ঢাকা     শনিবার   ১৩ এপ্রিল ২০২৪ ||  চৈত্র ৩০ ১৪৩০

কিশোরগঞ্জ-২ 

আখতারুজ্জামানের পাশে এমপি নূর মোহাম্মদ

রুমন চক্রবর্তী, কিশোরগঞ্জ  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:৪৫, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৩  
আখতারুজ্জামানের পাশে এমপি নূর মোহাম্মদ

এমপি নূর মোহাম্মদ, আ.লীগ প্রার্থী আবদুল কাহার আকন্দ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আখতারুজ্জামান রঞ্জন

বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা কিশোরগঞ্জ-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত মেজর মো. আখতারুজ্জামান রঞ্জনকে সমর্থন দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ও পুলিশের সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদ। তিনি রীতিমত ঘোষণা দিয়ে এই স্বতন্ত্র প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছেন। একই সঙ্গে নিজের অনুসারীদের নিয়ে আখতারুজ্জামানের পক্ষে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। বিএনপির সাবেক নেতা আখতারুজ্জামানকে বর্তমান এমপির সমর্থনের বিষয়টি নিয়ে এলাকায় এখন আলোচনা তুঙ্গে।

এদিকে, হঠাৎ ঘটে যাওয়া এই মেরুকরণে ভোটের মাঠে হাওয়া বদলে যেতে শুরু করেছে। কারণ সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদ দলীয় মনোনয়ন না পেলেও ভোটারদের মধ্যে তার যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবার (২৬ ডিসেম্বর) দুপুরে সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদের সঙ্গে কথা হলে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী আখতারুজ্জামানকে সমর্থনের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘এবারের নির্বাচনে কাউকে সমর্থনের ব্যাপারে দলীয় কোনো বিধিনিষেধ নেই। তাছাড়া তিনি (আখতারুজ্জামান) সাহসী মানুষ। এলাকার উন্নয়ন ও জনকল্যাণের স্বার্থে তাকে সমর্থন দেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের অন্য দুজন প্রার্থীকে আমার একদম পছন্দ হয় না। এ কারণে আমার নিজেরসহ সামগ্রিক স্বার্থে আখতারুজ্জামানের পক্ষ নিয়েছি।’

তবে আওয়ামী লীগ প্রার্থী পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল কাহার আকন্দের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এ সমর্থন নির্বাচনি মাঠে তেমন প্রভাব ফেলবে না।

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বলছেন, এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী রঞ্জনকে নিয়ে নেপথ্যে নানা ধরণের তৎপরতা চলছে। যা বর্তমান এমপি নূর মোহাম্মদের সমর্থনের মধ্য দিয়ে আরো প্রকাশ্যে এলো। এসব তৎপরতা আওয়ামী লীগ প্রার্থীর দুশ্চিন্তার কারণ হতে পারে। 

কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী ও পাকুন্দিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত কিশোরগঞ্জ-২ আসন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদীয় এই আসনে ৬ জন প্রার্থী নির্বাচন করছেন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগ মনোনীত আবদুল কাহার আকন্দ (নৌকা), স্বতন্ত্র প্রার্থী ও আওয়ামী লীগ নেতা  মো. সোহরাব উদ্দিন (ঈগল), সাবেক বিএনপি নেতা ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আখতারুজ্জামান (ট্রাক), ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এপিপি) আলেয়া (আম), গণফ্রন্টের মীর আবু তৈয়ব মো. রেজাউল করিম (মাছ) ও বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টির মো. বিল্লাল হোসেন (টেলিভিশন)।

এলাকা ঘুরে আওয়ামী লীগ ও দুই স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রচার প্রচারণা চোখে পড়লেও অন্য তিন প্রার্থীর কোনো তৎপরতা চোখে পড়েনি। দুই উপজেলায় তাদের একটি পোস্টারও দেখা যায়নি।

এদিকে, দিনরাত এক করে প্রচার চালাচ্ছেন আওয়ামী লীগর স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক এমপি এবং পাকুন্দিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সোহরাব উদ্দিন। তার প্রতীক ঈগল। তিনি অভিযোগ করেন, ‘এটা মেরুকরণ নয়, ষড়যন্ত্র। বিএনপির সাবেক নেতাকে নির্বাচিত করতে নানা ধরণের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে কয়েকটি পক্ষ। এতে ব্যক্তি থেকে শুরু করে প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত জড়িত। একইসঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীদের বিভ্রান্ত করতে নানা ধরণের গুজব ছড়ানো হচ্ছে। এসব কারণে দ্বিধা দ্বন্দ্বে ভুগছেন দলের লোকজন।’

সবমিলিয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আবদুল কাহার আকন্দ শিবির খানিকটা বেকায়দায় রয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ প্রার্থী আবদুল কাহার আকন্দ নিজেও নির্বাচন নিয়ে নানা গুজব রটানোর অভিযোগ করে বলেন, ‘সব বিভ্রান্তি দূর হয়ে যাবে। এসব গুজবও ভিত্তিহীন। দিন শেষে নির্বাচনে আমরাই জয়ী হবো।’

স্বতন্ত্র প্রার্থী আখতারুজ্জামান বেশ ফুরফুরে মেজাজে প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন। তিনি ‘ট্রাক’ প্রতীক নিয়ে ভোটারদের কাছে ভোট চাইছেন। প্রচারে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তিও দাবি করছেন তিনি। 

আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে নিজের কর্মী সমর্থকদের ভয়-ভীতি দেখানোর অভিযোগ তুলে আখতারুজ্জামান বলেন, ‘আমাকে ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। লোকজন যদি ভোট দিতে পারে আর নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে আমি জয়ী হব।’  

তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যসহ অনেক বড় বড় নেতা ও জনপ্রতিনিধি আমাকে সমর্থন দিচ্ছেন। এ কারণে আমি জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।’ 

কিশোরগঞ্জ-২ আসেন মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৮০৪জন। এরমধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭৪ জন। আর নারী ভোটারের রয়েছেন ২ লাখ ৪৫ হাজার ৮২৫ জন।

মাসুদ

ঘটনাপ্রবাহ

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়