ঢাকা     সোমবার   ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ২৬ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

কারামুক্তির পরপরই ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেতা ‘নিখোঁজ’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১২:৩২, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ১২:৪২, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কারামুক্তির পরপরই ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেতা ‘নিখোঁজ’

ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেতা ও নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মারিয়া করিনা মাচাদোর ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত হুয়ান পাবলো গুয়ানিপা

ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেত্রী মারিয়া করিনা মাচাদো অভিযোগ করেছেন, তার রাজনৈতিক সহকর্মী ও বিরোধীদলীয় নেতা হুয়ান পাবলো গুয়ানিপা কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরেই অপহৃত হয়েছেন।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। 

আরো পড়ুন:

নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মাচাদো জানান, ‘জাস্টিস ফার্স্ট পার্টির নেতা গুয়ানিপাকে রাজধানী কারাকাসের লস চোরোস এলাকা থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে।

সোমবার ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন, “বেসামরিক পোশাকে ভারী অস্ত্রধারী একদল লোক চারটি গাড়িতে করে এসে তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়।”

ভেনেজুয়েলার জাতীয় সংসদের সাবেক ভাইস-প্রেসিডেন্ট গুয়ানিপা আট মাস ধরে কারাগারে ছিলেন। গত জানুয়ারিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর থেকে এখন পর্যন্ত যে কয়েকজন রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে, গুয়ানিপা তাদের মধ্যে একজন।

তার মধ্য-ডানপন্থি দল জানায়, এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়ার সময় ‘স্বৈরাচার সরকারের দমনকারী বাহিনী’ গুয়ানিপাকে অপহরণ করেছে। তাদের দাবি, প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে গুয়ানিপাকে  গাড়িতে তোলার আগে তার সঙ্গীদের দিকে অস্ত্র তাক করা হয়েছিল।

জাস্টিস ফার্স্ট পার্টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানায়, “হুয়ান পাবলো গুয়ানিপাকের জীবনের যেকোনো ক্ষতির জন্য আমরা দেশের অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ, জাতীয় সংসদের স্পিকার হোর্হে রদ্রিগেজ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো কাবেলোকে দায়ী করছি।”

দলটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যেন তারা গুয়ানিপার ‘অবিলম্বে মুক্তি’ এবং ভেনেজুয়েলা সরকারের ‘বিরোধী দলের ওপর নিপীড়ন’ বন্ধের দাবি জানায়।

রবিবার কারামুক্তির মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে গুয়ানিপার ছেলে রামন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বাবার মুক্তি উদযাপন করে লিখেছিলেন, “আমাদের পুরো পরিবার শিগগির আবার একে অপরকে জড়িয়ে ধরতে পারব।”

রাজনৈতিক বন্দিদের সহায়তা প্রদানকারী সংস্থা ‘ফোরো পেনাল’-এর তথ্য অনুযায়ী, রবিবার যে ৩০ জনকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল, গুয়ানিপা ছিলেন তাদের মধ্যে একজন।

জাস্টিস ফার্স্ট পার্টির এই নেতা ২০১৭ সালে জুলিয়া অঞ্চলের গভর্নর নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু মাদুরোর ‘ন্যাশনাল কনস্টিটিউয়েন্ট অ্যাসেম্বলি’র কাছে শপথ নিতে অস্বীকার করায় তাকে দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া হয়।

২০২৪ সালের নির্বাচনের ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করার কারণে সন্ত্রাসবাদ এবং রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে অভিযুক্ত হওয়ার পর গুয়ানিপা আত্মগোপনে চলে গিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের মে মাসে ভেনেজুয়েলার নিরাপত্তা বাহিনী তাকে খুঁজে বের করে ও আটক করে।

বিরোধী দল এবং মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর দাবি, মাদুরো সরকার বছরের পর বছর ধরে ভিন্নমত দমন এবং সমালোচকদের কণ্ঠরোধ করতে রাজনৈতিক বন্দিদের আটক করার এই কৌশল ব্যবহার করে আসছে।

ঢাকা/ফিরোজ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়