ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ১৮ এপ্রিল ২০২৪ ||  বৈশাখ ৫ ১৪৩১

কুষ্টিয়া-৩: স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীকে মারধরের অভিযোগ

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:১৪, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৩  
কুষ্টিয়া-৩: স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীকে মারধরের অভিযোগ

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী পারভেজ আনোয়ার তনুর ‘ঈগল’ প্রতীকের কর্মীকে মারধর করা হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় বুলবুল আহম্মেদ সাগরকে (২৪) কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি ঝাউদিয়া ইউনিয়নের মন্ডলপাড়া গ্রামের মৃত রইচ উদ্দিনের ছেলে। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থীর ঈগল প্রতীকের ক্যাম্প পরিচালনার দায়িত্বে আছেন।

মঙ্গলবার (২৬ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ঝাউদিয়া ইউনিয়নের ঝাউদিয়া বাজারে তাকে মারধর করা হয়। এ আসনে নৌকার প্রার্থী আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ। 

সোমবার (২৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় কুষ্টিয়া পৌরসভার ২১নং ওয়ার্ডে স্বতন্ত্র প্রার্থী ঈগল প্রতীকের নির্বাচনি ক্যাম্প ভেঙে সেখানে নৌকার ক্যাম্প স্থাপন করার অভিযোগ উঠেছে ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সোহেল রানা আশার বিরুদ্ধে।

এ সব ঘটনায় কুষ্টিয়া পৌরসভার আড়ুয়াপাড়ার মনির উদ্দিনের ছেলে মো. শামীম শেখ বাদী হয়ে নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটির চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার ঝাউদিয়া ইউনিয়ন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক সাগর ইজিবাইকে নির্বাচনি প্রচারণা চালানোর জন্য ঝাউদিয়া বাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে যায়। সেখানে অটো থামিয়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি কেরামত আলী বিশ্বাস, বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান মুন্সি মেহেদী হাসান, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী ফারুকুজ্জামানসহ ১০ থেকে ১২ জন দলীয় ক্যাডার তাকে ধরে নিয়ে মারধর করে।

আহত বুলবুল আহম্মেদ সাগর বলেন, ‘প্রথমে তারা এসে অটোর চাবি কেড়ে নেই। এই সময় একটি মাইক্রোবাসে আমাকে জোর করে তুলে নেই। আমি গাড়ির ভেতরে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি কেরামত আলী বিশ্বাস, বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী ফারুকুজ্জামানকে দেখতে পাই। গাড়ির ভেতরে মারতে মারতে আমাকে পাশের গ্রামের বৈদ্যনাথপুর শ্মশানে নিয়ে যায়। সেখানেও আমাকে বাটাম দিয়ে মারধর করে। এ সময় ইউপি চেয়ারম্যান মেহেদী এ কথা কাউকে বললে হত্যার হুমকি দেন।’ 

রাশেদ নামে স্বতন্ত্র প্রার্থীর আরেক কর্মী বলেন, ‘ঘটনার পর স্থানীয় ক্যাম্প পুলিশকে জানালেও তারা ব্যবস্থা নেয়নি। উল্টো ভাবটা এমন যে আমাদের ধরে নিয়ে যাবে।’  তবে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী ফারুকউজ্জামান অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন রহমান বলেন, স্থানীয় সাবেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান চাচাত ভাই স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রচারণায় ছিলেন। তাই তাকে নিষেধ করেন। তাছাড়া হামলা করেনি।’ হাসপাতালে একজন ভর্তি রয়েছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখনও কেউ অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী পারভেজ আনোয়ার তনু বলেন, ‘আপনারা খোঁজ নিয়ে দেখেন নৌকা প্রতীকের কর্মী-সমর্থকরা নির্বাচনি আচরণবিধি মানছেন না। উল্টো আমাদের নির্বাচনি অফিস ভাঙচুর করছে এবং আমাদের কর্মীর উপর হামলা করছে। লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আমরা এই সমস্ত অনিয়মের প্রতিকার চাই।’ 

এ বিষয়ে জানতে নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটির চেয়ারম্যান মুহাম্মদ মাজহারুল ইসলামের মুঠোফোনে ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
 

কাঞ্চন/বকুল

সম্পর্কিত বিষয়:

ঘটনাপ্রবাহ

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়