিটটাকেই বেছে নিতাম।’’

বাংলাদেশের ব‌্যাটসম‌্যান লিটনের দাবি, স্পোর্টসম্যানশিপ দেখানোর কোনো সুযোগই ছিল না।

লিটন বলেছেন, ‘‘প্রথমত, এখানে কেউ চ্যারিটি লিগ খেলতে আসেনি। এটা আন্তর্জাতিক ম্যাচ। যেহেতু নিয়মে আছে আউট, তার মানে আউট। আমি কোনো দিক থেকেই দেখিনা এখানে স্পোর্টসম্যানশিপ নষ্ট হওয়ার বা অন্য কিছু। যে যার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত দিতেই পারে। খেলোয়াড় হিসেবে আমাদের কাছে মনে হয়েছে এটা আউট, তো আউট।’’

ঢাকা/ইয়াসিন 

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়