ঢাকা     শনিবার   ১০ ডিসেম্বর ২০২২ ||  অগ্রহায়ণ ২৫ ১৪২৯

পঞ্চগড়ে নৌকাডুবি: স্বামী হারিয়ে সন্তানদের নিয়ে দিশেহারা ফুলমতি

পঞ্চগড় প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৪:৪১, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২   আপডেট: ১৫:০২, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২
পঞ্চগড়ে নৌকাডুবি: স্বামী হারিয়ে সন্তানদের নিয়ে দিশেহারা ফুলমতি

স্বামীকে হারিয়ে দিশেহারা ফুলমতি রানী।

স্ত্রী-সন্তান আর বৃদ্ধ মাসহ ৫ সদস্যের পরিবার জগদীশের (৩২)। অভাবের সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তিনি। জীবিকার তাগিদে দিনমুজুরের কাজ করলেও তার স্বপ্ন ছিলো অসম। সামনের শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপন নিয়েও ছিলো নানা পরিকল্পনা। কিন্তু তার সব স্বপ্নই ভেসে গেলো করতোয়ার স্রোতে।

গত রোববার দুপুরে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার মাড়েয়া আউলিয়া ঘাটে করতোয়া নদীতে নৌকাডুবিতে মারা যান জগদীশ। মহালয়া উপলক্ষে আয়োজিত ধর্মসভায় যোগ দিতে অন্যদের মতো তিনিও যাচ্ছিলেন বড়শশী ইউনিয়নের বদেশ্বরী মন্দিরের দিকে। 

জগদীশের বাড়ি পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার মাড়েয়া বামনহাট ইউনিয়নের বটতলী এলাকায়। 

বটতলির জগদীশ ছিলেন তার পরিবারের বটবৃক্ষ। এখন সেই বটবৃক্ষ হারিয়ে ছেলে কৌশিক রায় (৭) এবং ১৯ মাস বয়সী শিশু রাধিকা রানীকে নিয়ে দিশেহারা ফুলমতি রানী। বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন তিনি। একমাত্র আশ্রয়স্থল ছেলেকে হারিয়ে নির্বাক জগদীশের মা নুনী বালাও।

নুনী বালা বলেন, ‘মা হয়ে ছেলেকে চিতায় পাঠানোর কষ্ট কিভাবে সহ্য করবো। আমাদেরকে এখন কে আগলে রাখবে? খুব কষ্ট করে ছেলেটাকে বড় করছি, তার এমন মৃত্যু কোনো ভাবেই মানে নিতে পারছি না।’ 

জগদীশের স্ত্রী ফুলমতি রানী বিলাপ করে বলেন, ‘মন্দিরে আমিও যেতে চাইছিলাম, আমাকে না নিয়ে একাই গেলো। আর ফিরে এলো লাশ হয়ে। আমি এই ছোট দুই সন্তানকে নিয়ে কিভাবে বাঁচবো।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রোববার দুপুরে শতাধিক যাত্রী নিয়ে করতোয়া নদীতে নৌকা ডুবির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর  পর্যন্ত ৬৫ জনের লাশ উদ্ধার হয়েছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক দীপঙ্কর রায়। 

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বোদা উপজেলার মাড়েয়া ইউনিয়নের করতোয়া নদীর অপরপাড়ে বদেশ্বরী মন্দিরে মহালয়া পূজা উপলক্ষে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও ধর্মসভার আয়োজন করা হয়। রোববার দুপুরের দিকে মূলত ওই ধর্মসভায় যোগ দিতে সনাতন ধর্মালম্বীরা নৌকা যোগে নদী পার হচ্ছিলেন। তবে ৫০ থেকে ৬০ জনের ধারণ ক্ষমতার নৌকাটিতে দেড় শতাধিক যাত্রী ছিল। অতিরিক্ত যাত্রীর কারণে নদীর মাঝে গিয়ে নৌকাটি ডুবে যায়। সে সময় অনেকে সাঁতার তীরে উঠতে পারলেও নারী ও শিশুরা পানিতে ডুবে যায়। 

এদিকে, নৌকা ডুবির ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে আহবায়ক করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। এছাড়া নিহত প্রত্যেক পরিবারকে মরদেহ সৎকারের জন্য ২০ হাজার টাকা করে প্রদান করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

আবু নাঈম/ মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়