পরীক্ষার নম্বর নিয়ে ছলচাতুরীর অভিযোগ
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
হবিগঞ্জ জেলার আজমিরিগঞ্জ উপজেলার মিজাজিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাজহারুল ইসলাম। একই স্কুলের ছাত্র তার ছেলে সাদাব হোসেন।
সাদাবের সহপাঠী তায়িবা রহমান তাছমি। এবার ক্লাস ফোরে উঠেছে দুজন। তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় সাদাবের রোল ছিল ৫৬, তাছমির ১। কিন্তু চতুর্থ শ্রেণিতে ওঠার পর রোল পাল্টে গেছে দুজনের। সাদাবের হয়েছে ১, তাছমির ২।
এ ঘটনায় তাছমির বাবা মো. মকলিছ মিয়া দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন সাদাবের বাবা মিজাজিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
রোববার (১ জানুয়ারি) আজমিরিগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি। সেই সঙ্গে পরীক্ষার খাতা পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন।
মকলিছ মিয়ার অভিযোগ, বার্ষিক পরীক্ষায় সহকারী শিক্ষকের ছেলে সাদাবকে অতিরিক্ত নম্বর দিয়ে চতুর্থ শ্রেণিতে রোল ১ করা হয়েছে। তাছমির রোল করা হয়েছে ২।
তিনি বলেন, ‘সাদাবের বাবা স্কুলের সহকারী শিক্ষক এবং মা ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি। তাদের ছেলে লেখাপড়ায় দুর্বল। পরীক্ষায় এত নম্বর পাওয়ার কথা নয়। তবুও অতিরিক্ত নম্বর দিয়ে তাকে ৫৬ থেকে রোল একে আনা হয়েছে। বিষয়গুলো খতিয়ে দেখার ও পরীক্ষার খাতা পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানাচ্ছি।’
মিয়াধন মিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও সহকারী এক শিক্ষক প্রাইভেট পড়ান সাদাবকে। তিনি বলেন, ‘সন্তানের রোল এগিয়ে নিতে শিক্ষকের এমন স্বজনপ্রীতি দুঃখজনক। এমন ঘটনা শিক্ষার্থীদের জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ছেলেটি লেখাপড়ার যে অবস্থা, তার রোল এক হওয়ার কথা না। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠে।’
মিজাজিয়া সরকারি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোখসানা পারভিন বলেন, ‘এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষকের কোনো ভূমিকা থাকে না। শ্রেণি শিক্ষক খাতা দেখে নম্বর দেন। তবে কেউ ইচ্ছে করলেই অতিরিক্ত নম্বর দিতে পারবে না। যেহেতু অভিযোগ করা হয়েছে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।’
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হাসিবুল ইসলাম বলেন, ‘মকলিছ মিয়ার অভিযোগটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’
মামুন/কেআই