ঢাকা     শুক্রবার   ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ||  মাঘ ২০ ১৪২৯

এসএসসি পরীক্ষায় কাজিপুরের তিন জনপ্রতিনিধির সাফল্য

অদিত্য রাসেল, সিরাজগঞ্জ || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:৪৪, ২৯ নভেম্বর ২০২২   আপডেট: ২২:৫৩, ২৯ নভেম্বর ২০২২
এসএসসি পরীক্ষায় কাজিপুরের তিন জনপ্রতিনিধির সাফল্য

ইচ্ছে থাকলে বয়স কোনও বাধা নয়। পড়ালেখার অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে কাজে লাগিয়ে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় সিরাজগঞ্জের কাজিপুরের তিন জনপ্রতিনিধি একসঙ্গে সাফল্য পেয়েছেন। এই বয়সে এসএসসি পাস করায় উচ্ছ্বসিত জনপ্রতিনিধিদের আত্মীয়-স্বজনসহ ইউনিয়নবাসীরা। পরিবারে বউ, ছেলে-মেয়ে থাকার পরে এই বয়সে মনোবল অক্ষুণ্ন রেখে এসএসসি পাস করায় তাদের অভিনন্দনও জানাচ্ছেন সবাই।

এবারের এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ব্যক্তিরা হলেন- জিপিএ-৫ পেয়েছেন শুভগাছা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মমিন মিয়া, সোনামুখী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আনোয়ার মুন্সী পেয়েছেন জিপিএ ৩.৫০ এবং একই ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নারী সদস্য মায়া খাতুন পেয়েছেন জিপিএ ৪.৯৬।

মঙ্গলবার (২৯ নভেম্বর) কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুখময় সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পড়ালেখার ইচ্ছে থাকলে বয়স কোনও বিষয় নয়। তিন জন জনপ্রতিনিধি তা প্রমাণ করলেন। তাদের ইচ্ছা শক্তিকে অভিনন্দন জানাই।

জনপ্রতিনিধিদের সূত্রে জানা যায়, জনগণের সেবা করার লক্ষে জনপ্রতিনিধি হয়েছেন। কিন্তু তেমন পড়াশোনা জানেন না। এলাকার জনগণের সেবা দিতে ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রয়োজন। এ বিষয়টি নিয়ে সবসময় লজ্জাবোধ করতো। তাই বিষয়টি নিয়ে অনেক চিন্তা-ভাবনা করে সবার অগোচরেই ভর্তি হয় তারা। এখন তাদের ইচ্ছা এইচএসসিতে ভর্তি হবে এবং ডিগ্রি পাস করবে।

সোনামুখী ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী সদস্য মায়া খাতুন বলেন, সংসারে দশ ও সাত বছরের দুই সন্তান রয়েছে। অভাবের কারণে সময়মত পড়তে পারিনি। কিন্তু জনপ্রতিনিধি হয়ে এলাকার লোকজনদের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হত। তাই কারিগরি স্কুলে ভর্তি হয়েছিলাম। পাস করে খুব ভালো লাগছে।

একই ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আনোয়ার মুন্সি বলেন, আমার সংসারে দুই সন্তান। সংসার চালানোসহ নানা কারণে পড়াশোনা শেষ করতে পারিনি। ৪০ বছর বয়সে উপজেলার হাসনাহেনা দাখিল মাদরাসায় ভর্তি হয়েছিলাম। জিপিএ ৩.৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছি। পাস করে ভালো লাগছে।

সোনামুখী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান আলী খান বলেন, গতকাল এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণার পরে শুনতে পারলাম আমার পরিষদের দুজন সদস্য এসএসসি পাস করেছে। একথা শুনে ভালো লাগলো। তারা এই বয়সে এসেও পড়ালেখার ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাদের অভিনন্দন জানিয়েছি।

ইউপি সদস্য আব্দুল মমিন বলেন, জনপ্রতিনিধি হয়েছি পড়াশোনা জানি না। এলাকার লোকজনকে সেবা দিতে ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রয়োজন। এ বিষয়টি নিয়ে সবসময় লজ্জাবোধ করতাম। তাই আমি এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করি। আল্লাহর রহমতে, সকলের দোয়ায় আমি জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছি। আমার এই আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। আমি পাস করেছি এটাই বড় কথা। আমার ইচ্ছা ছিল লেখাপড়া করব। সেই ইচ্ছা থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছি। এখন এইচএসসিতে ভর্তি হব। ডিগ্রি পাস করারও ইচ্ছা আছে। বয়স কোনও বিষয় না। আমি এই বয়সে নিজেও লেখাপড়া করছি। পড়াশোনা করতে অন্যদেরও উৎসাহিত করি।

শুভগাছা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন বলেন, এবারের এসএসসি পাস করা ইউপি সদস্য টানা তিন বার বিজয়ী হয়ে বর্তমানে পরিষদে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন বিষয়টি জানা ছিল না। সবার অগোচরে একটি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়ে পরীক্ষা দিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছেন। আমরা পরিষদের পক্ষ থেকে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছি।

ঢাকা/এনএইচ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়