ঢাকা     সোমবার   ১৫ জুলাই ২০২৪ ||  আষাঢ় ৩১ ১৪৩১

খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতনে মৃত্যু, বিক্ষোভ

রাজশাহী প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:২০, ১১ জানুয়ারি ২০২৩  
খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতনে মৃত্যু, বিক্ষোভ

রাজশাহীতে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে বেঁধে নির্মম নির্যাতনে নিহত শফিকুল ইসলাম জনির (৩৩) মৃত্যুর প্রতিবাদে এলাকাবাসী বিক্ষোভ করেছেন। বুধবার (১১ জানুয়ারি) সকালে নগরীর চন্ডিপুর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সমাবেশ করেন নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী।

সমাবেশ থেকে নগরীর রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএসএম সিদ্দিকুর রহমানকে প্রত্যাহার করার দাবি জানানো হয়েছে। বিক্ষোভ শেষে আসামিদের গ্রেপ্তার এবং হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিতের দাবিতে জেলা প্রশাসক আবদুল জলিলকে একটি স্মারকলিপিও দেওয়া হয়ে। 

স্মারকলিপিতে বলা হয়, আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের ধরছে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিহত জনি নগরীর চন্ডিপুর এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে। তিনি নগরীর সাহেববাজারের একটি কাপড়ের দোকানের কর্মচারী ছিলেন। গত ৫ জানুয়ারি দিবাগত রাতে চন্ডিমাতা কালিমাতার মন্দিরের সামনে জনিকে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করা হয়। রাত সাড়ে ১২টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত থেমে থেমে নির্যাতন চলে শফিকুলের ওপর। যারা নির্যাতন করেন, পরে তারাই জনিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। প্রাথমিক চিকিৎসা করিয়ে তাকে বাড়ির সামনে ফেলে রেখে যান তারা। পরদিন শারীরীক অবস্থা খারাপ হলে জনিকে আবারও রামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জনি মারা যান।

এ ঘটনায় জনির ভাই রিয়াজ সাইদ বিপ্লব থানায় মামলা করেছেন। মামলার আসামিরা হলেন- কাজিহাটা এলাকার তৌফিকুর রহমান বাবু (৫২), তার ভাই মো. শাহীন (৫৫), একই এলাকার কিশোর (২০) এবং প্রসেনজিৎ (২২)। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, পূর্ব শত্রুতার জেরে জনিকে হত্যা করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সমাবেশে বক্তব্য দেন- নিহত জনির মা হানুফা বেগম, স্ত্রী রুবাইয়া খাতুন টুকু, ভাই রিয়াজ সাইদ বিপ্লব, প্রতিবেশী মাইনুল ইসলাম প্রমুখ।

বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে মামলার আসামি তৌফিকুর রহমানের মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া গেছে। 

রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএসএম সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘হত্যা মামলা হয়েছে। তদন্ত চলছে। আসামিরাও গ্রেপ্তার হবে। পুলিশ কমিশনার সবকিছুই অবগত আছেন।’

শিরিন সুলতানা/ মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়