ঢাকা     শনিবার   ১৩ এপ্রিল ২০২৪ ||  চৈত্র ৩০ ১৪৩০

গোপালগঞ্জ-১ আসন

ভোট কারচুপির অভিযোগে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ফলাফল প্রত্যাখ্যান

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২০:৫৯, ৮ জানুয়ারি ২০২৪  
ভোট কারচুপির অভিযোগে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ফলাফল প্রত্যাখ্যান

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জ-১ আসনে (মুকসুদপুর-কাশিয়ানী) ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে নির্বাচনি ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. কাবির মিয়া।

সোমবার (৮ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৫টায় মুকসুদপুর উপজেলার কমলাপুর গ্রামের নিজ নির্বাচনি কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। এসময় তিনি ভোটারদের আঙুলের ছাপ পরীক্ষা ও ভোট পুনঃগণনার জন্য নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এরপর মুকসুদপুর উপজেলার মুকসুদপুর-বরইতলা সড়কে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকরা।

সংবাদ সম্মেলনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. কাবির মিয়া বলেন, তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আওয়ামী লীগের মুহাম্মদ ফারুক খানের কর্মী সমর্থকরা কেন্দ্র থেকে তার এজেন্টদের বের করে দেয়। এরপর তারা ওই সব ভোটকেন্দ্রের মধ্যে অবস্থান করে জাল ভোট দেয়। তাৎক্ষণিকভাবে এ ব্যাপারে প্রশাসন ও নির্বাচনের সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানানো হলেও তেমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বরং জাল ভোটারদের আটকের পর আবার তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার পরও জনগণ আমাকে মুকসুদপুরের উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত করেছিল। নির্বাচনি এলাকার জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী এবারো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমি অংশগ্রহণ করি। আমার জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর লোকজন এসব অনিয়ম ও কারচুপির আশ্রয় নিয়েছে।

স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. কাবির মিয়া আরও বলেন, কেন্দ্র থেকে তার এজেন্টদের বের করে দেওয়ার ফলে প্রিজাইডিং অফিসারদের কাছ থেকে তারা ফলাফলের তালিকা সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হয়। নির্বাচনে পরিকল্পিতভাবে সূক্ষ্ম কারচুপি করা হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। এছাড়াও মুহাম্মদ ফারুক খানের লোকজন বিভিন্ন স্থানে তার কর্মী সমর্থকদের উপর হামলা, বাড়িঘর ও দোকানপাট ভাঙচুর করেছে। এই পরিস্থিতিতে এলাকার পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্বাসে আমি উপজেলা চেয়ারম্যান পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। সাধারণ মানুষ আমার পক্ষে থাকায় নির্বাচনে আমি জয়লাভ করবো। কিন্তু আমার প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ প্রার্থী মুহাম্মদ ফারুক খান পেশী শক্তি ও টাকার বিনিময়ে প্রভাব বিস্তার করেছেন।

এদিকে, গোপালগঞ্জ-১ আসনের ভোট কারচুপি ও নির্বাচনি ফলাফল বাতিল করে ভোট পুনঃগ্রহণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. কাবির মিয়ার সমর্থকেরা। কমলাপুর এলাকার মুকসুদপুর-বড়ইতলা সড়কের উপর দাঁড়িয়ে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন করে তারা।

প্রসঙ্গত, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জ-১ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মুহাম্মদ ফারুক খান ১ লাখ ১৮ হাজার ৭৫৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। আর তিনি পান ১ লাখ ৮ হাজার ৯৩৪ ভোট।

বাদল/ফয়সাল

ঘটনাপ্রবাহ

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়