ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ১৮ এপ্রিল ২০২৪ ||  বৈশাখ ৫ ১৪৩১

রংপুর ৫ আসন: ভোটারদের বাকযুদ্ধে রাশেক-জাকির

রংপুর প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:৫১, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৩  
রংপুর ৫ আসন: ভোটারদের বাকযুদ্ধে রাশেক-জাকির

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারের পর থেকেই ভোটের আলোচনায় সরগরম হয়ে উঠেছে রংপুর-৫ আসন। এই আসনে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন সদ্য পদত্যাগ করা উপজেলা চেয়ারম্যান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী জাকির হোসেন সরকার ও আওয়ামী লীগ মনোনীত ‘নৌকা’ প্রতীকের প্রার্থী রাশেক রহমান। এই দুই প্রার্থীকে নিয়েই ভোটারদের মধ্যে চলছে বাকযুদ্ধ।

দুর্যোগ-সংকটে সহায়তা করে সর্বজনের জনপ্রিয়তায় আত্মবিশ্বাসী আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত জাকির হোসেন। জাকির সংসদ নির্বাচনে এবার লড়ছেন ‘ট্রাক’ প্রতীক নিয়ে। আর বিগত দিনে পিতা ও প্রতীকের উন্নয়নে ভর করে অনেকটা নির্ভার রাশেক। ভোটের লড়াইয়ে বিজয় ছিনিয়ে নিতে অনড় এই দুই প্রার্থীই। নির্বাচন সংশ্লিষ্টরাও বলছেন, ভোট উৎসব হবে এই আসনটিতে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৪ এর নির্বাচনে যাত্রীবাহী বাসে পেট্রোল বোমা মেরে ছয়জনকে হত্যা করে রংপুর-৫ আসনে নিজেদের শক্তির জানান দিয়েছিল জামায়েত-বিএনপি। ২০২২ সালে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আসনটির ১৭টির মধ্যে ৯টিতে জয় পেয়ে অবস্থান শক্ত করে এই জোট। এবার তাদের প্রার্থী নেই ভোট উৎসবে। ফলে ভোটে বড় একটা সংখ্যা থাকতে পারে কেন্দ্র বিমুখ হয়ে। প্রার্থীরাও এসব ভোটারদের কতটা কেন্দ্রমুখী করতে পারবেন সেটিও এখন দেখার পালা।

এদিকে, টানা তিনবার আওয়ামী লীগের দখলে থাকা আসনটিতে এবারো নৌকা পেয়েছেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ও বর্তমান সংসদ সদস্য এইচএন আশিকুর রহমানের ছেলে রাশেক রহমান। প্রতীক ও পিতার ইমেজে তিনি হেভিওয়েট হলেও আসনটিতে এবার বাগড়া দিচ্ছেন নিজ দলের সাবেক সম্পাদক, দুইবারের উপজেলা চেয়ারম্যান জাকির হোসেন। মামলার তথ্য বিভ্রান্ত বিষয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে জাকিরের মনোনয়ন বাতিল হয়েছিল। পরবর্তীতে আপিলে ফিরিয়ে দিয়েছে ইসি। এখন ভোটের মাঠে এই দুই প্রার্থীকে নিয়ে চলছে তুমুল আলোচনা।

ভোটাররা বলছেন, স্থানীয় প্রার্থী জাকির দুর্যোগ, সংকটে পাশে থেকেছেন। দিয়েছেন সহায়তা। কিন্তু তিনবারের সংসদ সদস্য আশিকুর রহমান অধিকাংশ সময় ছিলেন নির্বাচনি এলাকার বাইরে। এবার প্রার্থী তার ছেলে হওয়ায় ভোটারদের সহানুভূতির তীর অনেকটাই জাকিরের দিকে।

উপজেলার পায়রান্দ এলাকার আব্দুর রাজ্জাক নামের এক ভোটার বলেন, ‘জাকিরের মনোনয়ন বাতিল হয়েছিল। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম এবার ভোট কেন্দ্রে যাবো না। কিন্তু তিনি এখন ভোটের মাঠে। খুব ভালো লাগছে যে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবো। কারণ জাকির ২০-২৫ বছর ধরে যে কোনো বিপদে আমাদের খোঁজ খবর রেখেছেন তাই আমি চাই তিনি নির্বাচিত হোক।’

মিঠাপুকুর উপজেলা চত্বরে ময়েন মিয়া নামের এক ভোটার জানান, ‘জাকির ভালো লোক এটা মানি। কিন্তু তিনি তো শেখ হাসিনার দেওয়া নৌকা পাননি। নৌকা পেয়েছেন রাশেক রহমান। তাই আমরা ভোটের মাঠে মূলস্রোতে আছি। নৌকাকে বিজয় করলে একই গতিতে উন্নয়ন অব্যাহত থাকবে। স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর একটু বৈরী দৃষ্টি থাকবে। অতএব আমরা ভুল করবো না রাশেক রহমানকে ভোট দেবো।’

আওয়ামী লীগের প্রার্থী রাশেক রহমান বলেন, ‘গত ১৫ বছরে মিঠাপুকুরে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে। এমন কোনো মানুষ নেই যে আওয়ামী লীগের উন্নয়ন অস্বীকার করবে। গরিবদের বঙ্গবন্ধু কন্যা যতো রকমের ভাতার মাধ্যমে সুবিধা দিয়েছেন তা ইতিহাস। মিঠাপুকুরের মানুষ অকৃতজ্ঞ না যে, তারা এসব উন্নয়ন দেখেও অন্য প্রার্থীকে ভোট দেবেন। মিঠাপুকুরে ১৫ বছরের দৃশ্যমান উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় এবারও এই এলাকার মানুষ নৌকামুখী। তাই ভোটের মাঠে অনেক প্রার্থী থাকতে পারেন, কিন্তু জনগণের ভোটের স্রোতে নৌকার বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না।’

স্বতন্ত্র প্রার্থী জাকির হোসেন বলেন, ‘নানা কুটকৌশলের মধ্যেও গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ১৪৮টির কেন্দ্রের মধ্যে ১৪৬টিতে আমাকে নিরঙ্কুশ জয় এনে দিয়েছিল এই আসনের মানুষ। ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ পেলে এবারও আমার পক্ষে ভোট বিপ্লব হবে।’ নৌকার প্রার্থী এসব কেন্দ্রের নিয়োগকৃত প্রিজাইডিং ও পোলিং এজেন্ট নিয়ে ষড়যন্ত্র করতে পারেন বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।

রংপুর জেরা রিটানিং কর্মকর্তা মোবাশ্বের হাসান বলেন, জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে রংপুর-৫ আসনে ভোট জমে উঠবে। তাই গুরুত্বপূর্ণ এই আসনের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখা হচ্ছে। 

প্রসঙ্গত, রাশেক রহমান ও জাকির হোসেন ছাড়াও আসনটিতে আরও ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন- জাতীয় পার্টির আনিছুর রহমান ‘লাঙ্গল’, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মাহবুবুর রহমান ‘ডাব’, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের আব্দুল হালিম মণ্ডল ‘গামছা’, ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশ মনোনীত এনামুল হক ‘চেয়ার’, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির আব্দুল ওয়াদুদ মিয়া ‘একতারা’ এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ফ্রন্টের (বিএনএফ) আব্দুল ‘টেলিভিশন’ প্রতীক।

স্বাধীনতা পরবর্তী সংসদ নির্বাচনে রংপুর-৫ আসনে দুই বার বিএনপি, তিনবার জাতীয় পার্টি ও ৬ বার আওয়ামী লীগ জয় পেয়েছে। আসনটিতে মোট ভোটার ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৩৪৭ জন।

আমিরুল/মাসুদ

ঘটনাপ্রবাহ

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়