ঢাকা     সোমবার   ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ২৬ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিষেধাজ্ঞা সংশোধনের দাবি আখতার হোসেনের

রংপুর প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১২:৪৫, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ১২:৫৫, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিষেধাজ্ঞা সংশোধনের দাবি আখতার হোসেনের

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার টেপামধুপুর ইউনিয়নে নির্বাচনি গণসংযোগের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন।

ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশে নির্বাচন কমিশনের বিধি-নিষেধের সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব ও রংপুর–৪ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী আখতার হোসেন।

তিনি আজকের মধ্যে এ বিষয়ে স্পষ্ট বিধি জারি এবং কেন্দ্রের প্রতিটি বুথের পাশে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

আরো পড়ুন:

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার টেপামধুপুর ইউনিয়নের নিজ নির্বাচনি এলাকায় গণসংযোগের শুরুতে সাংবাদিদের এসব কথা বলেন এনসিপির এই নেতা।

আখতার হোসেন বলেন, “এখনো নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র চলছে। নানা কৌশলে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টাও হচ্ছে। আমরা আশাবাদী, অন্তর্বর্তী ইউনুছ সরকার একটি সেইফ এক্সিট নিশ্চিত করতে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্পন্ন করবে। এর বাইরে এই সরকারের সামনে এখন আর কোনো পথ খোলা নেই।”

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া এখনো সার্বিক পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রয়েছে। ভোট ঘিরে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের উৎসব জমে উঠেছে। আওয়ামী লীগের গোঁড়া দু-একটি অংশ বাদ দিলে প্রায় সবাই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। সাধারণ মানুষ ভোট দিতে কেন্দ্রে যাবেন এটা ইতিবাচক লক্ষণ।”

ভোটকেন্দ্রে স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি এনসিপির এই নেতা বলেন, “সেনাবাহিনীর মতো প্রতিটি আসনে মূলধারার গণমাধ্যম কর্মীদের মোতায়েন করতে হবে। ভোটদানের বুথ পর্যন্ত সাংবাদিকদের ফ্রি এক্সেস দিতে হবে। ফলে ভোটের প্রকৃত চিত্র দেশবাসী দেখতে পাবে এবং অনিয়মের সুযোগ কমবে।”

মোবাইল ফোন সংক্রান্ত বিধি নিয়ে অস্পষ্টতার সমালোচনা করে আখতার হোসেন বলেন, “ভোট কেন্দ্রের ৪০০ গজ দূরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করা যাবে না এটা সংশোধন হওয়া দরকার। এছাড়াও ভোটার, প্রার্থী ও এজেন্টদের জন্য কোনো ক্ষেত্রে মোবাইল বহন করা যাবে, আর কোন ক্ষেত্রে যাবে না এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা জরুরি। অস্পষ্ট বিধি মাঠ পর্যায়ে বিভ্রান্তি ও হয়রানির সুযোগ তৈরি করে।”

তিনি দাবি করেন, “ভোটকেন্দরের ভেতরে বুথের পাশে এঙ্গেল করে যাতে ভোটার ও বুথে থাকা মানুষের মুভমেন্ট বোঝা যায় এমনভাবে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হলে ভোট কারচুপি, জাল ভোট ও অনিয়ম অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব হবে। জনগণের আস্থা আরো বাড়বে। পাশাপাশি পেশিশক্তিবাজদের কেন্দ্রের ভিতরে অশুভ গতিবিধি বোঝা সহজ হবে।” 

নিজ আসনে ভোটের প্রসঙ্গে আখতার হোসেন বলেন, “ভোটের মাঠ যেভাবে শাপলা কলির গণজোয়ারে আছে আগামী ১২ তারিখ পর্যন্ত অবৈধ টাকার ছড়াছড়ি না থাকলে ইনশাআল্লাহ ১১ দলীয় জোটের প্রতীক এই আসনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করবে বলে প্রত্যাশা করছি।” 

রংপুর-৪ আসনে আখতার ছাড়াও বিএনপির এমদাদুল হক ভরসা, জাতীয় পার্টির মাহবুবার রহমানসহ মোট ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ভোটের মাঠে এবার আসনটিতে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস মিলছে। দুটি উপজেলা ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এই আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১০ হাজার। 

ঢাকা/আমিরুল/মাসুদ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়