‘রোনালদো’র দাম ১২ লাখ!
এনাম আহমেদ, বগুড়া || রাইজিংবিডি.কম
‘রোনালদো’ দেখতে অনেকটা হাতির মতো লম্বা। গলার কাছটা ছাঁই আর পুরো শরীর ক্রিমি রঙের। ওজন ২১ মণ। শখ করে নাম দেওয়া হয়েছে ‘রোনালদো’। সাড়ে তিন বছর বয়সী ব্রাহমা ক্রস জাতের এই ষাড়টির মালিক বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার বুড়ইল ইউনিয়নের মাছ চাষী আব্দুর রাজ্জাক।
আব্দুর রাজ্জাক ফুটবল খেলা পছন্দ করেন এবং ব্রাজিল দলকে সমর্থন করেন। রোনালদো লুইস নাজারিও ডি লিমা যখন খেলতেন তখন তার খেলা দেখে মুগ্ধ হয়ে আব্দুর রাজ্জাক ভক্ত বনে যান। রোনালদো খেলেন না দীর্ঘদিন। এরপরেও তিনি এখনও তার ভক্ত। যে কারণে তিনি তার ষাড়টির নাম রেখেছেন রোনালদো।
আব্দুর রাজ্জাক বলেন, তার ষাঁড় বাড়িতেই জন্মগ্রহণ করেছে। ছোট থেকে ষাঁড়টিকে নিজের সন্তানের মতো লালন-পালন করেছেন। ষাঁড়টির প্রতি তার অনেক মায়া। ভালোবাসা। যে কারণে তিনি তার পছন্দের খেলোয়ারের নামেই ষাঁড়টির নাম রেখেছেন। ষাঁড়টির পরিচর্যা তিনি নিজেই করেন। খাবার দেওয়া, গোসল করানো, গোয়ালঘর পরিষ্কার তিনিই করেন।
ষাঁড়টির ওজন ২১ মণ জানিয়ে আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ষাড়টির দৈর্ঘ্য ১০ ফুট এবং উচ্চতা ৫ ফুট ৫ ইঞ্চি । ষাঁড়টিকে গম, ভুট্টা, ধান, পেয়ারা, ডার্বি, সয়াবিন, কালোজিরা, খৈল, ভূষিসহ ১০ ধরণের খাদ্য দিয়ে তৈরি মিক্সার খাবার খাওয়ানো হয়। এছাড়া, মোটাতাজা করার জন্য বাড়তি কোনো খাবার দেওয়া হয়নি। আগে প্রতিদিন ৮০০ থেকে ৯০০ টাকার খাবার খাওয়ানো হতো ষাড়টিকে। এ পর্যন্ত ষাড়টির পেছনে ৫ লাখ টাকার বেশি খরচ হয়েছে। গো-খাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় খরচ বেড়েছে। তিনি ষাড়টির দাম চান ১২ লাখ টাকা। তবে কেউ কিনতে চাইলে দামদর করতে পারবেন। তিনি বাড়ি থেকেই ষাড়টিকে বিক্রি করতে চান। তবে বিক্রি না হলে ঢাকার গাবতলী হাটে উঠাতে চান।
তিনি বলেন, খুব যত্নে গরুটি লালন-পালন করেছি। এজন্য বিক্রির কথা মনে পড়লে মনের ভেতর কেঁপে ওঠে। খুব খারাপ লাগে।
গরুটির সঙ্গে তার গভীর ভাব জানিয়ে তিনি বলেন, আমি বাড়িতে আসলে আমার কথা শুনলেই গরুটি যদি বসে থাকে তখন উঠে দাঁড়িয়ে যায়। শিং দিয়ে নাড়া দেয়।
কাঙ্খিত দামে ষাড়টি বিক্রি করতে পারলে তিনি বাড়ি করবেন এবং আরো কয়েকটি ষাড় কিনে লালন-পালন করে আগামী কোরবানির ঈদের জন্য প্রস্তুত করবেন বলে জানান।
নন্দীগ্রাম উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা কল্পনা রানী রায় বলেন, ষাড়টি ব্রাহমা ক্রস জাতের। ষাড়টিকে ন্যাচারাল খাবার খাওয়ানো হয়েছে। কোন স্টেরয়েড জাতীয় কিছু খাওয়ানো হয়নি। মোটাতাজাকরণের জন্যও কিছু ব্যবহার করা হয়নি। যে কারণে তাপপ্রবাহের মাঝেও গরুটির শারীরিক কোনো সমস্যা হয়নি। আমাদের পক্ষ থেকে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।
এনাম/ইভা