ঢাকা     মঙ্গলবার   ১৮ জুন ২০২৪ ||  আষাঢ় ৪ ১৪৩১

বেদম মারধরের চার মাস পর যুবকের মৃত্যু

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১০:২০, ২৮ মার্চ ২০২৩   আপডেট: ১০:২২, ২৮ মার্চ ২০২৩
বেদম মারধরের চার মাস পর যুবকের মৃত্যু

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর বোয়ালদাহ গ্রামে সাফি আলী (২৫) নামে এক যুবককে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে নিহতের চাচা ও চাচাতো ভাইদের বিরুদ্ধে।

বাড়ির সীমানা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গত ২০ নভেম্বর সাফিকে চাচা ও চাচাতো ভাইরা তুলে নিয়ে মারধরের পর এতোদিন সে আঘাতে ভুগছিলেন।

সোমবার (২৭ মার্চ) সাফির শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চার মাস আগে মারধরের ঘটনায় গুরুতর আহত সহকারী নির্মাণ শ্রমিক সাফি মস্তিষ্ক ও স্পাইনে আঘাত জনিত ক্ষত নিয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নেন। এরপর তিনি বিনা চিকিৎসায় বাড়িতেই ভুগছিলেন ।

সাফি আলী উপজেলার হাটশ হরিপুর ইউনিয়নের বোয়ালদাহ নদীরকুল এলাকার বাসিন্দা মানসিক প্রতিবন্ধী মতিয়ার রহমানের একমাত্র কর্মক্ষম ছেলে।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. হোসেন ইমাম বলেন, সোমবার সকালে সাফিকে জরুরি বিভাগে নিয়ে এলে সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চার মাস আগে এই রোগী হামলায় আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলো।  

নিহতের মা বেবি খাতুনের অভিযোগ, বাড়ির সীমানা সংক্রান্ত দ্বন্দ্বের জেরে আমার ভাসুর কামাল হোসেন দীর্ঘদিন ধরে তার ছেলেদের হুকুম দিয়ে আমার পরিবারের লোকজনকে মারধর ও হুমকি ধামকি দিয়ে আসছিলেন। এরই জেরে গত বছরের ২০ নভেম্বর আমার ছেলে সাফিকে কামাল হোসেনের চার ছেলে তোফাজ্জেল (৩৫), তুষার (৩০), সুজন (২৫), মোফাজ্জেল (২২) বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে হাত পা বেঁধে রড বাটাম লাঠিসোটাসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধর করে। আমরা কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশের সাহায্য চাই। পরে মডেল থানার এসআই জিন্নাহ এসে অজ্ঞান অবস্থায় গুরুতর আহত সাফিকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালে দুইদিন চিকিৎসা শেষে বাড়িতে এসে সাফি এতোদিন ধরে নিস্তেজ অবস্থায় ছিলো। অভাবের সংসারের ওর প্রয়োজনীয় ওষুধও খাওয়াতে পারিনি। সাফি ছিল আমার পরিবারের উপার্জনক্ষম ছেলে। আমার পরিবারে দুবেলা ঠিকমতো খাবারই জোটে না, ওষুধ কিনবো কি করে ? চার মাস আগে সাফিকে মারধরের ঘটনায় কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি মামলাও করেছি। কিন্তু সেই মামলায় কোনো আসামিকে পুলিশ ধরেনি। 

কুষ্টিয়া মডেল থানার উপপুলিশ পরিদর্শক জিন্নাহ আহমেদ জানান, গত নভেম্বর মাসে বোয়ালদাহ মেছোপাড়া এলাকার কামাল হোসেনের বাড়ি থেকে সাফি নামে এক যুবককে হাত পা বেঁধে মারধর করা হচ্ছে সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে জ্ঞানশূন্য অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছিলাম। ওই ঘটনায় মারধরের অভিযোগে সাফির মা বেবি খাতুন বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছিলেন। মামলাটি এখন আদালতে বিচারাধীন আছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কুষ্টিয়া মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক দেলোয়ার হোসেন খাঁন জানান, সোমবার বোয়ালদাহ গ্রামে সাফি নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। যারাই এ ঘটনায় জড়িত থাকুক না কেন তাদের গ্রেপ্তার করা হবে।  

কাঞ্চন/টিপু

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়