ঢাকা     রোববার   ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ||  মাঘ ২২ ১৪২৯

পঞ্চগড়ে নৌকাডুবি: তদন্ত প্রতিবেদনে ৮ কারণ

পঞ্চগড় প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:৩৭, ৪ অক্টোবর ২০২২   আপডেট: ১৯:০৪, ৪ অক্টোবর ২০২২
পঞ্চগড়ে নৌকাডুবি: তদন্ত প্রতিবেদনে ৮ কারণ

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় করতোয়া নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার জন্য ৮ টি কারণ এবং দুর্ঘটনা রোধে পাঁচটি সুপারিশের কথা উল্লেখ করেছে কমিটি। এর মধ্যে তিনটি কারণ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক জহুরুল ইসলাম।

নৌকাডুবির তিনটি কারণ হলে - একাধিক শর্ত ভঙ্গসহ ইজারাদারের যথাযথ ভূমিকা না রাখা। মাঝিদের অদক্ষতা ও পারাপারে ত্রুটিপূর্ণ নৌকা ব্যবহার। স্থানীয় জনসাধারণের ধর্মীয় অনুভূতি ও কুসংস্কার।

এর আগে গত রোববার রাতে নৌকাডুবির ঘটনায় জেলা প্রশাসনের গঠণ করা ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রধান ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) দীপঙ্কর রায় জেলা প্রশাসকের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন।

১১৮ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, জেলা পরিষদ থেকে দরপত্রের মাধ্যমে করতোয়া নদীর আউলিয়ার ঘাট ইজারা নেন আবদুল জব্বার নামের এক ব্যক্তি। তিনি ইজারার একাধিক শর্ত ভঙ্গ করেছেন। শর্ত ভঙ্গ করে তিনি আরও চার ব্যক্তিকে ইজারার অংশীদার করেন। এছাড়া ঘটনার দিন সেখানে লোকসমাগম বেশি হবে জেনেও উপস্থিত ছিলেন না ইজরাদার। ঘাটে বোদা উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অমান্য করে সুশৃঙ্খল কোনো ব্যবস্থা নেননি তিনি। দায়িত্ব অবহেলায় এসব প্রাণহানির দায় ইজরাদার এড়াতে পারেন না। এমনকি ইজরাদার যাত্রীদের ত্রুটিপূর্ণ নৌকা দিয়ে পারাপার করছিলেন। 

নৌকায় পারাপারের সময় যাত্রীদের ধর্মীয় অনুভূতি ও কুসংস্কারের কিছু বিষয়টি তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এ ছাড়া ঘটনার দিন সকালে বৃষ্টি থাকায় মহালয়ার অনুষ্ঠান ও পূজার সময় মেলাতে দুপুরে একসঙ্গে মানুষের চাপ সৃষ্টি হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

এদিকে আগামীতে এ ধরনের ঘটনা রোধে তদন্ত প্রতিবদনে ৫টি সুপারিশের কথা বলা হয়েছে। সুপারিশগুলোর মধ্যে আছে- যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে সাঁতার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা, সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো, নিরাপত্তা ঝুঁকি-বিষয়ক সচেতনতা সৃষ্টি, ইজারা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের তদারকি বাড়ানো এবং খেয়াঘাটগুলোতে আরও উন্নত ব্যবস্থা নেওয়া।

জেলা প্রশাসক জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘তদন্ত কমিটির দেওয়া প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রতিবেদন পর্যালোচনায় ইজারাদারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দোষী সাব্যস্ত হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে বলে প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে।’

গত ২৫ সেপ্টেম্বর শারদীয় দুর্গোৎসবের মহালয়া উপলক্ষে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার মাড়েয়া আউলিয়া ঘাট থেকে শতাধিক মানুষ শ্যালো ইঞ্জিনচালিত একটি নৌকায় করে বড়শশী ইউনিয়নের বদেশ্বরী মন্দিরের দিকে যাচ্ছিলেন। ঘাট থেকে নৌকাটি কিছু দূর যাওয়ার পর দুলতে শুরু করে। এক পর্যায়ে নৌকাটি ডুবে যায়। পরে উদ্ধার অভিযান শুরু করে প্রশাসন। এঘটনায় এখন পর্যন্ত ৬৯ জনের লাশ উদ্ধার হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন তিনজন।

স্থানীয়রা জানান, বোদা উপজেলার মাড়েয়া ইউনিয়নের করতোয়া নদীর অপরপাড়ে বদেশ্বরী মন্দিরে মহালয়া পূজা উপলক্ষে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও ধর্মসভার আয়োজন করা হয়। ২৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে মূলত ওই ধর্মসভায় যোগ দিতে সনাতন ধর্মালম্বীরা নৌকায় নদী পার হচ্ছিলেন। তবে ৫০ থেকে ৬০ জনের ধারণ ক্ষমতার নৌকাটিতে দেড় শতাধিক যাত্রী ছিল। 

আবু নাঈম/ মাসুদ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়