ঢাকা     বুধবার   ২৪ এপ্রিল ২০২৪ ||  বৈশাখ ১১ ১৪৩১

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ 

হেভিওয়েট স্বতন্ত্র প্রার্থীতে বেকায়দায় আওয়ামী লীগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:২৬, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩   আপডেট: ১৮:৩৩, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩
হেভিওয়েট স্বতন্ত্র প্রার্থীতে বেকায়দায় আওয়ামী লীগ

বদরুদ্দোজা মো. ফরহাদ হোসেন সংগ্রাম, একে একরামুজ্জামান ও মুহাম্মদ শাহানুল করিম

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা বদরুদ্দোজা মো. ফরহাদ হোসেন সংগ্রাম। আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত এই আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলেন আরও ৪ প্রার্থী। এদের মধ্যে রয়েছেন— বিএনপি চেয়ারপারসনের বহিষ্কৃত উপদেষ্টা ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আলহাজ সৈয়দ একে একরামুজ্জামান ‘কলার ছড়ি’, জাতীয় পার্টির মুহাম্মদ শাহানুল করিম ‘লাঙল’, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মো. ইসলাম উদ্দিন ‘মোমবাতি’ ও ওয়ার্কার্স পার্টির মোহাম্মদ বকুল হোসেন ‘হাতুড়ি’। 

কাগজে-কলমে ৫ জন প্রার্থী থাকলেও ইতোমধ্যে জাতীয় পার্টির মুহাম্মদ শাহানুল করিম ঘোষণা দিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী আলহাজ একে একরামুজ্জামানের ‘কলার ছড়ি’ প্রতীকের সমর্থনে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মো. ইসলাম উদ্দিন ও ওয়ার্কার্স পার্টির মোহাম্মদ বকুল হোসেনের তেমন প্রচার-প্রচারণা নেই। নির্বাচনি মাঠে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদরুদ্দোজা মো. ফরহাদ হোসেন সংগ্রাম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আলহাজ সৈয়দ একে একরামুজ্জামান ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনটি ১৯৯৬ সালের পর থেকে আওয়ামী লীগের দখলে। ২০০১ সালের নির্বাচনে চট্টগ্রাম বিভাগে আওয়ামী লীগের বিপর্যয়ের সময়ও দলটির বর্ষিয়ান নেতা এবং প্রয়াত সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী ছায়েদুল হক এই আসন থেকে বিজয়ী হয়েছিলেন। ছায়েদুল হক ১৯৯৬ সাল থেকে টানা ৪ বারসহ মোট ৫ বার এই আসন থেকে জয়ী হয়েছিলেন। ২০১৭ সালের ১৬ ডিসেম্বর ছায়েদুল হক মৃত্যুবরণ করেন। ২০১৮ সালের ১৩ মার্চ অনুষ্ঠিত উপ-নির্বাচনে বদরুদ্দোজা মো. ফরহাদ হোসেন সংগ্রাম আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে এই আসনে প্রথমবারের মতো বিজয়ী হন। পরবর্তীতে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও সংগ্রাম বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী ও বিএনপির চেয়ারপারসনের তৎকালীন উপদেষ্টা সৈয়দ একে একরামুজ্জানকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও আবার মুখোমুখি হয়েছেন এই দুই প্রার্থী। 

এবারের নির্বাচনি মাঠে বদরুদ্দোজা মো. ফরহাদ হোসেন সংগ্রাম অনেকটা চাপে আছেন। দলীয় অনেক নেতাকর্মীই তার পক্ষে নেই। আওয়ামী লীগের এই বিভক্তির কারণে নির্বাচনে সুবিধা পাচ্ছেন আলহাজ সৈয়দ একে একরামুজ্জামান।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নবঞ্চিত হন তিন নেতা— কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের অর্থ সম্পাদক আলহাজ নাজির মিয়া, তার স্ত্রী ও নাসিরনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রোমা আক্তার এবং নাসিরনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এটিএম মনিরুজ্জামান সরকার। তারা প্রকাশ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী আলহাজ সৈয়দ একে একরামুজ্জামানের কলার ছড়ির পক্ষে মাঠে কাজ করছেন। এ ছাড়াও, নির্বাচন থেকে সড়ে দাঁড়ানো জাতীয় পার্টির নেতা মুহাম্মদ শাহানুল করিমও কলার ছড়ির পক্ষে মাঠে কাজ করছেন। 

এদিকে, আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদরুদ্দোজা মো. ফরহাদ হোসেন সংগ্রাম স্থানীয় এক সাংবাদিককে ও একজন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়ায় নির্বাচনি মাঠে ব্যাপক সমালোচিত হয়েছেন। নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে গত ২৪ ডিসেম্বর নির্বাচন অনুসন্ধান কমিটি তাকে শোকজ করে। পরদিন ২৫ ডিসেম্বর তিনি সশরীরে অনুসন্ধান কমিটির কাছে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দেন। সব মিলিয়ে নির্বাচনি মাঠে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বদরুদ্দোজা মো. ফরহাদ হোসেন সংগ্রাম অনেকটা বেকায়দায় আছেন। এবারের নির্বাচনে আসনটি আওয়ামী লীগের হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ কৃষক লীগের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ মো.  নাজির মিয়া বলেন, ফরহাদ হোসেন ক্ষমতায় থেকে তাদের ওপর, দলের নেতাকর্মীদের ওপর অনেক অত্যাচার-অবিচার করেছেন। এজন্য তারা নাসিরনগরবাসীকে নিরাপদে রাখতে এবার স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন।

তবে, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বদরুদ্দোজা মো. ফরহাদ হোসেন সংগ্রাম সাংবাদিকদের জানান, তিনি নির্বাচনি এলাকায় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড করেছেন। নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী তিনি।

স্বতন্ত্র প্রার্থী আলহাজ সৈয়দ একে একরামুজ্জামান বলেন, নির্বাচনি মাঠে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। জনগণ পরিবর্তন চায়। এক ব্যক্তির কারাগার থেকে মুক্তি চায়। 

তিনি আরও বলেন, আগে দলীয় প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছি। বর্তমানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করায় আমার সঙ্গে  আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা আছেন। আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন বঞ্চিত তিন প্রার্থী আমার জন্য কাজ করছেন। ইতোমধ্যেই জাতীয় পার্টির প্রার্থী শাহানুল করিমও আমাকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সড়ে দাড়িয়েছেন। সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল সাড়া পাচ্ছি। বর্তমান পরিবেশ যদি বজায় থাকে, তাহলে আমি জয়ের ব্যাপারে শতভাগ নিশ্চিত।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১-(নাসিরনগর) হাওর বেষ্টিত এই আসনটি আওয়ামী লীগের  ভোট ব্যাংক হিসেবে পরিচিত। ১৩টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই আসনের ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৫২ হাজার ৫৪৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৩৩ হাজার  ১০৯জন। নারী ভোটার রয়েছেন ১ লাখ ১৯ হাজার ৪৩৬ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ২ জন।

মাইনুদ্দিন/মাসুদ

ঘটনাপ্রবাহ

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়