ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ০৮ ডিসেম্বর ২০২২ ||  অগ্রহায়ণ ২৩ ১৪২৯

শীতলক্ষ্যার ঘাটে বর্জ্যের স্তূপ, দুর্গন্ধে ভোগান্তি চরমে

রফিক সরকার, গাজীপুর || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১১:৩৬, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২   আপডেট: ১৩:০৯, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২
শীতলক্ষ্যার ঘাটে বর্জ্যের স্তূপ, দুর্গন্ধে ভোগান্তি চরমে

গাজীপুরের শ্রীপুরের শীতলক্ষ্যার বরমী নৌঘাটে তৈরি হয়েছে বর্জ্যের স্তূপ। উৎকট দুর্গন্ধে যেমন নদী পারাপারে মানুষের ভোগান্তি হচ্ছে তেমনি শীতলক্ষ্যার পানিও দূষিত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এমন সমস্যা নিয়ে সাধারণ লোকজন ভোগান্তি পোহালেও বিষয়টি সমাধানে এখনো কোনো উদ্যোগ নিয়েনি প্রশাসন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শ্রীপুরের নদী কেন্দ্রিক ব্যবসা বাণিজ্যের অন্যতম কেন্দ্র বরমী বাজার। প্রাচীনতম এ বাজার ঘিরে যেমন গড়ে উঠেছে দোকানপাট, তেমনই বাজারের সরকারি জায়গা দখল করে অবাধে গড়ে উঠছে বহুতল ভবন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ক্লিনিক। আর এসব দোকানপাট, গৃহস্থালী এবং ক্লিনিকের বর্জ্য শীতলক্ষ্যার তীরে নৌঘাট ঘেঁষে ফেলা হচ্ছে। এতে তৈরি হয়েছে ময়লার ভাগাড়। বর্জ্যের কারণে নদীর পানিরও দূষণ বেড়েছে কয়েকগুণ। 

বর্জ্যের ভাগাড়ের কারণে ইতোমধ্যে সরকারিভাবে নির্মিত বারমী নৌঘাটের ব্যবহার দিন দিন সীমিত হয়ে পড়ছে। 

বরমী নৌঘাটের ইজারাদার তৌফিক মিয়া বলেন, ‘নৌযাত্রীদের কথা বিবেচনা করে সরকার অনেক টাকা খরচ করে তিনটি ঘাট নির্মাণ করেছে। শৌচাগার, যাত্রী ছাউনিও তৈরি করে দিয়েছে। তবে মূল সমস্যা হচ্ছে বর্জ্য ঘিরেই। পঁচা, মরা প্রাণী ও নানাপ্রকার প্রাণীর জন্য ক্ষতিকর বস্তু নৌঘাট ঘিরে ফেলায় এখন তা স্তুপে পরিণত হয়েছে। উৎকট দুর্গন্ধে এই ঘাট এবং আশপাশ দিয়ে চলাফেরা করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

বরমী ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী সাবরিনা আক্তার জানান, তার বাড়ি কাপাসিয়ার রায়ত এলাকায়। প্রতিদিন তাকে নদীর ঘাট ব্যবহার করতে হয়। এখানে যাওয়া আসার সময় বর্জ্যের দুর্গন্ধে নাক চেপে পারাপার হতে হয় তাকে। 

হারিয়াদী এলাকার বাসিন্দা ইব্রাহিম খলিল বলেন, ‘বর্জ্যের কারণে এ নৌঘাটটি বর্তমানে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দিনদিন এসব বর্জ্য মানুষের গলার কাটা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বর্জ্যে নদীর পানির দূষণও বাড়ছে। আগে স্থানীয়রা শীতলক্ষ্যা নদীতে গোসল ও মাছ ধরলেও এখন বাজারের আশপাশে দূষণের কারণে পানিতে কেউ নামে না।’

বরমী বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘আশপাশে কোথাও ময়লা আবর্জনা রাখার স্থান না থাকায় বহুদিন ধরেই স্থানীয়দের উদ্যোগে বর্জ্য নদীর পাশেই ফেলা হচ্ছে। আমরা কয়েকবার সতর্ক করলেও কেউ শুনছেন না। রাতের অন্ধকারে ময়লা আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। তবে এবার আমরা নদীর তীর পরিস্কার করার উদ্যোগ নিয়েছি।’ 

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) গাজীপুর জেলার সাধারণ সম্পাদক হাসান ইউসুফ খান বলেন, ‘এভাবে নদীর মধ্যে বর্জ্য ফেলার ঘটনা আইন অনুযায়ী ফৌজদারী অপরাধ। জেলা প্রশাসনের মাসিক সভায় এ বিষয়টি তোলা হলেও কেউ নজর দেননি। স্থানীয় প্রশাসনকে এ বিষযে সচেতন হতে হবে। সবাই মিলে সচেতন হলে দূষণ ও ভোগান্তি উভয়ই লাঘব সম্ভব।’

বরমী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘স্থানীয়দের নদীর তীরে নৌঘাট ঘিরে বর্জ্য ফেলা বন্ধে অনেকবার সতর্ক করলেও কেউ শুনছেন না। স্থায়ীভাবে বর্জ্য ফেলানো বন্ধে বাজারের বণিক সমিতির সঙ্গে বসে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।’ 

বাজারের ইজারাদারসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তরিকুল ইসলাম।

মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়