ঢাকা     শনিবার   ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ||  মাঘ ২১ ১৪২৯

লাভ পাওয়ায় চওড়া হাসি কৃষকের মুখে

শামীম কাদির, জয়পুরহাট || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:৫৬, ২৫ জানুয়ারি ২০২৩  
লাভ পাওয়ায় চওড়া হাসি কৃষকের মুখে

কৃষকদের কাছ থেকে অনেক ব্যবসায়ী ক্ষেত থেকে আলু কিনে নিয়ে যান

জয়পুরহাটের কৃষকরা ক্ষেত থেকে আলু উত্তোলন করতে শুরু করেছেন। অনুকূল আবওহায়া আর সময়মত সার ও বীজ পাওয়ার কারণে এবার জেলায় বাম্পার ফলন হয়েছে খাদ্য পণ্যটির। এছাড়া গত বছরের তুলনায় দাম বেশি পাওয়ায় আলু চাষিদের মুখে চওড়া হাসি লক্ষ্য করা গেছে।   

আলুচাষিরা জানান, এখন যারা আলু তুলছেন তারা এই খাদ্যপণ্যটি বিক্রি করে লাভের মুখই দেখছেন। চাষাবাদ, সার, বীজ, সেচ ও শ্রমসহ সব খরচ বাদ দিয়ে ভালোই লাভ হচ্ছে তাদের। 

এদিকে, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে আলুর বাজার প্রতি মণ (৪০ কেজি) ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এভাবে বাজার দর বৃদ্ধি পেলে আগামী সপ্তাহে যারা ক্ষেত থেকে আলু তুলবেন তারা আরো বেশি লাভবান হবেন বলেও মনে করছেন চাষিরা। 

সরেজমিনে দেখা যায়, সদর উপজেলার হিচমি, ভাদসা, ক্ষেতলাল উপজেলার মুন্দাইল, পাঁচবিবি উপজেলার চাটখুর, কালাই উপজেলার হাজিপাড়া মাঠসহ বিভিন্ন এলাকার কৃষক-কৃষানীরা ক্ষেত থেকে আগাম জাতের আলু তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এসব মাঠে মিউজিকা, গ্যানোলা, ক্যারেজ, রোমানা, পাকরি ও স্ট্রিক জাতের আলুর চাষ হয়েছে।

কালাই উপজেলার মোলামগাড়ী হাটে আলু বিক্রি করতে আসা কৃষকরা জানান, ‘বাজারে প্রতি মণ ক্যারেজ আলু ৭২০ থেকে ৭৩০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। আর লাল স্ট্রিক আলু ৬৫০ থেকে ৬৭০ টাকা মণ। আলুর দাম দিনদিন বেড়ে যাওয়ায় কৃষকরা খুশি। এভাবে চলতে থাকলে চাষিরা এবার লাভের মুখ দেখবেন। 

৫০ শতক জমিতে আগাম জাতের মিউজিকা আলু চাষ করেছেন কালাই উপজেলার বালাইট গ্রামের চাষি আবুল কাশেম। তিনি বলেন, ‘রোপণের ৬০ দিন বয়সে আমি আলু তুলেছি। জমিতে ফলন হয়েছে ৯০ মণ। ফসলের উৎপাদন খরচ হয়েছে ৪৯ হাজার টাকা। ৭২০ টাকা মণ দরে আলু বিক্রি করেছি ৬৫ হাজার টাকার। তাতে লাভ হয়েছে প্রায় ১৬ হাজার টাকা। মাঠে আরও আলু আছে। দশ-পনের দিন পরে সেগুলোও তুলতে হবে। এবার আলুর দাম যদি এ রকম থাকে তাহলে মোটামুটি লাভের মুখ দেখা যাবে। পাশাপাশি গত কয়েক বছরের লোকশান কিছুটা হলেও পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।’    

সদর উপজেলার হিচমি গ্রামের কৃষক আতিয়ার রহমান বলেন, ‘আলু রোপণ থেকে শুরু করে নিড়ানি, বাঁধানো ও বহনসহ যাবতীয় কাজ করেছি আমিসহ আমার পরিবারের লোকজন। বাইরের শ্রমিকদের নিতে হয়নি। তাই বিঘাপ্রতি ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা খরচ কম হয়েছে। দুই বিঘা জমির আলু তুলেছি। ফলন হয়েছে ১৩০ মণ। ৬৬০ টাকা মণ দরে বিক্রি করে প্রায় ২১ হাজার টাকা লাভ হয়েছে। আলু বিক্রি করে এবার ভালোই লাগছে।’ 

জয়পুরহাট শহরের নতুনহাটের আলু ব্যবসায়ী নান্টু হোসেন বলেন, ‘বাজারে এখন আগাম জাতের আলু উঠতে শুরু করেছে। এসব আলু রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বড়বড় শহরের মোকামে সরবরাহ করা হচ্ছে। কাঁচা মালের মূল্য সঠিকভাবে বলা যায় না। মূলত আমদানির উপর দাম ওঠা-নামার বিষয় নির্ভর করবে। তবে গত সপ্তাহ থেকে মোকাগুলোতে আলুর চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দাম প্রতি মণে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।’ 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জয়পুরহাট জেলায় এবার প্রায় ৪০ হাজার হেক্টর জমিতে আলু রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সদর উপজেলায় ৭ হাজার ১০০ হেক্টর, পাঁচবিবিতে ৭ হাজার হেক্টর, কালাইয়ে ১১ হাজার ১০০ হেক্টর, ক্ষেতলালে ৯ হাজার হেক্টর এবং আক্কেলপুরে ৬ হাজার ১৫০ হেক্টর। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এবার ৩৫০ হেক্টর জমিতে আলুর চাষ বেশি হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক মোছা. রাহেলা পারভীন বলেন, ‘দাম বেশি পাওয়ার কারণে কৃষকদের মধ্যে আলু বিক্রির প্রবণতা বেড়ে গেছে। বাজারে বর্তমানে যে আলু বিক্রি হচ্ছে সেই আলু আরো একমাস ক্ষেতে থাকলে ফলন অনেক বেশি হতো। কিন্তু লোকসানের আশঙ্কায় কৃষকরা পরিপক্ক হওয়ার আগেই ক্ষেত থেকে আলু তুলে বিক্রি করতে শুরু করেছেন। তবে আশার বিষয় হলো এবার কৃষকরা লাভের মুখ দেখছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘এবার আলুর দাম কমার কোনো সম্ভাবনা নেই। এছাড়া বাইরের অনেক দেশই বাংলাদেশ থেকে আলু নিতে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। সবকিছু মিলে দেশে-বিদেশে এবার আলুর চাহিদা রয়েছে।’  

মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়