ঢাকা     শুক্রবার   ০১ জুলাই ২০২২ ||  আষাঢ় ১৭ ১৪২৯ ||  ০১ জিলহজ ১৪৪৩

‘পদ্মা সেতু খুললে বাসা থেকে ঢাকায় অফিস করবো’

শেখ মোহাম্মদ রতন, মুন্সীগঞ্জ || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৮:১৬, ২৬ মে ২০২২   আপডেট: ১৬:২১, ২৬ মে ২০২২
‘পদ্মা সেতু খুললে বাসা থেকে ঢাকায় অফিস করবো’

পদ্মা সেতু

পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ শেষ। এখন চলছে শেষ সময়ের প্রস্তুতি। আগামী ২৫ জুন সেতু যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে বলে সরকার থেকে জানানো হয়েছে। অনেকে এ সেতু দেখতে আসছেন।

বুধবার (২৫ মে) বিকেলে সেতু দেখতে আসেন ফরিদপুরের সুমন মিয়া। তিনি ঢাকায় থেকে চাকরি করেন। সুমন বলেন, ‘ফেরিঘাটে ভোগান্তি আর থাকবে না। পদ্মাপাড় থেকে ঘণ্টাখানেকের মধ্যে ঢাকায় যাওয়া যাবে। তাহলে ঢাকায় এত টাকা বাসা ভাড়া দেবো কেন? ভাবছি, সেতু চালু হলে অফিস শেষে প্রতিদিন বাসায় চলে আসবো। বাসা থেকে ঢাকায় প্রতিদিন যাওয়া-আসা করে অফিস করবো।’

ঢাকার বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মাদারীপুরের আবুল কাশেম মিয়া মাওয়ার পদ্মা পাড়ে ঘুরতে এবং সেতু দেখতে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘জরুরি প্রয়োজনে এবং লম্বা ছুটি পেলে গ্রামে ছুটে যায়। তবে ঘাটে যানজট, পদ্মা পারের ভোগান্তির কথা ভেবে বাড়ি যেতে মন চায়তো না। আগামী ২৫ জুন থেকে বাসে করে পদ্মা পাড়ি দেবো, ভাবতেই আনন্দ লাগছে।’

দক্ষিণবঙ্গের ২১ জেলার মানুষের এখন অপেক্ষার পালা। মঙ্গলবার (২৪ মে) সেতু উদ্বোধনের দিনক্ষণ ঘোষণা করেছে সরকার। ২৫ জুন যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে স্বপ্নের পদ্মা সেতু।

সেতু খুললে ঢাকা থেকে দক্ষিণবঙ্গের প্রবেশদ্বার খ্যাত মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার শিমুলিয়াঘাটে দীর্ঘ দিনের দুর্ভোগের অবসান হবে।

পদ্মা সেতুর মূল অংশের পিচ ঢালাই শেষে বাকি ছিল দুই পাড়ের সংযোগ সড়কের পিচ ঢালাই। সোমবার (২৩ মে) বিকেলে জাজিরা অংশের সংযোগ সড়কের পিচ ঢালাইয়ের কাজ শেষ করেছেন প্রকৌশলী ও নির্মাণ শ্রমিকরা। পুরো সেতুর পিচ ঢালাই শেষ হওয়ায় এখন যান চলাচলের জন্য প্রস্তুত পদ্মা সেতুর সড়কপথ।

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা থেকে পদ্মা সেতু দেখতে ও পদ্মার পাড়ে ঘুরতে আসা স্কুলশিক্ষিকা খালেদা আক্তার বলেন, এখানে সবই অপরূপ সুন্দর। পদ্মা সেতু, পদ্মা নদী— সবই আকর্ষণীয়। কিন্তু এখানে রেস্ট হাউস নেই। মধ্যরাত পর্যন্ত অসংখ্য মানুষ পদ্মা তীরে আসে তাজা ইলিশ ভাজার স্বাদ নিতে। কিন্তু এখানে রাত্রিযাপনের ব্যবস্থা নেই। কর্তৃপক্ষ দৃষ্টি দিলে এটি হয়ে উঠতে পারে দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র।

সেতুর সৌন্দর্য যেমন দৃষ্টি কাড়ছে, তেমন পদ্মার বিশাল জলরাশিও টানছে মানুষকে। সেতু চালুর মধ্য দিয়ে দক্ষিণবঙ্গের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল উন্নয়ন ঘটতে যাচ্ছে। এতে করে ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের ২১ জেলার সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।

ধূসর রঙের সেতুর অদূরে নদী তীরে দর্শনার্থীরা ভিড় করছে প্রতিদিন। কেউ এসেছেন বন্ধুর দলে, কেউ সপরিবারে। যদিও নিরাপত্তা স্বার্থে সেতুর মূল কাঠামো ও নির্ধারিত এলাকায় কারও প্রবেশের অনুমতি নেই। সেতুর দেখার সঙ্গে কেউ ফোনে সেতুর ছবি তুলছেন, কেউ সেলফি তুলছেন। ভাড়ার ট্রলারে নদীতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন কেউ কেউ।

পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী (মূল সেতু) দেওয়ান মো. আব্দুল কাদের জানান, ১৯ মে শেষ হয় পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তের সংযোগ সড়কের পিচ ঢালাই। সোমবার (২৩ মে) জাজিরা প্রান্তের সংযোগ সড়কের পিচ ঢালাইয়ের কাজও শেষ হয়েছে। সেতুর অবশিষ্ট কাজের মধ্যে রোড মার্কিং ও সেতুকে আলোকিত করতে বসানো ৪১৫টি ল্যাম্পপোস্টে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার কাজ চলছে এখন পুরোদমে। শুরু হয়েছে রেলিং বসানোর কাজও।

প্রকৌশলী দেওয়ান আব্দুল কাদের আরও জানান, চলতি মে মাসের মধ্যে রোড মার্কিংয়ের কাজ শেষ হবে। আর পরিকল্পনামতো কাজ এগিয়ে গেলে ১ জুনে জ্বলে উঠবে সেতুর বাতিগুলো।

খরস্রোতা-প্রমত্তা পদ্মা নদীর উপর সেতু নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা। ২০১৪ সালে নির্মাণ কাজ শুরু হওয়া দ্বিতল এ সেতুর সড়কপথ আগামী ২৫ জুন খুলে দেয়া হবে। আর ট্রেন চলাচল শুরু হতে আরও কয়েক মাস সময় লাগবে।

/বকুল/

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়