ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ৩০ মে ২০২৪ ||  জ্যৈষ্ঠ ১৬ ১৪৩১

রংপুরে উঠতে শুরু করছে নতুন আলু, দামে খুশি চাষি

আমিরুল ইসলাম, রংপুর || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:১৫, ২৮ জানুয়ারি ২০২৩   আপডেট: ১৬:২২, ২৮ জানুয়ারি ২০২৩
রংপুরে উঠতে শুরু করছে নতুন আলু, দামে খুশি চাষি

ক্ষেত থেকে আগাম জাতের আলু তোলায় ব্যস্ত কৃষকরা

রংপুরকে আলু উৎপাদনের দ্বিতীয় বৃহত্তম জেলা বলা হয়। এবার আবহাওয়া ভালো থাকায় আলুর গাছ তেমন বড় ধরনের রোগের কবলে পড়েনি। ইতোমধ্যেই জেলার অনেক স্থানে আগাম জাতের আলু তুলতে শুরু করেছেন কৃষকরা। ভালো ফলনের সঙ্গে দাম বেশি পাওয়ায় তাই খুশি চাষিরা।

রংপুর কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে জেলায় ৫৩ হাজার ৩০৫ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১২ হাজার হেক্টরে রয়েছে আগাম জাতের আলু। সব মিলিয়ে এ জেলার জমি থেকে প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার পীরগাছা উপজেলার পাওটানা ও কাউনিয়া উপজেলার বালাপাড়া, তালুক শাহাবাজসহ তিস্তার চর বেষ্টিত কয়েকটি গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, ক্ষেত থেকে আগাম আলু তুলতে ব্যস্ত সময় পার করেছেন কৃষক-কৃষানীরা। 

বিক্রির জন্য আলু বস্তাবন্দি করছেন চাষিরা

কাউনিয়া উপজেলার তালুক শাহাবাজ চরবেস্টিত এলাকার কৃষক রমজান জানান, সার ও সেচে গতবারের তুলনায় খরচ বেশি হলেও এবার আবহাওয়া ভালো থাকায় আলুর পচারি (ব্লাইড) রোগ দমনে খরচ তেমন হয়নি। জমিতে ২৫-৩০ জন আলু তুলছেন। গতবারের চেয়ে ফলন ভালো হয়েছে। 

তিনি আরও জানান, এবার জমিতে থাকা অবস্থায় আলু বিক্রি হচ্ছে ১৭ টাকা কেজি দরে। একরে খরচ বাদ দিয়ে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা লাভ থাকার কথা রয়েছে। 

পাওটানা গ্রামের কৃষক আনোয়ারুল ৪০ শতাংশ জমিতে আলু তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তিনিও বলেন, গতবারের চেয়ে এবার ফলন ভালো হয়েছে। গতবারের এই সময়ের চেয়ে এবার কেজিতে ৩-৪ টাকা বেশি দাম পাওয়া যাচ্ছে। আমরা লাভের মুখ দেখছি। 

পীরগাছা উপজেলার পারুল গ্রামের আলু ব্যবসায়ী জিল্লাল জানান, এবার আলুর দাম এখন পর্যন্ত ভালো আছে। এই বাজার থাকলে কৃষক লাভবান হবেন। তবে সবেমাত্র আলু উঠতে শুরু করেছে। পুরোদমে আলু উঠতে আরও এক মাস সময় লাগবে। সেই সময় পর্যন্ত দাম ভালো নাও থাকতে পারে বলে শঙ্কার কথা জানান তিনি।

কৃষকের কাছ থেকেই ট্রাক্টর ভর্তি করে আলু নিয়ে যান পাইকাররা

রংপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শামীমুর রহমান জানান, আলুর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫ লাখ মেট্রিক টন। আগাম জাতের আলু উঠতে শুরু করেছে। 

ফলনের বিষয়ে তিনি আরও জানান, এবার আবহাওয়া এখন পর্যন্ত আলু আবাদের জন্য অনুকূলে রয়েছে। এই আবহাওয়ার ধারাবাহিকতা থাকলে আশা করা যায় লক্ষমাত্রার চেয়ে প্রতি হেক্টরে ৩ থেকে ৪ মেট্রিক টন আলু বেশি উৎপাদন হবে।

মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়