সিলেট-১: জামায়াত প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের আবেদন করল বিএনপি
সিলেট সংবাদদাতা || রাইজিংবিডি.কম
স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক সুবর্ণা সরকারের কাছে (মাঝে) সিলেট-১ আসনে জামায়াতের প্রার্থীর মাওলানা হাবিবুর রহমানের মনোনয়নপত্র বাতিলের আবেদন করেন সিলেট মহনগর বিএনপির নেতারা।
সিলেট-১ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগ করেছে বিএনপি। তারা হাবিবুর রহমানের মনোনয়নপত্র বাতিল এবং তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক সুবর্ণা সরকারের কাছে আবেদন জমা দেন সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রার্থী তার হলফনামায় ঘোষণা করেছেন যে, তিনি কোনো কোম্পানির পরিচালক বা শেয়ারহোল্ডার নন এবং কোনো ঋণ বা দায়ের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। তবে, জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মস (আরজেএসসি)-এর নথি অনুযায়ী তিনি ইবনে সিনা হাসপাতাল সিলেট লিমিটেড-এর পরিচালক এবং আল কারামাহ মেডিকেল সার্ভিসেস লিমিটেডের শেয়ারহোল্ডার। যার ফলে তার হলফনামায় দেওয়া তথ্য সত্য নয় এবং বিভ্রান্তিকর।
অভিযোগপত্রে আরো বলা হয়েছে, ইবনে সিনা হাসপাতাল সিলেট লিমিটেড ২৪ কোটি ১ লাখ ২৭ হাজার ৪৪৮ টাকা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়েছে, যা বর্তমানে বকেয়া রয়েছে। বিএনপি নেতাদের দাবি, প্রার্থী এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য স্বেচ্ছায় গোপন করেছেন, যা নির্বাচনি আইন লঙ্ঘনের শামিল।
সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী জানান, হলফনামায় মিথ্যা তথ্য প্রদান দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ১৮১ ও ১৯৩ ধারার অধীনে অপরাধ এবং এটি ভোটার ও নির্বাচন কমিশনকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্য বহন করে। তিনি রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসকের নিকট মনোনয়নপত্র বাতিল এবং প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন করেছেন।
সিলেট মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, “নির্বাচনের সময়ে এসে মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্রার্থী নিয়ে বির্তক তৈরি করার অপচেষ্টা করা হচ্ছে। আপনারা হয়তো দেখবেন, এবারের নির্বাচনি হলফনামা পর্যবেক্ষণ করে টিআইবি একটা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে; যার মধ্যে ১৬৩ সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ঋণগ্রস্ত। তারা বিএনপির কিন্তু আপনি জামায়াতের কাউকে ঋণগ্রস্ত বা ঋণখেলাপি আছে এমন পাবেন না। প্রতিপক্ষ প্রার্থী যে সব দাবি করেছেন সেগুলো ভুয়া ও মিথ্যা।”
সিলেট জেলা প্রশাসক ও রিটানিং কর্মকর্তা মো. সারওয়ার আলম বলেন, “আমি তখন ছিলাম না। দায়িত্ব থাকারা হয়তো এটি রিসিভ করেছেন। আমরা এমন কিছু হয়ে থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেব।”
ঢাকা/রাহাত/মাসুদ